আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ্ ইবনু কানাব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, অন্যান্য মহিলাদের উপর আয়িশাহর মর্যাদা সকল খাদ্যের উপর "সারীদের" শ্রেষ্ঠত্বের মতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6300 — Sahih Muslim 44:130
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَفِي حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ .
(…/...) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) এর সানাদে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অবিকল রিওয়ায়াত করেন। তাদের উভয়ের হাদীসে "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি" এ কথা নেই। ইসমাঈলের হাদীসে "আনাস (রাযিঃ) হতে শ্রবণ করেছি" আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮১, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক (রহঃ) ..... যাকারিয়া (রহঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6304 — Sahih Muslim 44:134
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَائِشُ هَذَا جِبْرِيلُ يَقْرَأُ عَلَيْكِ السَّلاَمَ " . قَالَتْ فَقُلْتُ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ . قَالَتْ وَهُوَ يَرَى مَا لاَ أَرَى .
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াতকৃত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আয়িশাহ! এই যে জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম বলছেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, ওয়া আলাইহিস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ- তার উপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তারপর আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, তিনি তো এমন কিছু লক্ষ্য করেন যা আমি দেখতে পাই না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
‘আলী ইবনু হুজুর সা’দী ও আহমাদ ইবনু জানাব (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগারজন মহিলা একত্রে বসে অঙ্গীকার ও চুক্তিবদ্ধ হলো যে, তারা নিজ নিজ স্বামীর বিষয়ে কিছুই গোপন করবে না। প্রথম মহিলা বললঃ আমার স্বামী দুর্বল উটের গোশতের মতো, যা দুর্গম এক পর্বতের চূড়ায় রক্ষিত। না ওখানে আরোহণ করা সম্ভব আর না এমন মোটা তাজা যা সংরক্ষণ করা যায়। দ্বিতীয় মহিলা বললঃ আমি আমার স্বামীর সংবাদ প্রকাশ করতে পারব না। আমার আশঙ্কা হয়, আমি তাকে ছেড়ে না দেই। আমি যদি তার বর্ণনা দিতে যাই তবে তার প্রকাশ্য ও গোপনীয় সব ক্রটিই উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয় মহিলা বললঃ আমার স্বামী খুব লম্বা। ওর ক্রটি বললে আমি ত্যাজ্য হবো, আর চুপ থাকলে ঝুলে থাকবো। চতুর্থ মহিলা বললঃ আমার স্বামী তিহামাহ্-এর রাত্রের মতো। নাতিশীতোষ্ণ (গরমও নয় আর ঠাণ্ডাও নয়) ভয়ও নেই, ক্লান্তিও নেই। পঞ্চম মহিলা বললঃ আমার স্বামী যখন গৃহে প্রবেশ করে তখন চিতা বাঘ, আর যখন বাইরে যায় তখন সিংহ। সংরক্ষিত ধন-সম্পদ নিয়ে সে কোন প্রশ্ন করে না। ষষ্ঠ মহিলা বললঃ আমার স্বামী খেতে বসলে সব খেয়ে ফেলে, পান করলে একেবারে শেষ করে ফেলে। আর ঘুমাতে গেলে একেবারে হাত পা গুটিয়ে নেয়। আমার প্রতি হাত বাড়ায় না, যাতে আমার অবস্থা বুঝতে পারে। সপ্তম মহিলা বললঃ আমার স্বামী বোকা, অক্ষম ও বোবার মতো। সব ক্রটিই তার মধ্যে বিদ্যমান। ইচ্ছা করলে তোমার মাথায় আঘাত করবে কিংবা গায়ে মারবে অথবা উভয়টিই একত্রে সংঘটিত করবে। অষ্টম মহিলা বললঃ আমার স্বামীর 'যারনাব' নামক সুগন্ধির মতো, তার খরগোশের স্পর্শের ন্যায় কোমল। নবম মহিলা বললঃ আমার স্বামী এমন যার প্রাসাদের খুঁটিগুলো সুউচ্চ, তরবারির খাপগুলো দীর্ঘ, বাড়ীর উঠোনে অধিক ছাই। মজলিসের পাশেই তার গৃহ। দশম মহিলা বললঃ আমার স্বামী মালিক। আর মালিক এর কথা কি বলব, আমার এ প্রশংসার চেয়ে তিনি আরো শ্রেষ্ঠ। তার রয়েছে অনেক উট, উটশালায় উটের সংখ্যা অনেক, তবে চারণভূমিতে তার সংখ্যা কম। উটেরা যখন বাদ্য-বাজনার আওয়াজ শোনে তখন নিজেদের যাবাহের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে পড়ে। একাদশ মহিলা বললঃ আমার স্বামীর নাম আবূ যার'ই। কী চমৎকার আবূ যার'ই। অলংকার দিয়ে সে আমার দু’কান বুলিয়ে দিয়েছে, বাহুদ্বয় ভরপুর