আবুত তহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাত ফরয করার সময় আল্লাহ তা'আলা দু' রাকাআত করে ফারয (ফরয) করেছিলেন। তবে পরে বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাতে বৃদ্ধি করে পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে এবং সফরকালীন সালাত পূর্বের মতো দু' রাকাআতই রাখা হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪১, ইসলামীক সেন্টার)
আলী ইবনু খাশ্রম (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। প্রথমে সালাত ফারয (ফরয) হয়েছিল দু' রাকাআত করে। পরবর্তী সময়ে সফরকালীন সালাত দু' রাকাআত ঠিক রাখা হয়েছে কিন্তু বাড়ীতে অবস্থানকালীন সালাত পূর্ণাঙ্গ (অর্থাৎ চার রাকাআত) করা হয়েছে। বর্ণনাকার যুহরী বলেছেনঃ আমি উরওয়াহকে জিজ্ঞেস করলাম- তাহলে কী কারণে আয়িশাহ (রাযিঃ) সফরকালীন সালাত পুরো আদায় করতেন? জবাবে উরওয়াহ বললেনঃ ‘আয়িশাহ উসমানের ব্যাখ্যার মতো এ হাদীসটির ব্যাখ্যা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪২, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু শায়বাহ, আবূ কুরায়ব, যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঘিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি 'উমার ইবনুল খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “কাফিররা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে এ আশঙ্কা থাকলে সালাত কসর করে আদায় করতে তোমাদের কোন দোষ হবে না"- (সূরাহ আন নিসা ৪ঃ ১০১)। কিন্তু এখন তো লোকেরা নিরাপত্তা লাভ করেছেন। (সুতরাং এখন কসর সালাত আদায় করার প্রয়োজন কী?) এ কথা শুনে উমার ইবনুল খাত্তাব বললেনঃ তুমি যে কারণে বিস্মিত হয়েছ আমিও ঠিক একই কারণে বিস্মিত হয়েছিলাম (অর্থাৎ আমিও কসর সালাত আদায়ের কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছিলাম না)। তাই উক্ত বিষয়ে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এটি তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সদাকাহ বা দান। সুতরাং তোমরা তার দেয়া সদাকাহ গ্রহণ কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৩, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আল মুকুদ্দামী (রহঃ) ..... ইয়া'লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রহঃ) বলেন- আমি উমর ইবনুল খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাক্কার কোন একটি পথে আসিম ইবনু উমার এর সাথে চলছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের সাথে করে যুহরের সালাত আদায় করলেন এবং মাত্র দু' রাক’আত আদায় করলেন। তারপর তিনি তার কাফিলার মধ্যে ফিরে আসলেন। আমরাও তার সাথে ফিরে আসলাম। তিনি সেখানে বসে পড়লে আমরাও তার সাথে বসে পড়লাম। এ সময় যে স্থানে তিনি সালাত আদায় করেছিলেন সে স্থানে তার দৃষ্টি পড়লে কিছু সংখ্যক লোককে সেখানে দাঁড়ানো দেখতে পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এরা ওখানে কী করছে? আমি বললাম, তার সুন্নাত পড়ছে। তিনি এ কথা শুনে বললেনঃ ভাতিজা, আমাদেরকে যদি সুন্নাত আদায় করতে হত তাহলে আমি ফারয (ফরয) সালাতও পূর্ণ আদায় করতাম। আমি সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে থেকে দেখেছি আমৃত্যু তিনি দু' রাকাআতের অধিক আদায় করেননি। আমি সফরে আবূ বকরের সাথে থেকে দেখেছি আল্লাহ তাকে ওফাত দান না করা পর্যন্ত তিনি দু' রাকাআত সালাত আদায় করেছেন। আমি সফরে উমারের সাথে দেখেছি তিনি দু' রাকাআত সালাতই আদায় করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ "আল্লাহর রসূলের জীবনে তোমাদের অনুসরণের উত্তম নমুনা রয়েছে"- (সূরাহ আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৪৪৯, ইসলামীক সেন্টার)