আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব ও আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান (রাযিঃ) রিওয়ায়াত করেন যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) বলেছেন, তোমরা বলাবলি করছ যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বেশি সংখ্যক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। হাদীসের অবশিষ্টাংশ তাদের বর্ণিত হাদীসের অবিকল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৭৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ..... আলী (রাযিঃ) এর কাতিব উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি (রহঃ) রিওয়ায়াত করেন যে, তিনি আলী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যুবায়র ও মিকদাদ (রাযিঃ) কে (বিশেষ কাজে) প্রেরণ করে বললেনঃ তোমরা দ্রুত 'রাওযায়ে খাখ' (মাদীনার সন্নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম) যাও। সেখানে উষ্ট্রারোহিণী এক নারী রয়েছে তার কাছে একটি গোপনীয় পত্র রয়েছে। তোমরা তার নিকট হতে সেটা নিয়ে এসো। আমরা ঘোড়ার পৃষ্ঠে আরোহিত হয়ে ছুটে চললাম। সেখানে আমরা জনৈক নারীকে দেখতে পেলাম। আমরা তাকে বললাম, পত্র বের করে দাও। সে বলল, আমার নিকট কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তোমাকে পত্র বের করতেই হবে, আর না হলে গায়ের বস্ত্র খুলতে বাধ্য হব। তারপর সে তার চুলের বেণীর মাঝখান থেকে পত্র বের করে দিল। তখন আমরা তা নিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। পত্র খুলে দেখা গেল যে, তা হাতিব ইবনু আবূ বালতা (রাযিঃ) এর পক্ষ হতে মাক্কার কতিপয় মুশরিকের প্রতি লিখিত একটি চিঠি ছিল। তিনি এ চিঠিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতক গুরুত্বপূর্ণ কাজের লুকানো তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে হাতিব! তুমি এমন কাজ কেন করলে? সে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে অনুগ্রহ করে দ্রুত রায় ঘোষণা করবেন না। আমি এমন একজন লোক, কুরায়শদের সঙ্গে যার সম্পর্ক রয়েছে (কিন্তু আমি তাদের বংশের কেউ নেই)। সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, তিনি তাদের মিত্র ছিলেন, কিন্তু তাদের (বংশোদ্ভূত) গোত্রভুক্ত ছিলেন না। আর আপনার মুহাজির সাহাবীদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন সেখানে আছে, যাদের মাধ্যমে তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। তাই আমি স্থির করলাম যে, কুরায়শদের সাথে যখন আমার কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই তখন এমন কোন কাজ করি যার দ্বারা আমার পরিবার-পরিজন মুক্তি পেতে পারে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির হয়ে গেছি অথবা মুরতাদ হয়েছি দীন থেকে। আর আমি ইসলাম কবুলের পরে কুফরের প্রতি আসক্ত হইনি। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে সত্যই বলেছে। উমার (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান কেটে দিব। তখন তিনি বললেন, সে তো বাদর যুদ্ধে শারীক হয়েছিল এবং তুমি কি জান না যে, আল্লাহ বাদরী সাহাবীদের সম্পর্কে অধিক অবহিত আছেন। তিনি বলেছেনঃ “তোমরা যা খুশী করতে পারো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।” এরপর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- “হে মু’মিনগণ! আমার ও তোমাদের শক্রকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে না”— (সূরাহ আল মুমতাহিনাহ্ ৬০ঃ ১)। আবূ বকর ও যুহায়র বর্ণিত হাদীসে আয়াতের বর্ণনা নেই। আর ইসহাক তার বর্ণনায় আয়াতটিকে সুফইয়ানের তিলাওয়াত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৭৬, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ‘আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং আবূ মারসাদ গানবী ও যুবায়র ইবনুল আওওয়াম (রাযিঃ) কে প্রেরণ করলেন। আমরা সকলে অশ্বারোহী ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা 'রাওযায়ে খাখ' নামক জায়গার দিকে রওনা হয়ে যাও। সেখানে এক মুশরিকা নারী রয়েছে। তার কাছে হাতিবের পক্ষ হতে মুশরিকদের নিকটে লেখা একটি পত্র রয়েছে। তারপর তিনি (বর্ণনাকারী) আলী (রাযিঃ) হতে উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ রাফি বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৭৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6403 — Sahih Muslim 44:234
