ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব (রহঃ) ..... 'আমর ইবনু আবূ আমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তুলহাহ্ (রাযিঃ) কে বললেনঃ তোমাদের বালকদের মধ্য থেকে একজন বালক আমার খিদমাতের জন্য খুঁজে আনো। অতএব আবূ তুলহাহ (রাযিঃ) আমাকে বাহনে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই (বাহন থেকে) নামতেন, আমি তার প্রয়োজনীয় সেবা করতাম। এ হাদীসে তিনি আরও বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্রসর হতে থাকলেন এবং উহুদ পাহাড় তার দৃষ্টিগোচর হল- তিনি বললেনঃ “এ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালোবাসী।" তিনি যখন মাদীনার নিকটবর্তী হলেন তখন বললেনঃ “হে আল্লাহ! তাদের (মাদীনার অধিবাসীদের) মুদ ও সা এ বারাকাত দান করুন।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
হামিদ ইবনু উমার (রহঃ) ..... আসিম (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এখান থেকে ওখানের মধ্যবর্তী স্থান। অতএব যে ব্যক্তি এখানে কোন পাপ করে, তিনি পুনরায় আমাকে বললেন, তা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার যে, এখানে কোন পাপ করে তার উপর আল্লাহ, তার মালাক এবং সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তার ফারয (ফরয) অথবা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করবেন না।* রাবী বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর পুত্র বললেন, “অথবা যে কোন পাপীকে আশ্রয় দিল।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3324 — Sahih Muslim 15:528
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا أَحَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ قَالَ نَعَمْ هِيَ حَرَامٌ لاَ يُخْتَلَى خَلاَهَا فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আসিম আল আহওয়াল (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তা হারাম। অতএব এখানকার উদ্ভিদ উপড়ানো যাবে না। যে ব্যক্তি তা করবে তার উপর আল্লাহ, তার মালাক্ব এবং সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনু আবূ তুলিব (রাযিঃ) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের (আহলে বায়ত) কাছে আল্লাহর কিতাব ছাড়া যা আমরা পাঠ করি এবং এ সহীফাহ্ রাবী বলেন, অর্থাৎ ঐ সহীফাহ্ যা তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত ছিল তা ছাড়া কিছু আছে, সে মিথ্যা বলে। এ সহীফায় উটের বয়স* এবং কিছু যখমের বর্ণনা ছিল। এর মধ্যে আরও ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনার আয়র ও সাওর এর মধ্যবর্তী স্থান হারাম। এখানে যে ব্যক্তি কোন বিদআতী কর্মে লিপ্ত হয় অথবা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফারয (ফরয) ও নাফল ইবাদাত কবুল করবেন না। মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকর। যে অন্য পিতার সাথে নিজ বংশ দাবী করে অথবা নিজ মুনীবের পরিবর্তে অন্য মুনীবের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করে তার উপর আল্লাহ, তার ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না। রাবী বলেন, আবূ বাকর ও যুহায়রের হাদীস শেষ হয়ে গেছে "তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকরী" এ কথা পর্যন্ত। তারা এর পরবতী অংশ উল্লেখ করেননি। তাদের উভয়ের বর্ণনায় "তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত" কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
‘আলী ইবনু হুজুর আস্ সাদী, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে উল্লেখ আছে “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে (নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর) বিশ্বাসঘাতকতা করে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করা হবে না। তাদের (‘আলী ও ওয়াকী) উভয়ের বর্ণনায় “যে ব্যক্তি নিজ পিতৃ পরিচয়ের পরিবর্তে অন্য পিতৃ পরিচয়ের দাবী করে কথাটুকুর উল্লেখ এবং ওয়াকী’র বর্ণনায় “কিয়ামতের দিন" কথাটুকুর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে ইবনু মুসহির ও ওয়াকী'র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এদের বর্ণনায় “গোলাম নিজের মুনীবের পরিবর্তে অন্যকে নিজের মুনীব বলে পরিচয় দেয়” কথাটুকু নেই। আর তার প্রতি লা'নাতের কথা উল্লেখিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনাহ হারাম। অতএব, যে এখানে কোন পাপে লিপ্ত হয় অথবা কোন পাপীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকাহ এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল (কিছুই) কবুল করা হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৬, ইসলামীক সেন্টার)