আহমাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না এমন এক দল লোক সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, জনৈক ব্যক্তিকে সালাতে ইমামত করার নির্দেশ দেই আর আমি গিয়ে যারা জুমুআর সালাত আদায় করতে আসে না, আগুন লাগিয়ে তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক অন্ধ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ধরে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কেউ নেই। অতঃপর তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি প্রদান করার জন্য সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন জানাল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বাড়ীতে সালাত আদায় করার অনুমতি দিলেন। কিন্তু যে সময় লোকটি ফিরে যেতে উদ্যত হলো তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন? তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? সে বলল, হ্যাঁ (আমি আযান শুনতে পাই)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে তুমি মসজিদে আসবে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেন আমাদের ধারণা হলো মুনাফিক যার নিফাক স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং রুগ্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউই সালাতের জামা'আত পরিত্যাগ করে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় রুগ্ন ব্যক্তিও দু'জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে সালাতের জামা'আতে উপস্থিত হত। তিনি আরো বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হিদায়াতের কথা শিখিয়েছেন। আর হিদায়াতের কথা ও পদ্ধতির মধ্যে একটি হলো সে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা যে মসজিদে আযান দেয়া হয়েছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন. ১৩৬০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আগামীকাল কিয়ামতের দিন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ পেতে আনন্দবোধ করে, সে যেন ঐ সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করে, যেসব সালাতের জন্য আযান দেয়া হয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের নবীর জন্য হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি বিধিবদ্ধ করেছেন। আর এসব সালাতও হিদায়াতের পন্থা পদ্ধতি, যেমন জনৈক ব্যক্তি সালাতের জামা'আতে উপস্থিত না হয়ে বাড়ীতে সালাত আদায় করে থাকে, অনুরূপ তোমরাও যদি তোমাদের বাড়ীতে সালাত আদায় করো তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পন্থা-পদ্ধতি পরিত্যাগ করলে। আর তোমরা যদি এভাবে তোমাদের নবীর সুন্নাত বা পদ্ধতি পরিত্যাগ করো তাহলে অবশ্যই পথ হারিয়ে ফেলবে। কেউ যদি অতি উত্তমভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সালাত আদায় করার জন্য) কোন একটি মসজিদে উপস্থিত হয় তাহলে মসজিদে যেতে সে যতবার পদক্ষেপ ফেলবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য একটি নেকী লিখে দেন, তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন এবং একটি করে পাপ দূর করে দেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমরা মনে করি যার মুনাফিকী সর্বজনবিদিত এমন মুনাফিক ছাড়া কেউ-ই জামা'আতে সালাত আদায় করা ছেড়ে দেয় না। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় এমন ব্যক্তি জামা'আতে উপস্থিত হত যাকে দু’জন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে এসে সালাতের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬১, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... আবূশ শাসা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর সাথে মসজিদে বসেছিলাম। ইতোমধ্যে মুয়াজ্জিন (সালাতের জন্য) আযান দিলো। এ সময়ে জনৈক ব্যক্তি মাসজিদ থেকে উঠে চলে যেতে থাকল। আর আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) তার প্রতি তাকিয়ে দেখতে থাকলেন। লোকটি মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল। এ দেখে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন এ ব্যক্তি তো আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নীতি ও পদ্ধতির নাফরমানী করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬২. ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ... আবূশ শাসা আল মুহারিবী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আযানের পর জনৈক ব্যক্তিকে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে দেখে আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন, এ লোকটি তো আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদেশ লঙ্ঘন করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আবূ 'আমরাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মাগরিবের সালাতের পর উসমান ইবনু আফফান মসজিদে এসে একাকী এক জায়গায় বসলেন। তখন আমি তার কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন- ভাতিজা, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামা'আতের সাথে ইশার সালাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত সালাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাআতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত জেগে সালাত আদায় করল। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
নাসর ইবনু ‘আলী আল জাহ্যামী (রহঃ) ..... জুনদুব ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করল সে মহান আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণের অন্তর্ভুক্ত হলো। আর আল্লাহ তোমাদের কারো কাছে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাদানের বিনিময়ে কোন অধিকার দাবী করেন না। যদি করেন তাহলে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করবেন যে, উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৩৬৬, ইসলামীক সেন্টার)