মুহাম্মদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকদ্দামী (রহঃ) ... আসমা (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আসমা (রাযিঃ) মুযদালিফাহ অবস্থানকালে জিজ্ঞেস করলেন, চাঁদ ডুবেছে কি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। পরে পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে বৎস! চাঁদ ডুবেছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার সাথে রওনা হও। আমরা রওনা হলাম এবং জামরাহ (পৌছে) তিনি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন, এরপর নিজের তাঁবুতে সালাত আদায় করলেন। আমি তাকে বললাম, হে সম্মানিত মহিলা! আমরা খুব ভোরে রওনা হয়েছিলাম। তিনি বললেন, কোন অসুবিধা নেই হে বৎস! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের খুব ভোরে রওনা হবার অনুমতি দিয়েছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3123 — Sahih Muslim 15:327
وَحَدَّثَنِيهِ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي رِوَايَتِهِ قَالَتْ لاَ أَىْ بُنَىَّ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَذِنَ لِظُعُنِهِ .
‘আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ..... ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আছেঃ "আসমা (রাযিঃ) বলেন, হে বৎস! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহধর্মিণীকে অনুমতি দিয়েছিলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ... (সালিম) ইবনু শাওওয়াল (রহঃ) উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তাকে অবহিত করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত থাকতেই তাকে মুযদালিফাহ থেকে মিনায় (পাঠিয়ে দেন)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... সালিম ইবনু শাওওয়াল সূত্রে উম্মু হাবীবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর 'আমল থেকে এরূপ করতাম, অর্থাৎ রাতের অন্ধকারেই মুযদালিফাহ্ থেকে মিনায় চলে আসতাম। নাকিদ এর বর্ণনায় আছে, “মুযদালিফাহ থেকে আমরা রাতের অন্ধকারেই রওনা হতাম।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯১, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মালপত্র নিয়ে অথবা (অপর বর্ণনা অনুযায়ী) দুর্বল লোকদের সাথে রাত থাকতেই মুযদালিফাহ থেকে (মিনার উদ্দেশে) পাঠিয়ে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3127 — Sahih Muslim 15:331
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي، يَزِيدَ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَنَا مِمَّنْ، قَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ضَعَفَةِ أَهْلِهِ .
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারের যে দুর্বলদের (মুযদালিফাহ্ থেকে) সর্বাগ্রে পাঠিয়ে দেন, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3128 — Sahih Muslim 15:332
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنْتُ فِيمَنْ قَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ضَعَفَةِ أَهْلِهِ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারের যে দুর্বলদের আগেভাগে পাঠিয়ে দেন, আমি তাদের সাথে ছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3129 — Sahih Muslim 15:333
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَحَرٍ مِنْ جَمْعٍ فِي ثَقَلِ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْتُ أَبَلَغَكَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ بَعَثَ بِي بِلَيْلٍ طَوِيلٍ قَالَ لاَ إِلاَّ كَذَلِكَ بِسَحَرٍ . قُلْتُ لَهُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَمَيْنَا الْجَمْرَةَ قَبْلَ الْفَجْرِ . وَأَيْنَ صَلَّى الْفَجْرَ قَالَ لاَ إِلاَّ كَذَلِكَ .
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার মালপত্র নিয়ে ভোর রাতে মুযদালিফাহ থেকে (মিনায়) পাঠিয়ে দেন। আমি (ইবনু জুরায়জ) আত্বাকে বললাম, আপনি জানেন কি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে গভীর রাতে পাঠিয়েছেন"? তিনি বললেন, না, কেবল ভোর রাতের কথাই আমি জানি। আমি তাকে পুনরায় বললাম, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, “আমরা ফজরের সালাতের পূর্বেই জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেছি।” তাহলে তিনি ফজরের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) কোথায় আদায় করেছেন? আতা বললেন, না, আমি এতটুকুই জানি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ ত্বাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সালিম ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তার সাথের দুর্বল লোকদেরকে মুযদালিফার নিকটবর্তী স্থান মাশ'আরুল হারামে রাতে অবস্থানের জন্য আগে ভাগেই পাঠিয়ে দিতেন। অতএব তারা রাতের বেলা যতক্ষণ ইচ্ছা আল্লাহর যিকর করত। ইমামের অবস্থান ও ফিরে আসার পূর্বেই তারা (এখান থেকে) রওনা হতো। অতএব তাদের মধ্যে কেউ ফজরের সালাতের সময় মিনায় পৌছত এবং কেউ ফজরের সালাতের পরে। তারা এখানে পৌছে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করত। ইবনু উমার (রাযিঃ) বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্বল ও বৃদ্ধদের এ অনুমতি প্রদান করেছেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৯৬, ইসলামীক সেন্টার)