করেছে চর্বিতে। আমাকে মর্যাদা দিয়েছে, আমিও নিজেকে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করছি। সে আমাকে পাহাড়ের কিনারায় ভেড়া ও বকরীওয়ালাদের ভিতরে পেয়েছিল। তারপর সে আমাকে উট, ঘোড়া, জমি-জমা ও ফসলাদির অধিকারী বানিয়েছে। তার নিকট আমি কথা বললে সে তা ফেলে না। আমি শুইলে ভোর পর্যন্ত শুয়ে থাকি আর পান করলে আত্মতৃপ্ত লাভ করি। আবূ যার'ই এর মা, কতই না ভালো আবূ যার'ই এর মা। তার সম্পদ-কোষ অনেক বড় আকারের। তার কুঠরী প্রশস্ত। আবূ যার'ই এর ছেলে, কত ভালো আবূ যার'ই এর ছেলে, তার শয্যা যেন তলোয়ারের কোষ। বকরির একটি হাতা খেয়েই সে তৃপ্তি বোধ করে। আবূ যার'ই এর মেয়ে, কতই না ভাল আবূ যার'ই এর মেয়ে। সে তার বাবা মায়ের অনুগত পোশাক পরিচ্ছদে ভরপুর তার প্রতিবেশীদের ঈর্ষার পাত্র। আবূ যার'ই এর দাসী, কতই না ভালো আবূ যার'ই এর দাসী। আমাদের কথা বলে বেড়ায় না। আমাদের খাদ্য বিনষ্ট করে না, বাড়ী-ঘর ময়লাস্তুপে পরিণত করে না। উম্মু যার'ই বলেন, একদিন আবূ যার'ই বাইরে বের হলেন। তখন আমাদের অবস্থা ছিল এই যে, বড় বড় দুধের মাখন উঠিয়ে নেয়া হত। সে সময় জনৈক নারীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার সঙ্গে ছিল দু’টো শিশু। শিশু দু’টো ছিল দু’টো চিতার মতো। তারা তার কোলের নীচ দিয়ে দুটি ডালিম নিয়ে খেলা করছিল। তখন আবূ যার'ই আমাকে তালাক দেয় এবং সে মহিলাকে বিবাহ করে। এরপর আমি জনৈক লোককে বিয়ে করলাম। সে ছিল সরদার, খুব ভালো ঘোড় সওয়ার ও বর্শা ধারণকারী। সে আমার আস্তাবলে বহু চতুস্পদ জন্তু জড়ো করে প্রত্যেক প্রকার হতে সে আমাকে একেক জোড়া দান করে এবং সে আমাকে বলে, হে উম্মু যার'ই! তুমি খাও এবং তোমার আপনজনকে বিলিয়ে দাও। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী আমায় যা কিছু দিয়েছে তার সব যদি জমা করি তবুও আবূ যার'ই এর ছোট্ট একটি পাত্রের সমতুল্য হবে না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার জন্য আমি উম্মু যার'ই এর জন্য আবূ যার'ই-এর ন্যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাসান ইবনু ‘আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... হিশাম ইবনু উরওয়াহ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত সূত্রে রিওয়ায়ত করেছেন। কিন্তু তাতে নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম এতটুকু রয়েছে যে, عَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ। আরো আছে قَلِيلاَتُ الْمَسَارِحِ এবং রয়েছে وَصِفْرُ رِدَائِهَا وَخَيْرُ نِسَائِهَا وَعَقْرُ جَارَتِهَا (অর্থাৎ তার চাদর হলদে রংয়ের চাদর বিশিষ্ট, অন্যান্য মহিলার মতো ছিল শ্রেষ্ঠ, সতীনের ঈর্ষার পাত্রী এবং বলেছেন لاَ تَنْقُثُ مِيرَتَنَا সে আমাদের খাদ্যদ্রব্য বৃথা নস্ট করে না। আরো বলেছেনأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ ذَابِحَةٍ زَوْجًا 'প্রত্যেক উপাদেয় বস্তু হতে আমাকে একজোড়া দিয়েছে'। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস ও কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিম্বারের উপর থেকে বলতে শুনেছেন, হিশাম ইবনু মুগীরার ছেলেরা আমার নিকট অনুমতি চেয়েছে যে, তাদের কন্যাকে ‘আলী ইবনু আবূ তালিবের নিকট তারা বিবাহ দিতে চায়। আমি তাদের অনুমতি দিব না, আমি তাদের দিব না, আমি তাদের দিব না। কিন্তু যদি আলী ইবনু আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দিয়ে তাদের মেয়েকে বিবাহ দিতে চায়, সেটা আলাদা কথা। কারণ আমার কন্যা আমারই একটা অংশ। যা তাকে সম্মানহানি করে তা আমাকেও সম্মানহানি করে, তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6308 — Sahih Muslim 44:138
حَدَّثَنِي أَبُو مَعْمَرٍ، إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْهُذَلِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي يُؤْذِينِي مَا آذَاهَا " .
(…) আবূ মা'মার ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম হুযালী (রহঃ) ..... মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাযিঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফাতিমাহ আমারই অংশবিশেষ, তাকে যা কষ্ট দেয় তা আমার প্রতিও কষ্টদায়ক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৮৭, ইসলামিক সেন্টার)