ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব, কুতাইবাহ ও ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক পাওনাদারকে তার পাওনা চুকিয়ে দিতে হবে। এমনকি শিং বিশিষ্ট বকরী থেকে শিং বিহীন বকরীর প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবূ মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই মহান আল্লাহ যালিমকে সুযোগ দেন। এরপর তিনি যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন তাকে ছাড়েন না। এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন, "এভাবেই তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও- যখন কোন অত্যাচারী জনপদবাসীকে তিনি পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তার পাকড়াও চরম মর্মাত্তিক, অতিশয় কঠোর"— (সূরা হুদ ১১ঃ ১০২)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার ও মুহাজিরদের দু'টি গোলাম হাতাহাতি করছিল। তখন মুহাজির গোলাম এ বলে চীৎকার দিল, হে মুহাজিরগণ! পক্ষান্তরে আনসারী গোলামও ডাকল, হে আনসারগণ! তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে বললেন, এ কী ব্যাপার! জাহিলী যুগের লোকেদের মতো হাক-ডাক করছ? তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! না, দু'টি গোলাম ঝগড়া করেছে। তাদের একজন অপরজনের পশ্চাতে আঘাত করেছে। তখন তিনি বললেন, এতো মামুলী ব্যাপার। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত যেন সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে, সে অত্যাচারী হোক কিংবা অত্যাচারিত। যদি সে অত্যাচারী হয় তাহলে তাকে (যুলম থেকে) বিরত রাখবে। এ হচ্ছে তার জন্য সাহায্য। আর যদি সে অত্যাচারিত হয় তাহলে তাকে সাহায্য করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবু শাইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহু আয যাব্বী ও ইবনু আবু উমর (রহঃ) ..... সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ্ (রহঃ) বলেন যে, আমর (রহঃ) জাবির (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, আমরা এক যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। তখন একজন মুহাজির একজন আনসারের পশ্চাতাঘাত করেছিল। সে সময় আনসারী চীৎকার করে বলল, হে আনসার! আর মুহাজির ব্যক্তি ডাক দিল, হে মুহাজিরগণ! তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কী ব্যাপার! জাহিলী যুগের মতো হাক-ডাক করছ কেন? তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! একজন মুহাজির একজন আনসারীর পশ্চাতে আঘাত করেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা এ ধরনের হাক-ডাক ছেড়ে দাও। কেননা এতো নিন্দনীয় কাজ। এরপর ঘটনাটি আবদুল্লাহ ইবনু উবাই শুনে বলল, তারা কি এরূপ কাণ্ড ঘটিয়েছে? আল্লাহর কসম! আমরা মাদীনায় ফিরে গেলে সেখানকার শক্তিশালীরা অবশ্যই দুর্বলকে বহিষ্কৃত করে দিবে। উমর (রাযিঃ) বললেন, (হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের মস্তক উড়িয়ে দেই। তখন তিনি বললেন, একে ছেড়ে দাও, যাতে লোকেরা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সহাবাদের হত্যা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6584 — Sahih Muslim 45:82
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ الْقَوَدَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " دَعُوهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ " . قَالَ ابْنُ مَنْصُورٍ فِي رِوَايَتِهِ عَمْرٌو قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا .
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইসহাক ইবনু মানসূর ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মুহাজির একজন আনসারীকে পশ্চাতে আঘাত করেছিল। এরপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলো এবং তার কাছে প্রতিশোধ চাইল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা বাদ দাও। কেননা এ-তো নোংরা কাজ। ইবনু মানসূর (রহঃ) আমর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, তিনি জাবির (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবু আমির আল আশ’আরী, মুহাম্মাদ ইবনুল ‘আলা, আবু কুরায়ব (রহঃ) ..... আবু মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ একজন মুমিন ব্যক্তি অপর মুমিনের জন্য একটি অট্টালিকা সদৃশ, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানব দেহের ন্যায় যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয় তখন তার সমস্ত দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্ৰা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৫০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6587 — Sahih Muslim 45:85
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ، بَشِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .
(…/...) ইসহাক আল হান্যালী (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৫১, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিন সম্প্রদায় একজন ব্যক্তির ন্যায়। যখন তার মাথায় অসুস্থতা দেখা দেয় তখন সমস্ত দেহই তাপ ও অনিদ্রায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৫২, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ... নুমান ইবনু বশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল মুসলিম একজন ব্যক্তির সমতুল্য। যদি তার চক্ষু পীড়িত হয় তবে তার সমগ্র দেহ পীড়িত হয়ে পড়ে। যদি তার মাথা আক্রান্ত হয় তাহলে সমগ্র শরীরই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৩৫৩, ইসলামিক সেন্টার)