আবূ কুরায়ব ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উচ্চস্বরে ডাকল। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। সে বললঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি রাতের সালাত কীভাবে বিতর বা বেজোড় সালাত আদায় করব? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন কেউ রাতে (নাফল) সালাত আদায় করলে দু' রাকাআত দু' রাকাআত করে আদায় করবে। অতঃপর ভোর হওয়ার আভাস পেলে এক রাকাআত সালাত আদায় করে নিবে। এ এক রাকাআত সালাত সে যত সালাত আদায় করছে সেগুলোকে বিতর বা বেজোড় করে দিবে। আবূ কুরায়ব তার বর্ণনায় 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর নাম উল্লেখ না করে উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩০, ইসলামীক সেন্টার)
খালাফ ইবনু হিশাম ও আবূ কামিল (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের সালাতের পূর্বের দু' রাকাআত সালাতে আমি কিরাআত দীর্ঘায়িত করে থাকি- এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আনাস ইবনু সীরীন বলেন- এ সময় আমি বললামঃ আমি তো আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করছি না। (আমার এ কথা বলার পর) তিনি বললেনঃ তুমি তো মোটা বুদ্ধির লোক দেখছি! তুমি কি আমাকে হাদীসটা (পুরো) বলতে দিবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং পরে এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আর ফজরের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত নফল এমনভাবে আদায় করতেন যেন তিনি ইকামাত' বা তাকবীর শুনতে পাচ্ছেন। খালাফ ইবনু হিশাম তার বর্ণনাতে “ফজরের পূর্বের দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে আপনার মতামত কী” কথাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি 'সালাত’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩১, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম" ..... পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে তার বর্ণনাতে তিনি এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, আর তিনি রাতের শেষভাগে এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। তার বর্ণনাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু উমার বললেনঃ আরে থামো থামো! তুমি তো মোটা বুদ্ধির লোক দেখছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রাতের সালাত (নফল সালাত) দু' রাকাআত করে আদায় করবে। তবে যখন দেখবে যে, সকাল হয়ে যাচ্ছে তখন এক রাকাআত বিতর আদায় করবে। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করা হ'ল- দু' দু' রাকাআত কীভাবে আদায় করতে হবে? তিনি বললেনঃ প্রতি দু' রাকাআত আদায় করে সালাম ফিরাবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1764 — Sahih Muslim 6:193
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا " .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ রাতে জাগতে পারবে না বলে কারো আশঙ্কা হলে সে যেন রাতের প্রথমভাগেই (ইশার সালাতের পর) বিতর আদায় করে নেয়। আর কেউ যদি শেষ রাতে জাগতে আগ্রহী থাকে (অর্থাৎ শেষ রাতে জগতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারে) তাহলে সে যেন শেষভাগে বিতর আদায় করে নেয়। কেননা শেষ রাতের সালাতে (মালাকগণের) উপস্থিতি থাকে। আর এটাই সর্বোত্তম ব্যবস্থা। হাদীসটি বর্ণনাকারীর আবূ মু'আবিয়াহ مَشْهُودَةٌ শব্দের পরিবর্তে مَحْضُورَةٌ শব্দ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৬ ইসলামীক সেন্টার)
সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যদি শেষ রাতে জগতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে তাহলে বিতর সালাত আদায় করে ঘুমাবে। আর যার শেষরাতে জাগতে পারার আত্মবিশ্বাস বা নিশ্চয়তা আছে সে শেষ রাতে বিতর আদায় করবে। কেননা শেষ রাতের কুরআন পাঠে মালায়িকাহ উপস্থিত থাকে। আর এটা সর্বাপেক্ষা উত্তমও বটে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1768 — Sahih Muslim 6:197
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصَّلاَةِ طُولُ الْقُنُوتِ " .
আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কিরআত পড়া হয় সে সালাতই সর্বোত্তম সালাত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও কুরায়ব (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ কোন সালাত সবচেয়ে উত্তম? জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে যে সালাত আদায় করা হয় সে সালাত সবচেয়ে উত্তম। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ বলেছেন যে, হাদীসটি আবূ মু'আবিয়াহ আ'মাশের নিকট থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩৯, ইসলামীক সেন্টার)