وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَيَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كُنْتُ أُطَيِّبُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَيَوْمَ النَّحْرِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ بِطِيبٍ فِيهِ مِسْكٌ .
আহমাদ ইবনু মানী' ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার ইহরাম বাঁধার পূর্বে এবং কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফের পূর্বে কস্তুরী মিশ্ৰিত সুগন্ধি মেখে দিতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৮, ইসলামীক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর ও আবূ কামিল (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মুহাম্মদ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম- যে সুগন্ধি মেখেছে, অতঃপর মুহরিম অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়েছে। তিনি বললেন, আমি ভোর বেলা এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধা পছন্দ করি না যে, আমি সুগন্ধি ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত থাকব। এ কাজ (সুগন্ধি লাগানো) অপেক্ষা আমি আমার দেহে আলকাতরা মাখা অধিক পছন্দনীয় মনে করি। অতঃপর আমি (মুহাম্মদ) আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে অবহিত করলাম যে, ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, “আমি ভোরবেলা এমন অবস্থায় ইহরাম বাঁধা পছন্দ করি না যে, আমি সুগন্ধি ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত থাকব। এ কাজ (সুগন্ধি লাগানো) অপেক্ষা আমি আমার দেহে আলকাতরা লাগানো অধিক শ্রেয় মনে করি।" তখন আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আমি নিজে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার ইহরাম বাধার সময় সুগন্ধি মেখে দিয়েছি। এরপর তিনি তার স্ত্রীদের নিকট চক্কর দিলেন, এরপর ভোরবেলা ইহরাম বাধলেন।”* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭০৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2843 — Sahih Muslim 15:53
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ ثُمَّ يُصْبِحُ مُحْرِمًا يَنْضَخُ طِيبًا .
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহে সুগন্ধি মেখে দিতাম। অতঃপর তিনি তার স্ত্রীদের নিকট চক্কর দিতেন, অতঃপর ভোরবেলা সুগন্ধি ঝাড়তে ঝাড়তে ইহরাম বাঁধতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১০, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2844 — Sahih Muslim 15:54
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ، الْمُنْتَشِرِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ لأَنْ أُصْبِحَ مُطَّلِيًا بِقَطِرَانٍ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُصْبِحَ مُحْرِمًا أَنْضَخُ طِيبًا - قَالَ - فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَأَخْبَرْتُهَا بِقَوْلِهِ فَقَالَتْ طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَافَ فِي نِسَائِهِ ثُمَّ أَصْبَحَ مُحْرِمًا .
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইব্রাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুনতাশির (রহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ ভোরবেলা সুগন্ধির চিহ্ন দূরীভূত করা অবস্থায় ইহরাম বাঁধার তুলনায় ভোরবেলা আলকাতরা মাখা অবস্থায় ইহরাম বাঁধা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। রাবী বলেন, এরপর আমি আয়িশাহ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে ইবনু উমারের উক্তি সম্পর্কে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহে খুশবু লাগিয়েছি। এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে গেলেন। অতঃপর তিনি ইহরাম অবস্থায় ভোর করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2845 — Sahih Muslim 15:55
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ، عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ اللَّيْثِيِّ، أَنَّهُ أَهْدَى لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِمَارًا وَحْشِيًّا وَهُوَ بِالأَبْوَاءِ - أَوْ بِوَدَّانَ - فَرَدَّهُ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَلَمَّا أَنْ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا فِي وَجْهِي قَالَ " إِنَّا لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكَ إِلاَّ أَنَّا حُرُمٌ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... সা'ব ইবনু জাসসামাহ আল লায়সী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বন্য গাধা (গোশত) হাদিয়্যাহ (হাদিয়া/উপহার) স্বরূপ দিলেন। আর তিনি তখন আবওয়া অথবা ওয়াদান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তিনি তার কাছে তা ফেরত পাঠালেন। সা’ব (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার চেহারা মলিন দেখে বললেন, আমি তোমাকে তা ফেরত দিতাম না, শুধু ইহরামের কারণেই তা ফেরত দিয়েছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবন রুমহ, কুতায়বাহ, আবদ ইবনু হুমায়দ ও হাসান হুলওয়ানী (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (সা'ব) তাকে বন্য গাধার গোশত হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিলাম। ইমাম মালিক (রহঃ) যেরূপ বর্ণনা করেছেন। লায়স ও সালিহ এর বর্ণনায় রয়েছে- সা’ব ইবনু জাস্সামাহ্ (রাযিঃ) তাকে অবহিত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ...... যুহরী (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে উল্লেখ আছে। তিনি (সা’ব) বলেন, আমি তাকে বন্য গাধার গোশত হাদিয়্যাহ (হাদিয়া/উপহার) দিয়েছিলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’ব ইবনু জাসসামাহ্ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য বন্য গাধার গোশত উপটৌকন পাঠিয়েছিলেন। আর তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। রাবী বলেন, তাই তিনি এ উপঢৌকন তাকে ফেরত দিলেন এবং বললেন, আমরা যদি ইহরাম অবস্থায় না থাকতাম তবে তোমার এ উপটৌকন অবশ্যই গ্রহণ করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৫, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার ও উবায়দুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাব ইবনু জাস্সামাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বন্য গাধার পায়ের গোশত হাদিয়্যাহ (হাদিয়া/উপহার) দেন। তখন তা থেকে রক্ত ঝরছিল। আর হাকাম এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বন্য গাধার পেছনের অংশের কথা উল্লেখ আছে। আর হাবীব এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সা'ব) বন্য গাধার উরুর পার্শ্বের গোশত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য উপঢৌকন পাঠান। কিন্তু তিনি তা ফেরত দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৬, ইসলামীক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হাব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) তার নিকট এলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিকার করা জন্তুর গোশত উপটৌকন দেয়া হয়েছিল। সেটা যে হারাম এ কথা আপনি আমাকে কিভাবে অবহিত করেছিলেন? রাবী (ত্বাউস) বলেন, তিনি বললেন, তাকে শিকারকৃত জন্তুর একটি অঙ্গ হাদিয়াহ দেয়া হয়েছিল, তিনি তা ফেরত দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, আমরা এ গোশত খেতে পারি না, কারণ আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৭১৭, ইসলামীক সেন্টার)