আবূ রাবী' আতাকী ও আবূ কামিল জাহদারী ও ফুযায়ল বিন হুসায়ন (রহঃ) ... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইমান (আঃ) এর ষাটজন স্ত্রী ছিল। একদা তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে সকল স্ত্রীর কাছেই গমন করবো। অর্থাৎ মিলিত হব। এতে প্রত্যেকেই গর্ভবতী হবে এবং প্রত্যকেই এমন সব সন্তান প্রসব করবে যারা (ভবিষ্যতে) আল্লাহর পথে অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে লড়াই করবে। কিন্তু পরিশেষে একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউই গর্ভবতী হননি। এরপর তিনি অর্ধ মানবাকৃতির (নিষ্কর্ম) একটি সন্তান প্রসব করলেন। এ প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তিনি তখন ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করতেন, যারা প্রত্যেকেই অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে আল্লাহর পথে লড়াই করতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা আল্লাহর নবী সুলাইমান ইবনু দাউদ (আঃ) বলেছিলেন, অবশ্যই আমি আজ রাতে সত্তরজন স্ত্রীর প্রত্যেকের কাছে যাব। এতে তাদের প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করবে যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। তখন তার কোন সাথী অথবা ফেরেশতা তাকে বললেন যে, আপনি ইনশা আল্লাহ' বলুন। কিন্তু তিনি ভুলে যাওয়ার কারণে তা বলেননি। অতএব, তার স্ত্রীদের মধ্য হতে একজন ছাড়া আর কেউ সন্তান প্রসব করেননি। আর সে স্ত্রী যে সন্তানটি প্রসব করলেন, তাও আবার অপূর্ণাঙ্গ ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি তিনি ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে তিনি শপথ প্রত্যাহারকারী হতেন না। আর তিনি তখন স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনে সফলকাম হতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৪০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4287 — Sahih Muslim 27:34
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ .
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৪১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনু দাউদ (আঃ) একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে সত্তরজন স্ত্রীর কাছে যাব। এতে তাদের প্রত্যকেই এমন সব সন্তান জন্ম দেবে যারা আল্লাহর পথে লড়াই করবে। তখন তাকে বলা হলো যে, আপনি ইনশা আল্লাহ' বলুন। কিন্তু তিনি (ভুলক্রমে) তা বলেননি। অতঃপর তিনি সকল স্ত্রীর কাছে গমন করলেন। তাতে কোন স্ত্রী গর্ভবতী হলেন না, একজন স্ত্রীর একটি অর্ধ মানবাকৃতির (অপূর্ণাঙ্গ) সন্তান প্রসব করা ব্যতীত। রাবী বলেন যে, এ প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তিনি তখন ইনশা-আল্লাহ' বলতেন, তবে তিনি শপথ ভঙ্গকারী হতেন না। আর উদ্দেশ্য পূরণে তিনি সফলতা পেতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৪২, ইসলামিক সেন্টার)
যুহাইর ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুলাইমান ইবনু দাউদ (আঃ) বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে নব্বইজন স্ত্রীর প্রত্যেকের কাছেই গমন করবো। এতে তারা এমন যোগ্য সন্তান প্রসব করবে যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তখন তার কোন সাথী তাকে বললেন, আপনি ইনশাআল্লাহ বলুন। কিন্তু তিনি ইনশাআল্লাহ' বলেননি। এরপর তিনি সকল স্ত্রীর সঙ্গেই সহবাস করলেন। কিন্তু মাত্র একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কোন স্ত্রী গর্ভবতী হলেন না। তিনি যে সস্তানটি প্রসব করলেন- তাও ছিল অপূর্ণাঙ্গ! সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন, যদি তিনি তখন ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে তারা সকলেই (স্ত্রীদের জন্ম দেয়া সন্তান) আশ্বারোহী সৈনিক হয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৪৩, ইসলামিক সেন্টার)
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রাযিঃ) ..... আবূ যিনাদ (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কিছু শাব্দিক পরিবর্তন করে বলেছেন যে- প্রত্যেক স্ত্রী এমন সন্তানদের প্রসব করবে, যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4291 — Sahih Muslim 27:38
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ لأَنْ يَلَجَّ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ آثَمُ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَنْ يُعْطِيَ كَفَّارَتَهُ الَّتِي فَرَضَ اللَّهُ " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ ব্যাপারে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ স্বীয় পরিবারের সাথে (কোন বিষয়ে) আল্লাহর নামে কসম করে এর পুনরাবৃত্তি করে বা এর উপর অটল থাকে তা অধিক গুনাহর কারণ বলে বিবেচিত হবে- কসম করে আল্লাহর নির্ধারিত (শপথ ভঙ্গের) কাফফারাহ আদায় করার তুলনায়।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ সাঈদ আশাজ্জ, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মদ ইবনু 'আলা, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু জাবালা ইবনু আবূ রাওয়াদ (রহঃ) ..... সকলেই উবাইদুল্লাহ (রহঃ) এর সূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, তাদের মধ্য হতে হাফ্স (রহঃ) উমর (রাযিঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আবূ উসামাহ্ এবং সাকিফ (রহঃ) উভয়ের বর্ণিত হাদীসে اعْتِكَافُ لَيْلَةٍ (এক রাত্রির ইতিকাফের) কথা উল্লেখ আছে। আর শুবাহ (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে يَوْمًا يَعْتَكِفُهُ (তিনি তার উপর একদিনের ইতিকাফ করা ধার্য করে নিয়েছিলেন)। উল্লেখিত হাফস (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে 'একদিন এবং এক রাত্রির কথা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৪৭, ইসলামিক সেন্টার)