আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইয়ালা ইবনু উমাইয়াহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তাবুকের যুদ্ধ করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ইয়া'লা বলতেন, ঐ যুদ্ধ আমার নিকট একটি নির্ভরযোগ্য (পুণ্যের) কাজ ছিল। আতা (রহঃ) ..... সাফওয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, ইয়া'লা (রাযিঃ) বলেছেন, আমার একজন শ্রমিক ছিল সে এবং অপর এক ব্যক্তি পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হল। এতে একজন অপরজনের হাতে কামড় বসিয়ে দিল। বর্ণনাকারী বলেন, সাফওয়ান (রাযিঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন তাদের দু'জনের মধ্যে কে অন্যের হাতে কামড় দিয়েছিল। যে ব্যক্তির হাতে কামড় দিয়েছিল সে ব্যক্তি কামড় দাতার মুখ থেকে তার হাত সজোরে টেনে নিল। এতে তার সম্মুখের দু'টি দাঁতের একটি দাঁত পড়ে গেল। তখন উভয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে অভিযোগ পেশ করল, তখন তিনি দাঁত পড়ে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৫, ইসলামিক সেন্টার)
আমর ইবনু যুররাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4374 — Sahih Muslim 28:33
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أُخْتَ الرُّبَيِّعِ أُمَّ حَارِثَةَ، جَرَحَتْ إِنْسَانًا فَاخْتَصَمُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْقِصَاصَ الْقِصَاصَ " . فَقَالَتْ أُمُّ الرَّبِيعِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُقْتَصُّ مِنْ فُلاَنَةَ وَاللَّهِ لاَ يُقْتَصُّ مِنْهَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سُبْحَانَ اللَّهِ يَا أُمَّ الرَّبِيعِ الْقِصَاصُ كِتَابُ اللَّهِ " . قَالَتْ لاَ وَاللَّهِ لاَ يُقْتَصُّ مِنْهَا أَبَدًا . قَالَ فَمَا زَالَتْ حَتَّى قَبِلُوا الدِّيَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ " .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাবী' (রাযিঃ) এর ভগ্নি হারিসার মাতা এক ব্যক্তিকে আহত করল। এ ব্যাপারে তারা (তার আত্মীয়রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অভিযোগ আনলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল কিসাস আল কিসাস (বদলা) অর্থাৎ- এতে কিসাস আরোপিত হবে। তখন উম্মু রাবী' বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অমুকের (উম্মু হারিসার) নিকট হতে কি কিসাস নেয়া হবে? আল্লাহর কসম! তাঁর নিকট হতে কিসাস না নেয়া হোক। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! (অর্থাৎ- তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন) হে উম্মু রাবী'! কিসাস নেয়া তো আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ। তিনি বললেন, জী না। আল্লাহর শপথ নিয়ে আরয করছি, তার নিকট হতে কখনও কিসাস (বদলা) না নেয়া হোক। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বারবার এ কথা বলছিলেন। পরিশেষে আহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ (দিয়াত) ক্ষতিপূরণ নিতে সম্মত হল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে এমনও লোক আছে, যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে কোন কথা বলে তখন আল্লাহ তা'আলা তা সত্যে পরিণত করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। কিন্তু তিনটি কাজের যে কোন একটি করলে (তা বৈধ)। ১. বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে; ২. জীবনের বিনিময়ে জীবন, অর্থাৎ কাউকে হত্যা করলে; ৩. এবং স্বীয় ধর্ম পরিত্যাগকারী, যে (মুসলিমদের) দল থেকে বিচ্ছিন্ন (মুরতাদ) হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২২৮, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু হাম্বাল ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা'বূদ নেই; এমন কোন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয় যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মা'বূদ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। কিন্তু তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত- ১. যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল পরিত্যাগকারী হয়। আহমাদ (রহঃ) الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ অথবা الْجَمَاعَةَ শব্দ বর্ণনায় সন্দেহ করেছেন; ২ বিবাহিত ব্যভিচারী এবং ৩. জীবনের বিনিময়ে জীবন। অর্থাৎ- কিসাস গ্রহণ। আ'মাশ (রহঃ) বলেন যে, আমি ইবরাহীমের নিকট হাদীসটি বর্ণনা করলাম, তিনিও আসওয়াদ (রহঃ) এর সূত্রে আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩০, ইসলামিক সেন্টার)
হাজ্জাজ ইবনু শাইর ও কাসিম ইবনু যাকারিয়া (রহঃ) হতে উভয় সানাদে সুফইয়ান (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণিত হাদীসে (সেই সত্তার কসম যিনি ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই) এ কথার উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি অত্যাচারিত হয়ে খুন হয়, তবে সে খুনের একাংশ (পপি) আদম (আঃ) এর প্রথম পুত্র (কাবিল) এর উপর বর্তায়। কেননা সে সর্বপ্রথম খুনের প্রথা প্রচলন করেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩২. ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ...... আ'মাশ (রহঃ) হতে উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে জারীর এবং ইসহাক (রহঃ) এর হাদীসে لأَنَّهُ سَنَّ الْقَتْلَ (কেননা সে খুনের প্রথা প্রচলন করেছে) এ কথার উল্লেখ আছে। কিন্তু أَوَّلَ (প্রথম) কথাটির উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম খুনের বিচার করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪২৩৪, ইসলামিক সেন্টার)