মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূল আহওয়াস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু মাসউদের ইন্তিকালের সময় আমি আবূ মাসউদ ও আবূ মূসার কাছে ছিলাম। তারা একজন অপরজনকে বললেন, কি মনে হয়, তার মতো আর কাউকে কি ছেড়ে গেছেন? অন্যজন বললেন, তুমি এ কথা বলছো, তার অবস্থায়ই এমন ছিল যে, যখন আমাদের বাধা দেয়া হতো তখনও তাকে অনুমতি দেয়া হতো; আমরা উপস্থিত থাকতাম না আর সে উপস্থিত থাকতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১০৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... আবূল আহওয়াস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের সাথীদের একটি দলের সঙ্গে আবূ মূসার গৃহে ছিলাম। 'আবদুল্লাহ কতিপয় সাহাবীর সাথে তারা একটি কুরআন মাজীদ দেখছিলেন। আবদুল্লাহ উঠে দাঁড়ালেন। তখন আবূ মাসউদ বললেন, আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব সম্বন্ধে দণ্ডায়মান লোকের চেয়ে অধিক পরিজ্ঞাত কোন লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেখে গেছেন বলে আমি জানি না। আবূ মূসা (রাযিঃ) বললেন, যদি আপনি এ কথা বলেন তবে তার কারণ, তার অবস্থা এই ছিল যে, আমরা যখন উপস্থিত থাকতাম না তখন সে থাকতো উপস্থিত, আর যখন আমাদের বাধা দেয়া হতো, তখন তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হতো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১০৭, ইসলামিক সেন্টার)
কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) ..... আবূল আহওয়াস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসার কাছে আসলাম। তখন আবদুল্লাহ ও আবূ মূসাকে পেলাম ..... আবূ কুরায়ব সানাদে যায়দ ইবনু ওয়াহব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হুযাইফাহ্ ও আবূ মূসার সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তারপর হাদীসের অবশিষ্টাংশ রিওয়ায়াত করেছেন এবং কুতাইবাহ বর্ণিত হাদীস পরিপূর্ণ ও বেশি আস্থাশীল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১০৮, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6332 — Sahih Muslim 44:162
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ { وَمَنْ يَغْلُلْ يَأْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} ثُمَّ قَالَ عَلَى قِرَاءَةِ مَنْ تَأْمُرُونِي أَنْ أَقْرَأَ فَلَقَدْ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِضْعًا وَسَبْعِينَ سُورَةً وَلَقَدْ عَلِمَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي أَعْلَمُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ وَلَوْ أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا أَعْلَمُ مِنِّي لَرَحَلْتُ إِلَيْهِ . قَالَ شَقِيقٌ فَجَلَسْتُ فِي حَلَقِ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَرُدُّ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَلاَ يَعِيبُهُ .
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হান্যালী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আর যে লোক কোন কিছু আত্মসাৎ করবে কিয়ামতের দিন তা নিয়ে সে উপস্থিত হবে”— (সূরাহ আ-লি ইমরান ৩ঃ ১৬১)। তারপর বললেন, তোমরা আমাকে কার মতো তিলাওয়াতের কথা বলো? আমি তো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে সত্তরের উর্ধ্বে সূরা তিলাওয়াত করেছি। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহাবাগণ জানেন যে, আমি তাদের মাঝে কুরআন সম্বন্ধে সর্বাধিক জানি। যদি আমি জানতাম যে, আর কেউ আমার তুলনায় অধিক কুরআন জানে তবে আমি তার দিকে উটে সওয়ার হয়ে তার কাছে যেতাম। শাকীক (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের একাধিক বৈঠকে বসেছি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের এ কথাকে বাতিল করতে কাউকে শুনিনি এবং তার উপর দোষারোপ করতেও শুনিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১০৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই তার কসম! আল্লাহর কিতাবে এমন কোন সূরা নেই যা নাযিল হওয়ার জায়গার ব্যাপারে আমি না জানি, এরূপ কোন আয়াত নেই যার নাযিল হওয়ার স্পষ্ট কারণ আমার অজানা। যদি আমি এমন কোন লোককে জানতাম যিনি আমার তুলনায় অধিক কুরআন জানেন এবং তার নিকট উট যেতে পারে, তবে আমি তার নিকট যাওয়ার জন্য উটে আরোহণ করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু আমরের নিকট গিয়ে তার সাথে কথোপকথন করতাম। একদা আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের বর্ণনা করলাম, তিনি বললেন, তোমরা এরূপ এক লোকের বর্ণনা করেছে, যাকে অত্র হাদীস শুনার পর হতে আমি ভালবেসে আসছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি তোমরা চারজনের নিকট কুরআন শিখ। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, মুআয ইবনু জাবাল, উবাই ইবনু কা'ব ও আবূ হুযইফাহর ক্রীতদাস সালিমের নিকট হতে। এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম আবদুল্লাহর নাম বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১১, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, যুহায়র ইবনু হারব ও উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) এর নিকট ছিলাম। তখন আমরা ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) এর একটি হাদীসের বর্ণনা করি। এমন সময় 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) বললেন, তিনি ঐ লোক যাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি কথা শুনার পর হতে ভালবেসে আসছি। আমি তাকে বলতে শুনেছি, তোমরা চার লোকের নিকট থেকে কুরআন শিক্ষা গ্রহণ কর। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, তার নামই প্রথমে বললেন এবং উবাই ইবনু কা'ব, সলিম আবূ হুযাইফাহর ক্রীতদাস ও মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ)। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ)-এর বর্ণনায়ঃ يَذْكُرْهُ শব্দটি উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১২, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রাযিঃ) থেকে জারীর ও ওয়াকীর সানাদে আবূ মু'আবিয়াহ্ হতে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর বর্ণিত সূত্রে মুআয ইবনু জাবালকে উবাইয়ের আগে এনেছে। আর আবূ কুরায়বের বর্ণনায় উবাই এর নাম মুআয (রাযিঃ) এর নামের আগে এসেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১৩, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) ইবনুল মুসান্না ইবনু বাশশার ও বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রাযিঃ) হতে তাদের সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন, তবে তাদের মাঝে শু'বার সূত্রে চার (সহাবার) নামের ক্রমধারায় পার্থক্য রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তারা ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) এর সম্মুখে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কথা উল্লেখ করলে তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা শুনার পর হতে আমি ঐ ব্যক্তিটিকে ভালবেসে আসছি, "চারজনের নিকট হতে তোমরা কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করে- ইবনু মাসউদ, আবূ হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালিম, উবাই ইবনু কা'ব ও মুআয ইবনু জাবাল (রাযিঃ)।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১১৫, ইসলামিক সেন্টার)