ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মুগীরাহ বিন শুবাহ মু'আবিয়াহ (রাযিঃ)-কে লিখে পাঠান যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন– "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ" (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীক বিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও আহমাদ ইবনু সিনান (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বাকর ও আবূ কুরায়ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ দু'আটি আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর তা আমি মু'আবিয়াকে লিখে পাঠিয়েছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (আমীর) মুআবিয়ার কাছে ওয়াররাদকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতে শুনেছি ... তবে এ বর্ণনায়ঃ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ বাক্যটির উল্লেখ নেই, কেননা তিনি তা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৬, ইসলামীক সেন্টার)
হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, (আমীর) মু'আবিয়াহ মুগীরাহ এর কাছে লিখেছিলেন। ... এরপর তিনি মানসুর ও আ'মাশ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... আব্দাহ ইবনু আবূ লুবাবাহ ও আবদুল মালিক ইবনু উমায়র (উভয়ে) মুগীরাহ ইবনু শুবাহ এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদকে বলতে শুনেছেন যে, (আমীর) মু'আবিয়াহ মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) এর কাছে পত্র লিখলেনঃ তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছ এমন কিছু লিখে পাঠাও। ওয়াররাদ বর্ণনা করেনঃ এ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মুগীরাহ ইবনু শুবাহ তাকে লিখে জানালেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি সালাত শেষে (এ দু'আটি) বলতেন, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লামা-নি’আ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা- মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শরীকবিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবুয যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, লা-হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- না'বুদু ইল্লা- ঈয়্যা-হু লাহুন নি'মাতু ওয়ালাহুল ফাযলু ওয়ালাহুস্ সানা-উল হাসানু লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা ওয়ালাও কারিহাল কাফিরূন” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও শরীকবিহীন। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন আশ্রয় এবং শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।)। আর তিনি (ইবনুয যুবায়র) বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... উরওয়াহ তাদের আযাদকৃত দাস আবূয যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের শেষে ইবনু নুমায়র-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ তাহলীল (অর্থাৎ- “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ" আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই) বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। হাদীসটির শেষে তিনি এভাবে বলেছেন, অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনুয যুবারর বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাগুলো বলে প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পর তাহলীল বা আল্লাহর প্রশংসা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২০, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আবুয যুবায়র (রহ:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়রকে এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুতবাহ দিতে শুনেছি যে, সালাতের শেষে সালাম ফিরিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন .....। অতঃপর তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ আল মুরাদী (রহঃ) ..... আবুয যুবায়র আল মাক্কী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ঘুবায়র (রাযিঃ)-কে প্রতি ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতে শুনেছেন হিশাম ও হাজ্জাজ বর্ণিত পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত দু'আর অনুরূপ দু'আ করতেন। অবশ্য এ হাদীসের শেষে তিনি এ কথা বলেছেনঃ বিষয়টি 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২২, ইসলামীক সেন্টার)
আসিম ইবনু নায্র আত তায়মী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুতায়বাহও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেছেনঃ একদিন গরীব মুহাজিরগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বললেন, সম্পদশালী লোকেরা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী নি’আমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিভাবে? তারা বললেনঃ আমরা সালাত আদায় করি তারাও সালাত আদায় করে। আমরা সিয়াম পালন করি তারাও সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা দান করে আমরা দান করতে পারি না। আর তারা দাস মুক্ত করে আমরা দাস মুক্ত করতে পারি না। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব না যা করলে তোমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর লোকদের সমকক্ষ হতে পারবে? আর যারা তোমাদের পিছনে পড়ে আছে তাদের পিছনে রেখে এগিয়ে যেতে পারবে? আর তোমাদের মতো কাজ না করে কেউ তোমাদের মতো উত্তম হতে পারবে না। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! তা অবশ্যই বলবেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রত্যেক সালাতের পর তোমরা তেত্রিশবার করে তাসবীহ (সুবহানা-ল্ল-হ), তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লা-হ) বলবে। আবূ সালিহ বর্ণনা করেছেন এরপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেনঃ আমরা যা করেছি আমাদের সম্পদশালী ভাইয়েরা তা জেনে ফেলেছে। সুতরাং এখন তারাও এ কাজ করতে শুরু করেছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ তো আল্লাহর মেহেরবানী। যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। কুতায়বাহ ছাড়া আর যারা এ হাদীসটি লায়স ও ইবনু আজলান এর মাধ্যমে সুমাই থেকে বর্ণনা করেছেন তারা এতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, সুমাই (হাদীসটির এক পর্যায়ের বর্ণনাকারী) বলেছেনঃ আমি ভুলে গিয়েছি হাদীসটি বরং এভাবে বলা হয়েছেঃ তেত্রিশবার তাসবীহ বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার হামদ করবে আর তেত্রিশবার তাকবীর বলবে। সুতরাং (এ কথা শুনে) আমি আবূ সালিহ্-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়টি বললে, তিনি আমার হাত ধরে বললেনঃ বরং তুমি বলবে "আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হি আল্ল-হু আকবার ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদুলিল্লা-হ” (অর্থাৎ- আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তার। আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তার )। এভাবে সবগুলো মোট তেত্রিশবার বলবে। ইবনু আজলান বলেছেনঃ আমি রাজা ইবনু হায়ওয়াহ এর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনিও আমাকে আবূ সালিহ ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে শোনালেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২২৩, ইসলামীক সেন্টার)