ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (কোন এক সফরে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি কোন এক জাতির ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা এসে পৌছলেন। অতঃপর সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন, আমি তখন দূরে সরে গেলাম। তিনি বললেন, কাছে এসো। আমি তার নিকটে গেলাম এমনকি একেবারে তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি ওযু করলেন। অতঃপর তার উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা (রাযিঃ) প্রস্রাবের ব্যাপারে খুবই কঠোরতা অবলম্বন করতেন। তিনি একটি বোতলে প্রস্রাব করতেন এবং বলতেন, বনী ইসরাঈলদের কারো চামড়ায় (পরিধেয় বস্ত্রে) যদি প্রস্রাব লাগত তখন কাচি দিয়ে সে স্থান কেটে ফেলত। অতঃপর হুযাইফাহ (রাযিঃ) এ কথা শুনে বললেন, আমি চাই যে, তোমাদের সঙ্গী (আবূ মূসা) এ ব্যাপারে এত কঠোরতা না করলেই ভাল হত। (কারণ) একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে পথে চলছিলাম। তিনি একটি দেয়ালের পিছনে জনৈক জাতির আবর্জনা ফেলার জায়গায় পৌছলেন। অতঃপর তোমরা যেমনভাবে দাঁড়াও, তেমনি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। আমি তার থেকে দূরে সরে ছিলাম। তিনি আমার দিকে ইশারা করলেন অতঃপর আমি বললাম এবং একেবারে তার পিছনে এসে দাঁড়ালাম। তিনি তার প্রয়োজন শেষ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ইবনু আল মুহাজির (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজাত (প্রাকৃতিক প্রয়োজন) পূরণের জন্যে বের হলেন তারপর মুগীরাহ (রাযিঃ) একটি পানি ভর্তি বদনা নিয়ে তার অনুসরণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজাত শেষ করলে তিনি তাকে পানি ঢেলে দিলেন। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং উভয় মোজার ওপর মাসাহ করলেন। ইবনু রুমহ-এর বর্ণনায় حِينَ যখন শব্দের স্থলে যে পর্যন্ত حَتَّى শব্দের উল্লেখ রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
এ হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনু আল মুসান্না (রহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি তার মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মাসাহ করলেন। তারপর উভয় মোজার ওপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... মুগীরাহ্ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ তিনি এক স্থানে থেকে হাজাত পূরণ করলেন। এরপর ফিরে এলেন এবং আমার কাছে রাখা একটি বদনা থেকে আমি তার দিকেও পানি ঢেলে দিলাম। তিনি ওযু করলেন এরপর তার উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫১৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেন, মুগীরাহ বদনা (সঙ্গে) নাও। আমি বদনা (সঙ্গে) নিলাম। তারপর তার সাথে বেরিয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁটতে হাঁটতে আমার থেকে আড়ালে চলে গেলেন। তারপর তিনি তার হাজাত পূরণ করলেন ও ফিরে এলেন। তখন তার গায়ে ছিল একটি শামী জুব্বা যার আস্তিন ছিল চাপা (অপ্রশস্ত)। তিনি আস্তিন থেকে তার হাত বের করার চেষ্টা করছিলেন কিন্তু (অপ্রশস্ত হবার কারণে) তা আটকে গেল। অতঃপর তিনি জুব্বার নিচ থেকে তার হাত বের করলেন। আমি তার ওপর পানি ঢেলে দিলাম। তিনি সালাতের জন্যে যেমন ওযু করা হয়- তেমনি ওযু করলেন। তারপর তার উভয় মোজার ওপর মাসাহ করে সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) হতে রণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজাত পূরণের জন্যে বের হলেন। (হাজাত শেষে) তিনি যখন ফিরে এলেন তখন লোটা নিয়ে আমি তার কাছে গেলাম। আমি তাকে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি তার উভয় হাত ধুলেন। তারপর মুখমণ্ডল ধুলেন। তারপর উভয় বাহু ধোয়ার ইচ্ছা করলেন; কিন্তু জুব্বায় (অপ্রশস্ততার কারণে) তা আটকে গেল। তিনি জুব্বার নিচ দিয়ে বের করে উভয় বাহু ধুয়ে ফেললেন এবং মাথা মাসাহ করলেন ও উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন এবং আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সফরে এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন, “তোমার সাথে কি পানি আছে"? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তার সওয়ারী থেকে নেমে পড়লেন। তারপর হাঁটতে হাঁটতে রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন। তখন আমি বদনা থেকে তাকে পানি ঢেলে দিলাম। তিনি তার মুখমণ্ডল ধুলেন তখন তার গায়ে ছিল একটি পশমের জুব্বা। তিনি তা থেকে হাত বের করতে না পেরে জুব্বার নীচ দিয়ে বের করলেন। তারপর তার উভয় বাহু ধুলেন এবং মাথা মাসাহ করলেন। আমি তার উভয় মোজা খুলে দিতে চাইলাম। কিন্তু (বাধা দিয়ে) তিনি বললেন, ওভাবেই থাকতে দাও। কারণ আমি ও দু'টি পবিত্র অবস্থায় পায়ে দিয়েছি। (এই বলে) তিনি তার উভয় মোযার ওপর মাসাহ করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ওযু করালেন। তিনি ওযু করলেন এবং উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। মুগীরাহ (রাযিঃ) বলেন, তারপর তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এ দু'টিকে পবিত্রাবস্থায় পরেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বায়ী (রহঃ) ..... মুগীরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (এক সফরে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছে রয়ে গেলেন। আমিও তার সাথে পিছনে পড়লাম। তিনি হজ্জত পূরণ করে বললেন, তোমার সাথে কি পানি আছে? আমি একটি পানির পাত্র নিয়ে এলাম। তিনি উভয় হাতের কজি পর্যন্ত এবং মুখমণ্ডল ধুলেন তারপর উভয় বাহু বের করতে চাইলেন; কিন্তু জোব্বার আস্তিনে আটকে গেল। এতে জুব্বার নীচ থেকে তিনি হাত বের করলেন এবং জুব্বাকে কাঁধের উপর রেখে দিলেন। উভয় হাত তিনি ধুলেন, মাথার সম্মুখভাগ এবং পাগড়ি ও উভয় মোজার উপর মাসাহ করলেন। তারপর তিনি সওয়ার হলেন এবং আমিও সওয়ার হলাম। আমরা যখন আমাদের জাতির কাছে পৌছলাম তখন তারা সালাত আদায় করছিল। 'আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) তাদের সালাতে ইমামতি করছিলেন। তিনি তাদেরকে নিয়ে এক রাকাআত পড়ে ফেলেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমন টের পেয়ে তিনি পিছিয়ে আসছিলেন; কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (সেখানে থাকতে) ইশারা করলেন। এতে তিনি (আবদুর রহমান ইবনু আওফ) তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি যখন সালাম ফিরালেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। তারপর আমাদের থেকে যে রাকাআত ছুটে গিয়েছিল তা পূর্ণ করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৫২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)