মুহাম্মাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু সাহম, হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ...... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতী লোকদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা’আলা বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার আনুগত্যের জন্য উপস্থিত আছি। যাবতীয় কল্যাণ আপনারই হাতে। তারপর তিনি বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা জবাব দিবে, হে আমাদের রব কেন আমরা সন্তুষ্ট হব না? অথচ আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টি জগতের অন্য কাউকে দান করেননি। তিনি বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর থেকে উত্তম বস্তু দান করব না? তারা বলবে, হে পালনকর্তা! এর চাইতে উত্তম বস্তু আর কি হতে পারে? এরপর আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর আমার সম্ভষ্টি নাযিল করব। অতঃপর তোমাদের উপর আমি আর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/২৮৩১) বর্ণনাকারী বলেন, নু'মান ইবনু আবূ ‘আইয়্যাশ এর নিকট এ হাদীসটি আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম আকাশের উজ্জ্বল তারকারাজি দেখে থাকো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…/২৮৩১) বর্ণনাকারী বলেন, নু'মান ইবনু আবূ ‘আইয়্যাশ এর নিকট এ হাদীসটি আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমি আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম আকাশের উজ্জ্বল তারকারাজি দেখে থাকো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু জাফার ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু খালিদ, হারূন ইবনু সাঈদ আল আইলী (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতের বাসিন্দাগণ জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ উপর দিকে দেখতে পাবে, যেমন দূরবর্তী উজ্জ্বল নক্ষত্রসমূহ তোমরা আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম কোণে স্পষ্ট দেখতে পাও। কেননা তাদের পরস্পরের সম্মানের ক্ষেত্রে পার্থক্য সূচিত থাকবে। এ কথা শ্রবণে সহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ স্তরসমূহ তো নবীদের জন্য নির্ধারিত। তাদের ছাড়া অন্যেরা তো এ স্তরে কক্ষনো পৌছতে পারবে না। জবাবে তিনি বললেন, কেন পারবে না, অবশ্যই পারবে। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ আমি তার শপথ করে বলছি! যে সকল লোক আল্লাহতে ঈমান আনয়ন করে এবং তার রসূলদের প্রতি আস্থা স্থাপন করে, তারা সকলেই এ মর্যাদা সম্পন্ন স্তরসমূহে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৮১, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে আমাকে বেশি মহব্বতকারী ঐ সব লোকেরা হবে, যারা আবির্ভূত হবে আমার ইন্তিকালের পর, তারা আকাঙ্খা করবে, হায় যদি তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিনিময়েও আমাকে দেখতে পেত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৮২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ উসমান, সাঈদ ইবনু আবদুল জাব্বার আল বাসরী (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। প্রত্যেক জুমুআয় জান্নাতী লোকেরা এতে একত্রিত হবে। তারপর উত্তরদিকের বায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধূলা-বালি তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাক-পরিচ্ছদে গিয়ে লাগবে। এতে তাদের সৌন্দর্য এবং শরীরের রং আরো বেড়ে যাবে। তারপর তারা স্ব স্ব পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। এসে দেখবে, তাদের শরীরের রং এবং সৌন্দর্যও বহু বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর তাদের পরিবারের লোকেরা বলবে, আল্লাহর শপথ আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ! তোমাদের শরীরের সৌন্দর্য তোমাদের নিকট থেকে যাবার পর বহুগুণে বেড়ে গেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
আমর আন্ নাকিদ ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা গর্ব প্রকাশ করে বলল, অথবা আলোচনা করতঃ বলল, জান্নাতে পুরুষ অধিক হবে, না মহিলা? এ কথা শ্রবণে আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বললেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি, যে দলটি জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করবে তাদের মুখায়ব পূর্ণিমার চাদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে উদ্ধাকাশের আলোকিত নক্ষত্রের মতো। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দু' জন সহধর্মিণী। গোশতের এ পাশ হতে তাদের পায়ের নলার মগজ দৃশ্য হবে। জান্নাতের মাঝে কেউ (আর) অবিবাহিত থাকবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7148 — Sahih Muslim 53:17
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ اخْتَصَمَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ أَيُّهُمْ فِي الْجَنَّةِ أَكْثَرُ فَسَأَلُوا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ .
(…/...) ইবনু আবু উমর (রহঃ) ..... ইবনু সীরন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে) কারা অধিক জান্নাতী হবে, এ বিষয়ে পুরুষ ও মহিলাগণ ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। তারপর তারা এ ব্যাপারে আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলে তিনি ইবনু উলাইয়্যার ন্যায় বললেন, আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সর্বপ্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কুতাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সর্বপ্রথমে যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল আকাশে উদিত আলোকজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো হবে। তারা প্রস্রাব-পায়খানা করবে না, থু-থু ফেলবে না এবং নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণের। তাদের গায়ের ঘাম হতে মিশকের ঘ্রাণ আসবে এবং তাদের ধূপদানী হবে আলুওয়াহ’ নামে এক ধরনের সুগন্ধি কাষ্ঠের তৈরি। তাদের স্ত্রীগণ হবে ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট। তাদের চরিত্র হবে একই লোকের চরিত্রের মতো। আদি পিতা আদম (আঃ) এর আকৃতির মতো হবে তাদের আকৃতি। যা ষাট হাত দীর্ঘ আকৃতি বিশিষ্ট। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮৮৬, ইসলামিক সেন্টার)