মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের মাসসমূহে, হাজের (হজ্জের/হজের) সময় ও স্থানসমূহে (অথবা হাজ্জের সময়কার বিধিনিষেধ অনুসরণ করে) এবং হাজ্জের (হজ্জের/হজের) রাতসমূহে ইহরাম বেঁধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যদি চায় তবে সে এই হাজ্জকে উমরায় পরিবর্তিত করে নিক। আর যার সাথে কুরবানীর পশু (হাদী) আছে, সে যেন এরূপ না করে। তাদের মাঝে কিছু সংখ্যক এটা গ্রহণ করল এবং কিছু সংখ্যক- যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না, তারা উমরাহ করল না। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার স্বচ্ছল সাহাবীগণের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীগণের উদ্দেশে আপনার কথাবার্তা শুনেছি যে, আপনি উমরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমি তা করতে পারছি না। তিনি বললেন, কেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করতে পারছি না। আমার ঋতু দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) অনুষ্ঠানাদি পালন কর। আশা করি আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উমরাহ্ পালনের সুযোগ দেবেন। তুমি আদম (আঃ) এর কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তা নির্ধারণ করেছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতএব আমি হাজ্জের (হজ্জের/হজের) জন্য বের হলাম। অবশেষে মিনায় অবতরণ করলাম এবং পাক হয়ে গেলাম। এরপর আমি বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাস্সাবে অবতরণ করলেন এবং আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রাযিঃ) কে ডেকে বললেন, তোমার বোনকে হারাম সীমার বাইরে নিয়ে যাও, সে (সেখানে গিয়ে) উমরার জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আমরা রওনা হয়ে (তানঈম) গেলাম এবং (সেখানে) ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম এবং সাফামারওয়াহ সাঈ করলাম। অতঃপর আমরা মধ্যরাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি স্বস্থানেই ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উমরাহ সম্পাদন করে নিয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তার সাহাবীগণের রওনা হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌছলেন এবং ফজরের সালাতের পূর্বে তার তওয়াফ করলেন, অতঃপর মাদীনার উদ্দেশে রওনা হলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
–(১২৪/...) ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ ইফরাদ হাজ্জের, কেউ কিরআন হাজ্জের (হজ্জের/হজের) এবং তামাত্তু হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ইহরাম বাঁধল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯০, ইসলামীক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাযিঃ) হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করার জন্য এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2925 — Sahih Muslim 15:134
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عَمْرَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ وَلاَ نُرَى إِلاَّ أَنَّهُ الْحَجُّ حَتَّى إِذَا دَنَوْنَا مِنْ مَكَّةَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَنْ يَحِلَّ . قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها فَدُخِلَ عَلَيْنَا يَوْمَ النَّحْرِ بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقِيِلَ ذَبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَزْوَاجِهِ . قَالَ يَحْيَى فَذَكَرْتُ هَذَا الْحَدِيثَ لِلْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ فَقَالَ أَتَتْكَ وَاللَّهِ بِالْحَدِيثِ عَلَى وَجْهِهِ .
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, যিলকদাহ মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। হাজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মাক্কার (মক্কার) নিকটবর্তী হলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, কুরবানীর দিন কেউ আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস কাসিম ইবনু মুহাম্মাদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (আম্রাহ) তোমার নিকট হাদীসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২৭৯২, ইসলামীক সেন্টার)
–(১২৬/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও কাসিম (রহঃ) ..... উম্মুল মু'মিনীন [আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা দু'টি ইবাদাতসহ (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ্) প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি একটি মাত্র ইবাদাতসহ (হাজ্জ (হজ্জ/হজ)) ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অপেক্ষা কর। তুমি পবিত্র হয়ে যাবার পর তান'ঈম চলে যাও এবং সেখানে ইহরাম বাঁধ, অতঃপর অমুক অমুক সময় আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি ভোরবেলার কথা বলেছেন এবং তুমি তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ উমরার সাওয়াব পাবে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শুধুমাত্র হজ্জের উদ্দেশেই আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা (মাক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম। যারা কুরবানীর পশু (হাদী) সাথে আনেনি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, অতএব যারা কুরবানীর পশুর সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরাম ছেড়ে দিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণ সাথে কুরবানীর পশু আনেননি। তাই তারাও ইহরাম খুলে ফেললেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বললেন, আমার মাসিক দেখা দিল এবং বায়তুল্লাহ এর তওয়াফ করতে পারলাম না। হাসবায় অবস্থানের রাতে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা হজ্জ ও উমরাহ করে ফিরে যাচ্ছে, আর আমি শুধু হাজ্জ (হজ্জ/হজ) করে ফিরছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যে রাতে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছেছি, তখন তুমি কি বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে তান'ঈম যাও এবং (সেখানে) উমরার ইহরাম বাঁধ। অতঃপর তুমি অমুক অমুক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে। উন্মুল মুমিনীন সফিয়্যাহ (রাযিঃ) বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দূর হতভাগী, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ করেছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তিনি মাক্কার (মক্কার) উচ্চভূমি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আর আমি তা অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে নামছিলাম। অথবা তিনি উচ্চভূমি অতিক্রম করে নিম্নভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আর আমি নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। ইসহাকের বর্ণনায় আছে, আয়িশাহ (রাযিঃ) এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ে নিম্নভূমি অতিক্রম করছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2930 — Sahih Muslim 15:139
وَحَدَّثَنَاهُ سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُلَبِّي لاَ نَذْكُرُ حَجًّا وَلاَ عُمْرَةً . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ مَنْصُورٍ .
সুওয়ায়দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ করতে করতে রওনা হলাম। আমরা সুস্পষ্টভাবে হাজ্জ বা উমরাহ কোনটিরই উল্লেখ করিনি। ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত মানসূর (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭৯৭, ইসলামীক সেন্টার)