ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বে কেউ যদি ফজরের এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারে তাহলে সে ফজরের সালাত আদায় করল। আর তেমনি যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত সালাত আদায় করতে পারলে সে যেন ঠিক ওয়াক্তেই 'আসরের সালাত আদায় করল*।
হাসান ইবনুর রাবী', আবূত তহির ও হারমালাহ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল কিংবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল কিংবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের একটি সিজদা করতে পারল সে উক্ত সালাত পেয়ে গেল। আর সিজদা অর্থ রাকাআত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫১, ইসলামীক সেন্টার)
হাসান ইবনুর রাবী’ (রহঃ) ..... আবু হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত সালাত আদায় করল সে ওয়াক্ত মতোই সালাত আদায় করল। আবার যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাআত সালাত আদায় করল সেও ওয়াক্ত মতোই ফজরের সালাত আদায় করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫২, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) একদিন আসরের সালাত আদায় করতে দেরী করলে উরওয়াহ (রহঃ) তাকে বললেনঃ একদিন জিবরীল (আঃ) এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলেন। এ কথা শুনে উমর ইবনু আবদুল 'আযীয উরওয়াহকে বললেনঃ উরওয়াহ! তুমি যা বলছ তা ভালমতো চিন্তাভাবনা করে বলো। উরওয়াহ বললেনঃ আমি বাশীর ইবনু আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমি আবূ মাসউদকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। একদিন জিবরীল (আঃ) এসে আমার ইমামতি করলেন। আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর পুনরায় আমি তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি আবার তার সাথে সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি আরো একবার তার সাথে সালাত আদায় করলাম। এভাবে তিনি আঙ্গুল গুণে পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাতের কথা বললেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1380 — Sahih Muslim 5:214
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " بِهَذَا أُمِرْتُ " . فَقَالَ عُمَرُ لِعُرْوَةَ انْظُرْ مَا تُحَدِّثُ يَا عُرْوَةُ أَوَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ هُوَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الصَّلاَةِ فَقَالَ عُرْوَةُ كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ উমার ইবনু আবদুল 'আযীয (রহঃ) একদিন সালাত আদায় করতে (বেশ দেরী করে ফেললেন) তাই উরওয়াহ ইবনু মাসউদ তার কাছে গিয়ে বললেন, কুফায় (গভর্নর) থাকাকালীন একদিন মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রহঃ) (আসরের) সালাত আদায় করতে করতে দেরী করে ফেললেন। আবূ মাসউদ আল আনসারী (রাযিঃ) গিয়ে তাকে বললেন, মুগীরাহ! একি করছ তুমি? তুমি কি জানো না যে, এক সময় জিবরীল (আঃ) এসে সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সালাত আদায় করলেন। তিনি জিবরীল (আঃ) আবার (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে আবার সালাত আদায় করলেন। তিনি জিবরীল (আঃ) পুনরায় (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় এ সালাত তার সাথে আদায় করলেন। তিনি জিবরীল (আঃ) আবারও (আরেক ওয়াক্তের) সালাত আদায় করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সালাত তার সাথে আদায় করলেন। এরপর জিবরীল (আঃ) বললেন, আপনি এভাবে সালাত আদায় করতে আদিষ্ট হয়েছেন। এ কথা শুনে উমার ইবনু আবদুল আযীয উরওয়াহ ইবনু যুবায়রকে বললেনঃ উরওয়াহ! তুমি কি বলছ তা কি চিন্তা করে দেখেছে? জিবরীল (আঃ) নিজে কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য সালাতের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন? জবাবে উরওয়াহ বলেন, বাশীর ইবনু আবূ মাসউদ তার পিতা আবূ মাসউদের নিকট থেকে তো এরূপই (সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া) বর্ণনা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1381 — Sahih Muslim 5:215
قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ .
উরওয়াহ বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য কিরণ তার কামরার মধ্যে থাকত, তখনো তা দেয়ালের উপর উঠে যেত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আমর আন নাকিদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময় আসরের সালাত আদায় করতেন যে, তখনো সূর্য কিরণ আমাদের কামরার মধ্যে ঝলমল করত। বেশ কিছুক্ষণ পরও কামরার মধ্যে ছায়া পড়ত না। আবূ বাকর বলেছেনঃ এরপরও বেশ কিছুক্ষণ উপরে উঠত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1383 — Sahih Muslim 5:217
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ فِي حُجْرَتِهَا .
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময় আসরের সালাত আদায় করতেন তখনো সূর্যের কিরণ তার কামরার মধ্যে থাকত এবং তা কামরার মধ্যে থেকে উপরের দিকে (দেয়ালে) উঠে যেত না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২৫৭, ইসলামীক সেন্টার)