حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُبَّ أَشْعَثَ مَدْفُوعٍ بِالأَبْوَابِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ " .
সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিছু সংখ্যক এমন জীর্ণশীর্ণ লোক আছে, যাদেরকে মানুষের দ্বার হতে বিতাড়িত করা হয়। (অথচ তারা আল্লাহর নিকট এত প্রিয় যে,) তারা যদি আল্লাহর নামে কোন কসম করে তবে আল্লাহ তা’আলা তা পূর্ণ করে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ ইবনু যাম’আহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ প্রদানকালে সালিহ (আঃ) এর উষ্ট্রি সম্পর্কে এবং যে লোক সেটার পা কেটেছিল তার সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, যখন ঐ উষ্ট্রিকে হত্যা করার জন্য তাদের কাওমের সবচেয়ে হতভাগ্য লোকটি উদ্যত হল, তখন এ কাজের জন্য ঐ কাওমের মধ্যে আবু যাম’আর ন্যায় সবচেয়ে শক্তিশালী, নিষ্ঠুর, অসভ্য ও হতভাগ্য লোক ছিল। এ খুতবায় তিনি মহিলাদের বিষয়ে আলোচনা করলেন এবং তাদের নাসীহাত করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে অযথা প্রহার করে। আবূ বাকর এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসীর ন্যায় প্রহার করে। আবূ কুরায়ব এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসের ন্যায় প্রহার করে। কিন্তু আবার দিন শেষে রাতের বেলা তার সঙ্গে মিলিত হয়। এরপর তিনি বায়ু নিঃসরণ করে হাসি দেয়া সম্বন্ধে উপদেশ করলেন এবং বললেন, যে কাজ তোমরা স্বয়ং করবে সে ব্যাপারে তোমরা কি করে হাসতে পার? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৭, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমি বানী কা'ব এর বাবা আমর ইবনু লুহাই ইবনু কামা’আহ ইবনু খিনদিফকে জাহান্নামের মাঝে দেখেছি সে তার পেট হতে সব নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৮, ইসলামিক সেন্টার)
আমর আন্ নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘বাহীরাহ বলা হয় এমন উষ্ট্রীকে, যা কোন দেবতার নামে মানৎ করে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। তাকে আর কেউ দোহন করে না। আর ‘সায়িবাহ বলা হয় এমন উটকে, মুশরিকগণ তাদের দেবতার নামে ছেড়ে দিত। এভাবে ছেড়ে দেয়ার পর এর পিঠে কোন বোঝা বহন করা হত না। ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) আরো বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি জাহান্নামের মাঝে আমির আল খুযাঈকে দেখেছি, সে তার নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে। কেননা সে-ই সর্বপ্রথম দেব-দেবীর নামে সায়িবাহ (উটের) জন্তুর প্রথা চালু করেছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯২৯, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু প্রকার লোক জাহান্নামী হবে। আমি তাদেরকে দেখিনি। এক প্রকার ঐ সব লোক যাদের কাছে গরুর লেজের ন্যায় ছড়ি থাকবে। তারা এর দ্বারা লোকেদের পিটাবে। দ্বিতীয় প্রকার ঐ শ্রেণীর মহিলা, যারা কাপড় পরিহিতা কিন্তু উলঙ্গ প্রায়, মানুষকে আকৃষ্টকারিণী ও স্বয়ং বিচ্যুত। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের পিঠের উঁচু কুজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩০, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... উম্মু সালামার মুক্তদাস ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়, অচিরেই তোমরা এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক। সকাল অতিবাহিত হবে তাদের আল্লাহর গযবের মধ্যে এবং সন্ধ্যা যাপন হবে আল্লাহর অভিশাপের মধ্যে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩১, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ, আবু বাকর ইবনু নাফি’ ও ‘আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, তুমি যদি দীর্ঘজীবি হও তাহলে অচিরেই তোমরা এমন এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের সকাল হবে আল্লাহর অসম্ভষ্টির ভিতর এবং সন্ধ্যা হবে আল্লাহর অভিসম্পাতের মাঝে। তাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবু শাইবাহ, ইবনু নুমায়র, ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... বানু ফিহর এর ভাই মুসতাওরিদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর শপথ! ইহকাল-পরকালের তুলনায় অতটুকুই, যেমন তোমাদের কেউ তার এ আঙ্গুলটি সমুদ্রে পানিতে ভিজিয়ে দেখল যে, কতটুকু পরিমাণ এতে পানি লেগেছে। বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া এ সময় শাহাদাত আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। ইয়াহইয়া ছাড়া সকলের বর্ণনার মাঝেই আছে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি। আর আবূ উসামার বর্ণনাতেও أَخِي بَنِي فِهْرٍ শব্দ উল্লেখ রয়েছে। তাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, ইসমাঈল বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7198 — Sahih Muslim 53:67
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلاً " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ النِّسَاءُ وَالرِّجَالُ جَمِيعًا يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ قَالَ صلى الله عليه وسلم " يَا عَائِشَةُ الأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ " .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের মাঠে সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! পুরুষ এবং মহিলা এক সঙ্গেই উত্থিত হবে আর তারা পরস্পর একে অপরের প্রতি তাকাবে? তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ! তখনকার প্রেক্ষাপট এতো কঠিন ও ভয়ঙ্ককর হবে যে, একে অপরের প্রতি তাকানোর কল্পনারও উদ্রেক হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হাতিম ইবনু আবূ সাগীরাহ (রাযিঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে غُرْلاً খাতনাবিহীন শব্দটি বর্ণনা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৩৫, ইসলামিক সেন্টার)