যুহারর ইবনু হারব, উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে সালাত আদায় করার সময় (বৈঠকে) বলতাম, আল্লাহর উপর সালাম হোক, অমুকের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বললেনঃ বস্তুত আল্লাহ নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। অতএব তোমাদের কেউ যখন সালাতে বসে সে যেন বলে, "আত্তাহিয়াতু লিল্লা-হি ওয়াস্ সলাওয়া-তু ওয়াত তাইয়িবা-তু আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়্যু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকুহু আসসালা-মু 'আলাইনা- ওয়া'আলা- ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন" অর্থাৎ "যাবতীয় মান-মর্যাদা, প্রশংসা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক।” যখন সে এ কথাগুলো বলে, তখন তা আল্লাহর প্রতিটি নেক বান্দার কাছে পৌছে যায়, সে আসমানে বা জমিনেই থাক। (অতঃপর বলবে) "আশ্বহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারসূলুহু" অর্থাৎ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তার বান্দা ও রাসূল।" অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দু'আ পড়তে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মানসূর (রহঃ) হতে উল্লেখিত সূত্রে একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় "অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন দু'আ পড়তে পারে" এ কথাটুকু উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবদ ইবনু হুমায়দ এর সনদে মানসূর হতে একই হাদীস অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় শেষ অংশ হচ্ছেঃ অতঃপর সালাত আদায়কারী তার ইচ্ছানুযায়ী অথবা নিজের পছন্দমত যে কোন দু’আ পড়তে পারে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সালাতের মধ্যে বসতাম... মানসূরের হাদীসের অনুরূপ। এর শেষাংশের বর্ণনা হলোঃ তারপর সে যে কোন দু'আ পাঠ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হাত তার উভয় হাতের মধ্যে নিয়ে আমাকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিয়েছেন, যেভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন, (অধস্তন রাবী আবদুল্লাহ ইবনু সাখবারাহ বলেন), অন্যান্যরা যেরূপ তাশাহহুদের বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি (ইবনু মাসউদ) অনুরূপ তাশাহ্হুদের বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেনঃ আত্তাহিয়্যা-তুল মুবা-রাকা-তুস্ সলাওয়া-তুত তাইয়্যিবা-তু লিল্লা-হিস্ সালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান্ নাবিইয়্যু ওয়ারহমাতুল্ল-হি ওয়াবারাকা-তুহ আসসালা-মু 'আলাইনা ওয়া'আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন, আশ্হাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্ল-হ। অর্থাৎ "যাবতীয় সম্মান ও মর্যাদা, প্রাচুর্য, প্রশংসা এবং পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী। আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত এবং বারাকাত অবতীর্ণ হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।" ইবনু রুমহ এর বর্ণনায় আছেঃ তিনি যেভাবে আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 903 — Sahih Muslim 4:65
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ .
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন, সেভাবেই আমাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
সাঈদ ইবনু মানসূর, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ কামিল আল জাহদারী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী (রহঃ) ... হিত্তান ইবনু আবদুল্লাহ আর রাকাশী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহ্হুদে বসলেন, জামা'আতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, সালাত পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে। রাবী বলেন, আবূ মূসা (রাযিঃ) সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নীরব থাকল। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন, হে হিততান সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি (হিত্তান) বললেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্য রেগে যান কি-না! এমন সময় লোকেদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি বলল, আমি এরূপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম। আবূ মূসা (রাযিঃ) বললেন, নিজেদের সালাতের মধ্যে কী বলতে হবে তা কি তোমরা জান না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সালাত আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন সালাত আদায় করবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে। সে যখন “গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওয়ালায যোল্লীন" বলবে তোমরা তখন আমীন বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। সে যখন তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকু’তে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ইমাম যেমন রুকু সাজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলবে, তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বলবে, আল্লাহ তোমাদের এ কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষায় বলছেনঃ "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" (আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। সে যখন তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে, তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সিজদা থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের তাকবীর ও সিজদা ইমামের পরে হবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ আত্তাহিয়াতুত তাইয়্যিবা-তুস্ সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান নবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ আসসালামু 'আলাইনা- ওয়া'আলা- ইবা-দিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ।" অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতসমূহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর দাস ও তাঁর দূত।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর আবূ শাইবাহ, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ….. কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রেও একই হাদীস বর্ণনা হয়েছে। জারীর সুলাইমানের সূত্রে কাতাদার এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় আরো আছে, ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা তখন চুপ থাক। আবূ আওয়ানার সূত্রে কেবল আবূ কামিলের বর্ণনা ছাড়া আর কোন রাবীর বর্ণনায় এ কথাগুলো নেইঃ মহান আল্লাহ তার নবীর কণ্ঠে বলছেন, "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ"। আবূ ইসহাক বলেন, আবূ নাযর-এর বোনের ছেলে আবূ বকর বলেছেন, এ হাদীসটির সমালোচনা করা হলে ইমাম মুসলিম তাকে বললেন, সুলাইমানের চেয়েও কি বড় হাফিয কেউ আছে? আবূ বাকর তাকে বললেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এ বর্ণনা সম্পর্কে আপনার কী মত? তিনি বললেন, তার বর্ণনা সহীহ ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা চুপ থাক। ইমাম মুসলিম বলেন, এ হাদীস আমার মতে সহীহ। আবূ বাকর বললেন, তাহলে আপনার কিতাবে তা যোগ করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি যেটা সহীহ মনে করি শুধু তাই আমার কিতাবে লিপিবদ্ধ করা জরুরী মনে করি না। বরং যেসব হাদীস সহীহ বলে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমি কেবল তাই আমার কিতাবে সংকলন করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 906 — Sahih Muslim 4:68
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ " فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَضَى عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " .
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষায় বলেনঃ "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শুনেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)