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ عَبْدًا، لِحَاطِبٍ جَاءَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَشْكُو حَاطِبًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيَدْخُلَنَّ حَاطِبٌ النَّارَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَذَبْتَ لاَ يَدْخُلُهَا فَإِنَّهُ شَهِدَ بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَةَ " .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ...... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হাতিবের এক দাস রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে তার বিপক্ষে অভিযোগ উত্থাপন করল। সে বলল, হে আল্লাহর রসুল! হাতিব অবশ্যই জাহান্নাম ঢুকবে। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি মিথ্যা বলেছ, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। কারণ সে বদর যুদ্ধে ও হুদাইবিয়ার প্রান্তরে উপস্থিত হয়েছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৭৮, ইসলামিক সেন্টার)
হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন যে, আমাকে উম্মু মুবাশ্শার (রাযিঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হাফসাহ (রাযিঃ) এর নিকট বলতে শুনেছেন, আল্লাহ চান তো বৃক্ষের নীচে বসে বাই’আতে রিযওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের কেউই জাহান্নামে ঢুকবে না। তিনি (হাফসাহ) বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! (কেন যাবে না)। তখন তিনি তাকে নিন্দাবাদ করলেন। হাফসাহ্ (রাযিঃ) বলেছিলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, তোমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যে তা অতিক্রম না করবে অর্থাৎ- পুলসিরাত। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তো এও বলেছেনঃ “যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে আমি তাদের মুক্তি দিব এবং যালিমদেরকে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় রেখে দিব”— (সূরা মারইয়াম ১৯ঃ ৭১-৭২)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৭৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6405 — Sahih Muslim 44:236
حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، قَالَ أَبُو عَامِرٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا بُرَيْدٌ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ نَازِلٌ بِالْجِعْرَانَةِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ أَلاَ تُنْجِزُ لِي يَا مُحَمَّدُ مَا وَعَدْتَنِي فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْشِرْ " . فَقَالَ لَهُ الأَعْرَابِيُّ أَكْثَرْتَ عَلَىَّ مِنْ " أَبْشِرْ " . فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَبِي مُوسَى وَبِلاَلٍ كَهَيْئَةِ الْغَضْبَانِ فَقَالَ " إِنَّ هَذَا قَدْ رَدَّ الْبُشْرَى فَاقْبَلاَ أَنْتُمَا " . فَقَالاَ قَبِلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . ثُمَّ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ وَمَجَّ فِيهِ ثُمَّ قَالَ " اشْرَبَا مِنْهُ وَأَفْرِغَا عَلَى وُجُوهِكُمَا وَنُحُورِكُمَا وَأَبْشِرَا " . فَأَخَذَا الْقَدَحَ فَفَعَلاَ مَا أَمَرَهُمَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَادَتْهُمَا أُمُّ سَلَمَةَ مِنْ وَرَاءِ السِّتْرِ أَفْضِلاَ لأُمِّكُمَا مِمَّا فِي إِنَائِكُمَا . فَأَفْضَلاَ لَهَا مِنْهُ طَائِفَةً .
আবূ আমির আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেবায় ছিলাম। সে সময় তিনি মাক্কাহ ও মাদীনার মাঝামাঝি জিরানাহ নামধারী জায়গায় অবস্থান করছিলেন। তার সাথে বিলালও (রাযিঃ) ছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক আরব বেদুঈন এলো। সে বলল, হে মুহাম্মাদ। আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা কি পূরণ করবেন না? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি সুখবর গ্রহণ করো। তারপর সে তাকে (রসূলুল্লাহকে) বলল, আপনি তো অনেকবারই বলেছেনঃ "সুখবর গ্রহণ করো।" তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হয়ে আবূ মূসা ও বিলালের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, দেখো এ লোকটি সুখবর প্রত্যাখ্যান করেছে। অতএব তোমরা উভয়ে এগিয়ে এসো। তখন তারা উভয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা এগিয়ে এসেছি, আপনার সুখবর গ্রহণ করেছি। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তিনি তার দু' হাত ও মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং তাতে কুলি করলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমরা দু’জনে এ থেকে পানি পান করো এবং তোমাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে জড়িয়ে দাও। আর তোমরা দু’জনে সুখবর কবুল করো। তারা উভয়ে পেয়ালাটি গ্রহণ করলেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ মুতাবিক কাজ করলেন। তখন উম্মুল মু'মিনীন উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) পর্দার অন্তরাল হতে তাদের উভয়কে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্য তোমাদের পেয়ালায় কিছু পানি রেখে দাও। তারপর তারা অবশিষ্ট পানি হতে তাকে অল্প পরিমাণ দিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৮০, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ আবূ আমির আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) ..... আবূ বুরদাহ (রাযিঃ) এর পিতার সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হুনায়ন যুদ্ধ থেকে ফিরে আসেন তখন আবূ আমির (রাযিঃ) কে একটি বাহিনীর পরিচালনায় দিয়ে আওতাস অভিযানে পাঠান। তিনি দুরায়দ ইবনু সিম্মার পরস্পর একত্রিত হলেন। দুরায়দ ইবনু সিম্মাহ মৃত্যুবরণ করলো এবং আল্লাহ তার বাহিনীকে বিজিত করলেন। তারপর আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে আবূ আমিরের সাথে প্রেরণ করেছিলেন। আবূ আমিরের হাটুতে তীরের আঘাত লেগেছিল। বানী জুশাম সম্প্রদায়ের এক লোক সে তীরটি নিক্ষেপ করেছিল। এ তীরটি তার হাঁটুতে বিদ্ধ হয়েছিল। তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং বললাম, চাচাজান! কে আপনাকে তীর বিদ্ধ করেছে? তখন আবূ আমির এর ইঙ্গিতে আবূ মূসা (রাযিঃ)-কে জানালেন, ঐ আমার ঘাতক, যাকে তুমি দেখতে পাচ্ছ, সে আমাকে তীরবিদ্ধ করেছে। আবূ মূসা (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে আক্রমণ করে মারার ইচ্ছা পোষণ করলাম। আমি তার মুখোমুখি হলাম। সে আমাকে দেখামাত্র লুকিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাকে আক্রমণ করে বলছিলাম, হে বেহায়া, বেপরোয়া! পালাচ্ছ কেন? তুমি কি আরবীয় নও? বীরত্ব আছে তো দাঁড়িয়ে যাও, ভাগছো কেন? তখন সে থামল। তারপর সে ও আমি পরস্পর মুখোমুখি হলাম। আমরা পরস্পরে দু’বার পাল্টাপাল্টি আক্রমণ করলাম। আমি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে ধরাশায়ী করলাম এবং শেষাবধি মেরে ফেললাম। তারপর আমি আবূ আমির (রাযিঃ) এর নিকট প্রত্যাবর্তন করে বললাম, আল্লাহ আপনার ঘাতককে মেরে ফেলেছেন। তখন আবূ আমির (রাযিঃ) বললেন, এ তীরটি বের করে নাও। আমি তৎক্ষণাৎ তা বের করে ফেললাম। তখন তা থেকে পানি (রক্ত) বের হচ্ছিল। তারপর তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পপুত্র! তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাও এবং আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম পৌছে দিও। আর তার নিকট গিয়ে আবেদন করবে, আবূ আমির আপনাকে তার জন্য মাগফিরাতের দুআ চেয়েছেন। তিনি (আবূ মূসা) বলেন, উপস্থিত লোকদের সামনে আবূ আমির আমাকে এ দায়িত্ব দিলেন এবং কতক সময় স্থির থাকলেন। তারপর তিনি জান্নাতবাসীদের মধ্যে গণ্য হলেন। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম এবং তার সেবায় উপস্থিত হলাম। তখন তিনি চাটাইপাতা খাটের উপর ছিলেন এবং ঐ খাটের উপর চাদর ছিল না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পৃষ্ঠে ও পাঁজরে চাটাইয়ের চিহ্ন বসে গিয়েছিল। তারপর আমি তার নিকট আমাদের ও আবূ আমিরের সংবাদ দিলাম এবং আমি তাকে বললাম, তিনি (আবূ আমির) বলেছেন, তার জন্য আপনাকে মাগফিরাতের দু'আ কামনা করতে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনালেন এবং তা দ্বারা ওযু করলেন। তারপর দু'হাত তুলে বললেন, “হে আল্লাহ! উবায়দ আবূ আমিরকে ক্ষমা করে দাও।” তখন আমি তার দু' বগলের শুভ্রতা দেখছিলাম। পুনরায় তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! তাকে কিয়ামতের দিন তোমার মাখলুকের মাঝে কিংবা মানুষের মধ্যে অনেকের উপরে জায়গা দিও।” তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার জন্যও মাগফিরাতের দু'আ করুন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “হে আল্লাহ! আবদুল্লাহ ইবনু কায়সের গুনাহ মাফ করে দাও এবং তাকে কিয়ামতের দিনে সম্মানজনক জান্নাতে প্রবেশ করাও।” আবূ বুরদাহ (রাযিঃ) বলেন, একটি দু’আ আবূ আমিরের জন্য এবং অপরটি আবূ মূসা আশ'আরীর জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৮১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি অবশ্যই আশ'আরী বন্ধুদের কুরআন তিলাওয়াতের কণ্ঠস্বর দিয়ে বুঝতে পারি যখন রাতে তারা প্রবেশ করেন। আর রাতের বেলা তাদের কণ্ঠস্বরের দ্বারা তাদের আবাসস্থল চিহ্নিত করতে পারি যদিও দিনের বেলা আমি তাদের মনযিলসমূহ দেখিনি। তাদের মাঝে আছে একজন প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী লোক। যখন সে শক্রপক্ষের বাহন অথবা খোদ শক্রর মুখোমুখি করে তখন তাদের উদ্দেশে বলে, আমাদের লোকজন তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন, একটু অবকাশ দাও অথবা একটু অপেক্ষা করো। অর্থাৎ আমরাও তৈরি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৮২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ আমির আশ'আরী ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আশ'আরী সম্প্রদায়ের লোকজন যখন যুদ্ধের মাঠে উপস্থিত হয় কিংবা বলা হয়েছে মাদীনাতে তাদের পরিবার-পরিজনের যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয় তখন তাদের নিকট যা কিছু থাকে তা এক বস্ত্রে একত্রিত করে নেয়। তারপর তা নিজেদের একটি পেয়ালা দিয়ে সমভাবে ভাগ করে নেয়। তখন তিনি বললেন, তারা আমার হতে এবং আমি তাদের হতে। অর্থাৎ- আমি তাদের প্রতি খুশী। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬১৮৩, ইসলামিক সেন্টার)