মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, আপনি কি এ ফাতাওয়া দিচ্ছেন যে, হায়যগ্রস্ত মহিলা বিদায়ী তওয়াফ না করেই প্রস্থান করতে পারবে? ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তাকে বললেন, যদি আপনি আশ্বস্ত না হতে পারেন, তবে অমুক আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞেস করুন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন? তাওস বলেন, যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হাসতে হাসতে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি মনে করি আপনি সত্য কথাই বলেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3222 — Sahih Muslim #3222
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ حَاضَتْ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ بَعْدَ مَا أَفَاضَتْ - قَالَتْ عَائِشَةُ - فَذَكَرْتُ حِيضَتَهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحَابِسَتُنَا هِيَ " . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ كَانَتْ أَفَاضَتْ وَطَافَتْ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَاضَتْ بَعْدَ الإِفَاضَةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلْتَنْفِرْ" .
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ ও উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, উন্মুল মু'মিনীন সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই (রাযিঃ) ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেন, আমি তার হায়িযের কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে কি আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে? আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে সে রওনা হতে পারে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ তহির, হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে এ সানাদে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই বিদায় হাজ্জকালে পবিত্র অবস্থায় ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হন। ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত লায়সের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলেন যে, সফিয়্যাহ (রাযিঃ) এর হায়য হয়েছে। অবশিষ্ট যুহরীর হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯০, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আশংকা করছিলাম যে, সফিয়্যাহ (রাযিঃ) ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পূর্বেই হায়যগ্রস্তা হয়ে পড়লেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন এবং বললেনঃ "সফিয়্যাহ আমাদের আটকে রাখবে হয়ত।” আমরা বললাম, তিনি তওয়াফে ইফাযাহ করেছেন। তিনি বললেনঃ “তাহলে আটকে পড়ার কোন কারণ নেই।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3226 — Sahih Muslim #3226
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ قَدْ حَاضَتْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَلَّهَا تَحْبِسُنَا أَلَمْ تَكُنْ قَدْ طَافَتْ مَعَكُنَّ بِالْبَيْتِ " . قَالُوا بَلَى . قَالَ " فَاخْرُجْنَ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সফিয়্যাহ বিনতু হুইয়াই হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হয়ত সে আমাদের আটকে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করেনি তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে তোমরা চল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন পুরুষ স্ত্রীর সাথে সাধারণত যা করার ইচ্ছা করে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সফিয়্যাহ (রাযিঃ) এর সাথে তাই করার ইচ্ছা করলেন। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি হায়যগ্রস্তা। তিনি বললেন, তাহলে সে তো আমাদের এখানে অবস্থান করতে বাধ্য করবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ-এর) যিয়ারাত করেছেন। তিনি বললেন, তাহলে সে তোমাদের সঙ্গে যাত্রা করুক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রওনা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন সফিয়্যাকে তার তাবুর দরজায় চিন্তিতা ও অবসাদগ্ৰস্তা দেখতে পেলেন। তিনি বললেনঃ বন্ধ্যা নারী! তুমি আমাদের (এখানে) আটকে রাখবে? তিনি পুনরায় তাকে বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন (বায়তুল্লাহ) যিয়ারত করেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে রওনা হও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমুল্লাহ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে উপরোক্ত হাকামের হাদীসের অনরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে 'চিন্তিতা' ও 'অবসাদগ্রস্তা’ শব্দদ্বয়ের উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3230 — Sahih Muslim 15:434
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْكَعْبَةَ هُوَ وَأُسَامَةُ وَبِلاَلٌ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ فَأَغْلَقَهَا عَلَيْهِ ثُمَّ مَكَثَ فِيهَا . قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَسَأَلْتُ بِلاَلاً حِينَ خَرَجَ مَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ جَعَلَ عَمُودَيْنِ عَنْ يَسَارِهِ وَعَمُودًا عَنْ يَمِينِهِ وَثَلاَثَةَ أَعْمِدَةٍ وَرَاءَهُ - وَكَانَ الْبَيْتُ يَوْمَئِذٍ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ - ثُمَّ صَلَّى .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এবং উসামাহ্, বিলাল ও উসমান ইবনু তলহাহ্ আল হাজাবী (রাযিঃ) কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করলেন। ইবনু উমর (রাযিঃ) বলেন, বের হয়ে আসলে আমি বিলালকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করেছেন? তিনি বললেন, তিনি দু'টি থাম নিজের বাঁ দিকে, একটি থাম ডান পাশে এবং তিনটি থাম পিছনে রেখে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। তৎকালে বায়তুল্লাহ ছয়টি থামের উপর দণ্ডায়মান ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৯৬, ইসলামীক সেন্টার)