মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ফারয (ফরয) সালাত শেষে লোকেরা উচ্চস্বরে তাকবীর বা অন্য কোন যিকর পাঠ করত*। আবূ মা'বাদ বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস আরো বলেছেনঃ ঐ উচ্চৈঃস্বর শুনেই আমি সালাত শেষ হওয়ার কথা বুঝতে পারতাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1319 — Sahih Muslim 5:157
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا وَقَالَ، حَرْمَلَةُ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي امْرَأَةٌ مِنَ الْيَهُودِ وَهْىَ تَقُولُ هَلْ شَعَرْتِ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ فَارْتَاعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " إِنَّمَا تُفْتَنُ يَهُودُ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَبِثْنَا لَيَالِيَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ شَعَرْتِ أَنَّهُ أُوحِيَ إِلَىَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدُ يَسْتَعِيذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ .
হারূন ইবনু সাঈদ ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে থেকে আমার কাছে আসলেন। তখন আমার কাছে একজন ইয়াহুদ মহিলা উপস্থিত ছিল। সে আমাকে বলছিলঃ তুমি কি জান কবরে তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে? আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়াহুদ মহিলার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তিনি অবশ্য বললেনঃ পরীক্ষা বা ‘আযাব তো হবে ইয়াহুদদের। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা এভাবে কয়েক রাত কাটালাম। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি জান আমার কাছে এ মর্মে ওয়াহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে কবরে পরীক্ষা করা হবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন এর পরবর্তীকালে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারপর থেকে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার দু’জন বৃদ্ধ ইয়াহুদিনী আমার কাছে আসলো। তারা বললঃ কবরে মানুষকে 'আযাব দেয়া হয়ে থাকে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তাদের কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলাম। তাদের কথা সত্য বলে বিশ্বাস করা আমার ভাল লাগল না। পরে তারা চলে গেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলে আমি তাকে বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! মদীনার দু’জন বৃদ্ধ ইয়াহুদিনী আমার কাছে এসেছিলেন। তারা বলল, কবরে মানুষকে আযাব দেয়া হয়। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা সত্য কথাই বলেছে। কেননা কবরে মানুষকে এমন আযাব দেয়া হয় যা চতুষ্পদ জীব-জন্তু পর্যন্ত শুনতে পায়। এ কথা বলে আয়িশাহ বললেনঃ এরপর আমি সব সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে দেখেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
হান্নাদ ইবনুস্ সারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই সালাত আদায় করেছেন তখনই তাকে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ ও যুহারর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাতে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে শুনেছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১১৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী, ইবনু নুমায়র, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কেউ যখন (সালাতে) তাশাহহুদ পড় তখন চারটি জিনিস থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করবে। এ বলে দুআ করবেঃ “আল্লহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম ওয়ামিন আযা-বিল কবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল”– (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি )। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু ইসহাক (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে এ বলে দু'আ করতেনঃ “আল্ল-হুম্মাইন্নী আউযুবিকা মিন ‘আযাবিল কবরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামা-তি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল মা'সামি ওয়াল মাগরম” – (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে গুনাহ ও ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।)। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল- হে আল্লাহর রসূল! আপনি ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে এত আশ্রয় প্রার্থনা করেন কেন? (এ কথা শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কেউ যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন কথা বললে মিথ্যা বলে এবং প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০১, ইসলামীক সেন্টার)
হাকাম ইবনু মূসা, আলী ইবনু খশরাম (রহঃ) ..... আওযাঈ (রহঃ) থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, "তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পাঠ করবে"। তারা 'আ-খির বা শেষ তাশাহহুদ’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৩, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বিল কবরি ওয়া আযা-বিন না-রি ওয়া ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-তি ওয়া শাররিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল" (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২০৪, ইসলামীক সেন্টার)