মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার, আবু বকর ইবনু নাফি’ (রহঃ) ..... হুযাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সমুদয় ফিতনা্ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। ফিতনাহ সম্পৰ্কীয় কতক বিষয় সম্পর্কে আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি। তবে মাদীনাবাসীকে কোন কারণে মাদীনাহ হতে বের করা হবে সে সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী ও হাজ্জাজ ইবনু আশ শাইর (রহঃ) ..... আবূ যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তারপর মিম্বারে আরোহণ করে ভাষণ দিলেন। পরিশেষে যুহরের সালাতের সময় উপস্থিত হলে তিনি মিম্বার হতে নেমে সালাত আদায় করলেন। তারপর পুনরায় মিম্বারে উঠে তিনি ভাষণ দিলেন। এবার আসরের সালাতের ওয়াক্ত হলে তিনি মিম্বার থেকে নেমে সালাত আদায় করে পুনরায় মিম্বারে উঠলেন এবং আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুতবাহ্ দিলেন, এমনকি সূর্যাস্ত হয়ে গেল, এ ভাষণে তিনি আমাদেরকে পূর্বে যা ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে ইত্যকার সম্বন্ধে সংবাদ দিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, যে লোক এ কথাগুলো সর্বাধিক মনে রেখেছেন আমাদের মধ্যে এ সম্বন্ধে তিনিই সবচেয়ে বেশী জানেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও মুহাম্মাদ ইবনুল ‘আলা আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... হুযাইফাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমর (রাযিঃ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, ফিতনাহ্ বিষয়ক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী তোমাদের কার মনে আছে? আমি বললাম, আমার মনে আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ব্যস! তুমি তো খুব সাহসী। তিনি কি বলেছেন, বলো! তারপর আমি বললাম, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, স্বীয় নাফস, সন্তান-সন্ততি এবং প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যে ফিতনায় জড়িত হয়, তার সিয়াম, সালাত, সদাকাহ এবং সৎকার্যের আদেশ ও অসৎকার্যে বাধা দানই হলো এগুলোর জন্য কাফফারাহ। এ কথা শুনে উমর (রহঃ) বললেন, আমি তো এ ফিতনার ব্যাপারে শুনতে চাইনি বরং সমুদ্রের তরঙ্গমালার মতো যে ফিতনাহ নিপতিত হতে থাকবে, আমি তো শুধু তাই শুনতে চেয়েছি। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ ফিতনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক, এতে আপনার উদ্দেশ্য কি? এ ফিতনাহ্ ও আপনার মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার অন্তরায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, এ দ্বার কি ভাঙ্গা হবে, না খোলা হবে? আমি বললাম, না,খোলা হবে না, বরংভাঙ্গা হবে। এ কথা শুনে ‘উমার (রাযিঃ) বললেন, তবে তো তা আর কক্ষনো বন্ধ হবে না। বর্ণনাকারী শাকীক (রহঃ) বলেন, আমরা হুয়াইফাহ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলাম, কে সে দ্বার, উমার (রাযিঃ) তা কি জানতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগামী দিনের পর রাত্র, এ কথাটি যেমন জানতেন, ঠিক তদ্রুপ ঐ বিষয়টিও তিনি জানতেন। হুয়াইফাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে ভুল হাদীস শুনাইনি। শাকীক (রহঃ) বলেন, কে সে দরজা, এ বিষয়ে হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরুক (রহঃ) কে বললাম, আপনি তাকে প্রশ্ন করুন। তিনি হুযাইফাহ (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলেন। হুযাইফাহ (রাযিঃ) বললেন, এ দরজা হচ্ছে স্বয়ং উমার (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ, উসমান ইবনু আবু শাইবাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ...... আ'মাশ (রহঃ) হতে এ সূত্রে আবু মু’আবিয়ার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ঈসা (রহঃ) এর সানাদে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেছেন, আমি হুয়াইফাহ্ (রাযিঃ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবু উমর (রাযিঃ) ..... হুযাইফাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'উমার (রাযিঃ) বললেন, ফিতনাহ সম্পকীয় হাদীস আমাকে কে শুনাতে পারবে? তারপর সুফইয়ান (রহঃ) পূর্ববর্তীদের হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুনদুব (রাযিঃ) বললেন, আমি জারা’আয় (কুফার সন্নিকটবর্তী একটি স্থানে) আসলাম। দেখলাম এক লোক বসে আছে। আমি বললাম, আজ তো এখানে কয়েকটি খুন হবে। এ কথা শুনে লোকটি বলল, কক্ষনো না। আল্লাহর শপথ খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ। অবশ্যই খুন হবে। সে আবারো বলল, আল্লাহর শপথ! কক্ষনো খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ। অবশ্যই খুন হবে। আবার সে বলল, আল্লাহর শপথ খুন কক্ষনো হবে না। এ ব্যাপারে আমি একটি হাদীস শুনেছি, যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, আজ থেকে তুমি আমার একজন অপ্রীতিকর সঙ্গী। কারণ তুমি শুনতে পাচ্ছ যে, আমি তোমার বিরুদ্ধাচরণ করছি। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস শুনা সত্ত্বেও তুমি আমাকে নিষেধ করছ না। তারপর আমি বললাম, এ অসন্তুষ্টির কি কারণ? তাই আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাকে প্রশ্ন করলাম পরে জানতে পেলাম, তিনি হলেন হুযাইফাহ (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৭, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না ফুরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পাহাড় বের করে দেয়। লোকেরা এ নিয়ে যুদ্ধ করবে এবং একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন মৃত্যুবরণ করবে। তাদের সকলেই বলবে, আমার মনে হয় আমি জীবন্ত থাকব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) উমাইয়্যাহ ইবনু বিস্তাম (রহঃ) ..... সুহায়ল (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা বলেছেন, যদি তোমরা ঐ পাহাড় দেখো তবে তোমরা এর নিকটেও যেও না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০০৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ মাসউদ সাহল ইবনু উসমান (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শীঘ্রই ফুরাত তার গর্ভস্থত স্বর্ণভাণ্ডার বের করে দিবে। সুতরাং এ সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০১০, ইসলামিক সেন্টার)