আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবু বকর ইবনু নাফি (রহঃ) ...... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"- (সূরা ইবরাহীম ১৪ঃ ২৭) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এ আয়াতটি কবরের শাস্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন লোকের রূহু কবয করার পর দু’জন ফেরেশতা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এখানে ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশকের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্ৰ আত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে। আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয়- বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) এখানে তার দুর্গন্ধ এবং তার প্রতি অভিসম্পাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু উমার ইবনু সালীত আল হুযালী, শাইবান ইবনু ফারুরূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) এর সাথে একদা আমরা মাক্কাহ ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। তখন আমরা চাঁদ দেখছিলাম। আমি তীক্ষ দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলাম, তাই আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আমি ব্যতীত কেউ বলেনি যে, সে চাঁদ দেখেছে। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাযিঃ) কে বলছিলাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? এ-ই তো চাঁদ। কিন্তু তিনি দেখছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বলছিলেন, আমি আমার বিছানায় শুয়ে থেকেই তা দেখতে পাব। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাফিরদের (নিহত হবার) ঘটনার অবস্থা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেন, গতকাল বাদর যোদ্ধাদের ধরাশায়ী হবার স্থান রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (পূর্ব থেকেই) দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এটা অমুকের ধরাশয়ী হবার স্থান। বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, শপথ সে সত্তার! যিনি তাকে সত্য বাণী সহ পাঠিয়েছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সীমারেখা বলে দিয়েছেন, তারা সে সীমারেখা একটুও অতিক্রম করেনি। তারপর তাদেরকে একটি কুপে একজনের উপর অপরজনকে নিক্ষেপ করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে গিয়ে বললেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক। আল্লাহ ও তার রসূল যে ওয়া’দা তোমাদের সঙ্গে করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পেয়েছ? আমার প্রতিপালক আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে সঠিক পেয়েছি। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যেসব দেহে প্রাণ নেই, আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি যা বলছি, তা তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনছ না। তবে তারা এ কথার প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
হাদ্দাব ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদর যুদ্ধে নিহত লোকদেরকে তিন দিন পর্যন্ত এভাবেই রেখে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাদের কাছে এসে তাদের লাশের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে উচ্চ আওয়াজে বললেন, হে হিশামের পুত্র আবু জাহল! হে উমাইয়া ইবনু খালাফ, হে উতবাহ ইবনু রাবী’আহ, হে শাইবাহ ইবনু রাবী’আহ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সঙ্গে যা ওয়াদা করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পাওনি? আমার প্রতিপালক আমার সাথে যা ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে পেয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা উমর (রাযিঃ) শুনে বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা তো মৃত। কিভাবে তারা শুনবে এবং কিভাবে তারা উত্তর দিবে? তিনি বললেন, আমি তাদেরকে যা বলছি এ কথা তাদের থেকে তোমরা বেশি শুনছ না। তবে তারা প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। অতঃপর তিনি তাদের সম্বন্ধে আদেশ দিলে তাদেরকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে বদরের কূপে নিক্ষেপ করা হলো।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ আল মা'নী ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবু তালহাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাদর যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাফিরদের উপর বিজয়ী হলেন, তখন তিনি বিশের অধিক কুরায়শ নেতৃবৃন্দ, অপর হাদীসে রাওহ (রাযিঃ) বলেন, চব্বিশ জন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ সম্বন্ধে আদেশ দিলেন। তারপর তাদের লাশ বাদর প্রান্তে এক নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত সাবিত এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬০, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিয়ামতের দিন যার হিসাব (কষাকষিভাবে) করা হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহ তা-আলা কি বলেননি فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا "তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেয়া হবে"। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ এ তো হিসাব নয় বরং এটা তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ কিয়ামতের দিন যার হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু বিশর ইবনুল হাকাম আল আব্দী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারই হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ কি সহজ হিসাবের কথা বলেননি? তিনি বললেন, এ তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ যার হিসাবে কষাকষি করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবদুর রহমান ইবনু বিশর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার হিসাব নেয়া হবে তার ধ্বংস অবধারিত। এরপর উসমান ইবনু আসওয়াদ (রহঃ) আবু ইউনুস এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7229 — Sahih Muslim 53:98
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ وَفَاتِهِ بِثَلاَثٍ يَقُولُ " لاَ يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلاَّ وَهُوَ يُحْسِنُ بِاللَّهِ الظَّنَّ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যুর তিন দিন আগে তাকে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমাদের সকলেই যেন আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণরত অবস্থায় মারা যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬৫, ইসলামিক সেন্টার)