আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আমর আন্ নাকিদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবু উমর (রহঃ) ...... উসামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার সুউচ্চ এক অট্টালিকার উপর আরোহী হয়ে বললেন, আমি যা কিছু দেখি তোমরা কি তা দেখছ? আমি তোমাদের ঘরের ভিতরে বৃষ্টিপাতের মতো দুর্যোগ নিপতিত হবার স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮১, ইসলামিক সেন্টার)
আমর আন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই এমন ফিতনাহর আত্মপ্রকাশ হবে, যখন উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে। আর দণ্ডায়মান ব্যক্তি তখন চলমান ব্যক্তি হতে উত্তম থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি তখন দ্রুতগামী ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে। যে ব্যক্তি সে ফিতনায় যখন জড়িয়ে পড়বে তাকে সে ফিতনাহ ধ্বংস করে দিবে। আর যে ব্যক্তি কোন আশ্রয়স্থল পাবে, তার সেটা দ্বারা আশ্রয় নেয়া বাঞ্ছনীয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
‘আমর আন নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ...... নাওফাল ইবনু মু’আবিয়াহ্ (রহঃ) থেকে আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর এ হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আবু বাকর (রাযিঃ) এতে সালাতের কথা বর্ধিত উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সালাতসমূহের মধ্যে এমন একটি সালাত আছে যার সে সালাত ছুটে গেল তার যেন পরিবার-পরিজন এবং সমুদয় ধন-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…) ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই ফিতনাহ দেখা দিবে। তখন ঘুমন্ত লোক জাগ্রত লোক থেকে ভাল থাকবে। আর জাগ্রত ব্যক্তি তখন দাঁড়ানো ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে এবং দণ্ডায়মান লোক দ্রুতগামী লোক হতে তখন ভাল থাকবে। তখন যদি কোন লোক আশ্রয়স্থল অথবা মুক্তস্থান পায় তবে তাতে তার আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবু কামিল আল জাহদারী ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন (রহঃ) ..... উসমান আশ শাহহাম (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিম ইবনু আবূ বাকরাহ্ (রহঃ) তার স্বীয় ভূমিতে ছিলেন। এমতাবস্থায় আমি ও ফারকাদ সাবাখী তার নিকট গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আপনার আব্বাকে বিপদাপদ সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ! আমি আবূ বাকরাহ্ (রাযিঃ) কে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই দুর্যোগ দেখা দিবে। সাবধান, সেখানে ফিতনাহ দেখা দিবে। তখন বসে থাকা লোক চলমান লোক থেকে নিরাপদ থাকবে। আর চলমান লোক তখন দ্রুতগামী লোক হতে ভাল থাকবে। সাবধান যখন ফিতনাহ আপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার বকরী আছে সে তার বকরী নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার জমিন আছে সে তার জমিন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকুক। এ কথা শুনে তখন জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যার উট, বকরী ও জমিন কিছুই নেই, সে কি করবে? জবাবে তিনি বললেন, সে তার তরবারি হাতে ধারণ করতঃ প্রস্তরাঘাতে সেটার ধারালো তীক্ষ অংশ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর সে নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? এ সময় জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! যদি চাপ সৃষ্টি করে দু’ সারির কোন একটিতে অথবা দু’ দলের কোন এক দলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কোন এক লোক তার তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে বা তীর এসে আমার গায়ে লাগে এবং আমাকে সে মেরে ফেলে, তবে আমার অবস্থা কি হবে? উত্তরে তিনি বললেন, তবে সে তার এবং তোমার পাপের বোঝা বহন করবে এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামে পতিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উসমান আশ শাহহাম (রহঃ) হতে এ সূত্রে ইবনু আবূ আদী (রহঃ) এর হাদীসটি হাম্মদ এর হাদীসের অবিকল শেষ পর্যন্ত বর্ণিত আছে। কিন্তু إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ অর্থাৎ "নিরাপদে থাকা সম্ভব হলে নিরাপদে থাকুক" পর্যন্ত ওয়াকী (রহঃ) এর হাদীসটি সমাপ্ত হয়েছে। এর পরবর্তী অংশটি তিনি আর বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ..... আহনাফ ইবনু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি বের হলাম। এ লোকটিকে সহযোগিতা করা আমার অভিপ্রায় ছিল। এমন সময় আবু বাকরাহ (রাযিঃ) এর সঙ্গে আমার দেখা হলো। তখন তিনি বললেন, হে আহনাফ! তুমি কোথায় যেতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচাত ভাই আলী (রাযিঃ)-কে সহযোগিতা করার জন্য আমি যেতে চাচ্ছি। আহনাফ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, হে আহনাফ চলে যাও। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, যখন দু’জন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর যুদ্ধ করে তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি দু’জনেই জাহান্নামী হবে। এ কথা শুনে আমি বললাম অথবা বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারীর অবস্থা তো এ-ই, তবে নিহত ব্যক্তির অপরাধ কি? জবাবে তিনি বললেন, সে তার সাথীকে হত্যা করার প্রচেষ্টায় জড়িয়ে ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ আয যাব্বী (রহঃ) ..... আবূ বাকরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি দু’জন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তবে হত্যাকারী ও নিহত দু’ ব্যক্তিই জাহান্নামী হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) হতে এ সূত্রে আবূ কামিল এর সানাদে হাম্মাদ এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৯০, ইসলামিক সেন্টার)