আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশাহ (রাযিঃ) এর ঘর থেকে বের হয়ে বললেনঃ কুফুরীর উৎস এদিক থেকে-যেদিক থেকে শাইতানের (শয়তানের) শিং উদিত হবে। অর্থাৎ- পূর্বদিক থেকে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩১, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্বদিকে ইশারা করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, সাবধান ফিতনাহ্ এদিক থেকে, সাবধান ফিতনাহ এদিক থেকে- এভাবে তিনবার উল্লেখ করে তিনি বললেন, যেদিক থেকে শাইতানের (শয়তানের) দুই শিং উদিত হবে। অর্থাৎ পূর্বদিক হতে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩২, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু উমর ইবনু আবান, ওয়াসিল ইবনু আবদুল আ’লা ও আহমাদ ইবনু উমার আল ওয়াকী’ঈ (রহঃ) ..... সালিম ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, হে ইরাকবাসী! আমি তোমাদেরকে সগীরা গুনাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করছি না এবং যারা কাবীরাহ গুনাহ করছে তাদের সম্পর্কেও প্রশ্ন করছি না। আমি আমার পিতা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারা করে বলতে শুনেছি, ফিতনাহ্ এদিক থেকে আসবে-যেদিক থেকে শাইতানের (শয়তানের) দুই শিং উদিত হয়। অথচ তোমরা পরস্পর একে অপরের উপর হানাহানি করছ। অবশ্য মূসা (আঃ) ফিরআওনের বংশ হতে এক লোককে ভুলবশতঃ হত্য করেছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, "(হে মূসা) এবং তুমি এক লোককে হত্যা করেছ, তারপর আমি তোমাকে চিন্তামুক্ত করে দিলাম। আমি তোমাকে বিভিন্ন রকম পরীক্ষা করেছি"- (সূরা ত-হা-২০ঃ ৪০)। বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু উমর (রহঃ) তার বর্ণনায় سَمِعْتُ سَالِمَ "আমি সালিম হতে শুনেছি" না বলে عَنْ سَالِمٍ "সলিম হতে" এরূপ বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রীয় নারীদের নিতম্ব যুলখালাসাহ মূর্তির কাছে ঘর্ষিত হবে। যুলখালাসাহ্ একটি মূর্তি ছিল, দাওস গোত্রীয় লোকেরা জাহিলী যুগে তাবালাহ্ নামক স্থানে এর পূজা করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল আল জাহদারী, আবু মান যায়দ ইবনু ইয়াযীদ আর রাকাশী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, রাত্র ও দিন শেষ হবে না, যতক্ষণ না লাত ও উযযা দেবতার পূজা আবার শুরু করা হয়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ নাযিল করেছেন– “তিনিই তার রসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত ও সত্য দীনসহ, সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা পছন্দ করে না"- (সূরা আত তওবা্ ৯ঃ ৩৩ ও আস-সাফ ২১ঃ ৯)। এ আয়াত নাযিলের পর আমি তো মনে করছিলাম যে, এ প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করা হবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি এক মনোরম বাতাস প্রেরণ করবেন। ফলে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাদের প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে। পরিশেষে যাদের মাঝে কোন প্রকার কল্যাণ নেই তারাই শুধু বেঁচে থাকবে। অতঃপর তারা আবার পিতৃ-পুরুষদের ধর্মের (শিরকের) দিকে ফিরে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩৫, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ...... আবদুল হামীদ ইবনু জাফর হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 7301 — Sahih Muslim #7301
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না এক লোক অপর লোকের কবরের নিকট গিয়ে বলবে, হায়! আমি যদি তার স্থলে থাকতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবান ইবনু সালিহ্ ও মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ আর রিফা’ঈ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন, আমি তার কসম করে বলছি, দুনিয়া নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ না এক লোক কবরের নিকট গিয়ে সেটার উপর গড়াগড়ি করে বলবে, হায়! এ কবরবাসীর স্থলে যদি আমি হতাম। তার নিকট দীন থাকবে না; থাকবে শুধু বিপদাপদ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ ‘উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন, মানুষের কাছে এমন এক সময় আগমন করবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি দোষে সে হত্যা করলো এবং নিহত লোকও জানবে না যে, কি দোষে সে নিহত হলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৩৯, ইসলামিক সেন্টার)
–(৫৬/...) আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু আবান ও ওয়াসিল ইবনু ‘আবদুল আ’লা (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন, দুনিয়া ধ্বংস হবে না যে পর্যন্ত না মানুষের কাছে এমন এক যুগ আসে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি দোষে যে অন্যকে হত্যা করেছে এবং নিহত লোকও জানবে না যে, কি দোষে তাকে হত্যা করা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করা হলো, কিভাবে এমন অত্যাচার হবে? তিনি জবাবে বললেন, সে যুগটা হবে হত্যার যুগ। এরূপ যুগের হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী হবে। বর্ণনাকার আবান হলো, ইয়াযীদ ইবনু কাইসান। তিনি ইসমাঈল (রহঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ইসমাঈলের বংশ-পরিচয়মূলকالأَسْلَمِيَّ শব্দটি তিনি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৪০, ইসলামিক সেন্টার)