মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় তাঁর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন- মক্কায় প্রবেশের পূর্বে তিনি যখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন এবং নিজের হাড়ির নিচে আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তার (মাথা থেকে) মুখমণ্ডলে উকুন ঝরে পড়ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তোমার মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং ছয়জন মিসকীনকে এক ফারাক খাদ্য দান কর (এক ফারাক-এ তিন সা'), অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা একটি কুরবানী কর। ইবনু আবূ নাজীহ এর বর্ণনায় আছে, “অথবা একটি বকরী কুরবানী কর।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2882 — Sahih Muslim 15:92
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهِ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ لَهُ " آذَاكَ هَوَامُّ رَأْسِكَ " . قَالَ نَعَمْ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " احْلِقْ رَأْسَكَ ثُمَّ اذْبَحْ شَاةً نُسُكًا أَوْ صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ ثَلاَثَةَ آصُعٍ مِنْ تَمْرٍ عَلَى سِتَّةِ مَسَاكِينَ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, পোকাগুলো কি তোমার মাথায় উপদ্ৰব করছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, মাথা মুড়িয়ে ফেল। অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনকে তিন সা' খেজুর খেতে দাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৪৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মা'কিল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) এর নিকট বসলাম। অতঃপর আমি তাকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, “ফিদইয়াহ হিসেবে সওম পালন করতে হবে অথবা সদাকাহ দিতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।" কা'ব (রাযিঃ) বললেন, তা আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার মাথায় কিছু কষ্ট ছিল। অতঃপর আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তখন আমার মুখমণ্ডলে উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যা দেখছি তাতে মনে হয় যে, তোমার অসহনীয় কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে? আমি বললাম, না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়, “ফিদইয়াহ্ হিসেবে সওম পালন করতে হবে, সদাক্বাহ করতে হবে অথবা কুরবানী করতে হবে।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে অর্ধ সা' করে খাদ্য দান কর। কা'ব (রাযিঃ) বলেন, আয়াতটি বিশেষভাবে আমার প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে কিন্তু এর নির্দেশ সাধারণভাবে তোমাদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... কা'ব ইবনু উজরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইহরাম অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হলেন। তার মাথা ও দাড়িতে উকুন ধরে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জানতে পেরে তাকে ডেকে পাঠালেন এবং একজন নাপিতও ডাকলেন। সে তার মাথা মুড়িয়ে দিল। অতঃপর তিনি বললেন, তোমার সাথে কুরবানীর পশু আছে কি? তিনি বললেন, আমি তা সংগ্রহ করতে সক্ষম নই। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তিনদিন সওম পালনের অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে এক সা' করে খাদ্য দান করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ তা'আলা বিশেষ করে তার প্রসঙ্গে নাযিল করলেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হবে...”। অতঃপর এ আয়াতের নির্দেশ সাধারণভাবে সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2885 — Sahih Muslim 15:95
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ طَاوُسٍ، وَعَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ، عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়ে ছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2886 — Sahih Muslim 15:96
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ بِطَرِيقِ مَكَّةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ وَسَطَ رَأْسِهِ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু বুহায়নাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মাক্কায় (মক্কায়) যাবার পথে নিজের মাথার মধ্যস্থলে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... নুবায়হ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (ইহরাম অবস্থায়) আ'বান ইবনু উসমান (রহঃ) এর সাথে রওনা হলাম। আমরা মালাল নামক স্থানে পৌছলে উমার ইবনু উবায়দুল্লাহর চোখে পীড়া দেখা দিল। রাওহা নামক স্থানে পৌছে তার চোখের ব্যথা আরও তীব্রতর হল। তিনি (নুবায়হ) আ'বান ইবনু উসমান (রহঃ) এর কাছে (কী করতে হবে তা) জিজ্ঞেস করার জন্য একজনকে পাঠালেন, তিনি বলে পাঠালেন, চোখে মুসব্বারের প্রলেপ দাও, কারণ উসমান (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তির চক্ষুরোগ দেখা দিলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চোখে মুসব্বারের প্রলেপ দেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ২৭৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্যালী (রহঃ) ..... নুবায়হ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উবায়দুল্লাহ ইবনু মা'মার এর পুত্র উমারের চোখ ফুলে উঠলে তিনি সুরমা লাগানোর ইচ্ছা করলেন। কিন্তু আ'বান ইবনু উসমান (রাযিঃ) তাকে চোখে সুরমা লাগাতে নিষেধ করলেন এবং মুসব্বারের প্রলেপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এও বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আমর আন নাকিদ, যুহায়র ইবনু হারব ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবরাহীম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়ন (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাযিঃ) আবওয়া নামক স্থানে পরস্পর মতবিরোধে লিপ্ত হলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধৌত করতে পারবে, কিন্তু মিসওয়ার (রাযিঃ) বললেন, সে মাথা ধৌত করতে পারবে না। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে (অর্থাৎ 'আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়নকে) এ সম্পর্কিত মাসআলাহ্ জানার জন্য আবূ আইয়ুব আল আনসারী (রাযিঃ) এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে কুপের দু' খুঁটির মাঝে গোসলরত অবস্থায় পেলাম। তিনি একখণ্ড কাপড় টাঙ্গিয়ে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিলেন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়ন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আপনার নিকট এ কথা জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতেন? আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) তার হাত টানানো কাপড়ের উপর রাখলেন এবং তা (সামান্য) নীচু করলেন- যাতে তার মাথা আমার দৃষ্টিগোচর হল। অতঃপর তিনি তার গোসলে সাহায্যকারী ব্যক্তিকে পানি ঢালতে বললেন। অতএব সে তার মাথায় পানি ঢালল। এরপর তিনি উভয় হাত সামনে ও পিছনে সঞ্চালন করে নিজের মাথা মললেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এরূপ করতে দেখেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু আসলাম (রাযিঃ) থেকে এ সানাদ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আবূ আইয়ূব (রাযিঃ) তার উভয় হাত সামনে-পিছনে সঞ্চালন করে সম্পূর্ণ মাথা ভালভাবে মললেন। এরপর মিসওয়ার (রাযিঃ) ইবনু “আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, আমি আর কখনও আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৫৭, ইসলামীক সেন্টার)