وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَلاَ تَنَافَسُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا " .
আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ দারিমী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করবে না, একে অন্যের পেছনে শক্রতায় আবদ্ধ হয়ো না, পরস্পরে লিপ্সা করবে না বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩০৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ ইবনু কা'নাব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পর ধোকাবাজি করো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের ক্ষতি করার উদ্দেশে অগোচরে শক্রতা করো না এবং একে অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করবে না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না, তাকে অপদস্ত করবে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না। তাকওয়া এখানে, এ কথা বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার তার বক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার ভাইকে হেয় জ্ঞান করে। কোন মুসলিমের উপর প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও ইযযত-আবরু হারাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩০৯, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ তাহির, আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ... এরপর উসামাহ্ ইবনু যায়দ যায়দ এর হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তবে এ বর্ণনায় তিনি সামান্য কম-বেশি করেছেন। তারা উভয়ে যতটুকু বাড়িয়ে বলেছেন, তা হচ্ছে “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের দেহকায় ও বাহ্যিক আকৃতির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তিনি তোমাদের অন্তরসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। (এ বলে) তিনি তার আঙ্গুলের মাধ্যমে স্বীয় বক্ষের দিকে ইঙ্গিত করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১০, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক চাল-চলন ও বিত্ত-বৈভবের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না; বরং তিনি দৃষ্টি দিয়ে থাকেন তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১১, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ), কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আহমাদ ইবনু আবদাহ আয যাববী (রহঃ) ..... সুহায়ল (রাযিঃ) এর পিতার সূত্রে মালিক এর সানাদে তার হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে দারাওয়াদী (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে ইবনু আৱদাহ এর বর্ণনায় إِلاَّ الْمُتَهَاجِرَيْنِ "কিন্তু সম্পর্কচ্ছেদকারী দু'ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হবে না" উল্লেখ আছে। আর কুতাইবাহ্ (রহঃ) বলেছেন, إِلاَّ الْمُهْتَجِرَيْنِ (তবে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী দু’জনকে ক্ষমা করা হবে না)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১২, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ), কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আহমাদ ইবনু আবদাহ আয যাববী (রহঃ) ..... সুহায়ল (রাযিঃ) এর পিতার সূত্রে মালিক এর সানাদে তার হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে দারাওয়াদী (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে ইবনু আৱদাহ এর বর্ণনায় إِلاَّ الْمُتَهَاجِرَيْنِ "কিন্তু সম্পর্কচ্ছেদকারী দু'ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হবে না" উল্লেখ আছে। আর কুতাইবাহ্ (রহঃ) বলেছেন, إِلاَّ الْمُهْتَجِرَيْنِ (তবে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী দু’জনকে ক্ষমা করা হবে না)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১২, ইসলামিক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... মারফু সানাদে আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার ও সোমবার আমল পেশ করা হয়। তখন আল্লাহ তা’আলা সেদিন প্রত্যেক এমন বান্দাকে ক্ষমা করেন, যারা তার সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থির করে না। তবে এমন ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই ও তার মধ্যে শক্রতা আছে। তখন বলা হবে, এ দু’জনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা আপোষ মীমাংসায় ফিরে আসে, এ দু’জনকে অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা সংশোধনের দিকে ফিরে আসে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১৩, ইসলামিক সেন্টার)
আবু তাহির ও আমর ইবনু সাওওয়াদ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষের আমল (সপ্তাহে দু’বার) সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর দরবারে) উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করা হয়। তবে সে ব্যক্তিকে নয়, যার ভাই এর সাথে তার দুশমনি রয়েছে। তখন বলা হবে, এ দু’জনকে বর্জন করো অথবা অবকাশ দাও যতক্ষণ না তারা মীমাংসার প্রতি প্রত্যাবর্তন করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, আমার মহত্ত্বের কারণে একে অপরের প্রতি ভালবাসা স্থাপনকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া প্রদান করব। আজ এমন দিন, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১৫, ইসলামিক সেন্টার)
‘আবদুল আ’লা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তা’আলা তার জন্য পথিমধ্যে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। সে ব্যক্তি যখন ফেরেশতার কাছে পৌছল, তখন ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছো? সে বলল, আমি এ গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফেরেশতা বললেন, তার কাছে কি তোমার কোন অবদান আছে, যা তুমি আরো প্রবৃদ্ধি করতে চাও? সে বলল, না। আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালবাসি। ফেরেশতা বললেন, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে (তার দূত হয়ে) তোমার কাছে অবহিত করার জন্য এসেছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালবাসেন, যেমন তুমি তোমার ভাইকে তারই সম্ভষ্টি অর্জনের জন্য ভালবেসেছ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩১৬, ইসলামিক সেন্টার)