وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلاَتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي اللَّيْلَةِ الثَّانِيَةِ فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَذْكُرُونَ ذَلِكَ فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ فَخَرَجَ فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَفِقَ رِجَالٌ مِنْهُمْ يَقُولُونَ الصَّلاَةَ . فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى خَرَجَ لِصَلاَةِ الْفَجْرِ فَلَمَّا قَضَى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ تَشَهَّدَ فَقَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَىَّ شَأْنُكُمُ اللَّيْلَةَ وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ صَلاَةُ اللَّيْلِ فَتَعْجِزُوا عَنْهَا " .
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ী থেকে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন, অনেক লোকও তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিন লোকজন এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং ঐ দিন রাতে আরো বেশী লোক (মসজিদে) একত্রিত হ’ল। ঐ দ্বিতীয় রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। সবাই তার সাথে সালাত আদায় করল। পরদিনও লোকজন এ ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং তৃতীয় রাতে লোকের সংখ্যা আরো বেড়ে গেল। রাতেও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে তাদের মাঝে গেলেন। লোকজন তার সাথে সালাত আদায় করল। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশী হ'ল যে, মসজিদে জায়গা সংকুলান হ’ল না। কিন্তু রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে আসলেন না। তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক সালাত বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। বরং ফজরের ওয়াক্তে বের হলেন। ফজরের সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ঘুরলেন, তাশাহহুদ পড়লেন, তারপর "আম্মাবাদ" বলে শুরু করলেন। তিনি বললেনঃ গতরাতে তোমাদের ব্যাপারটা আমার অজানা নয়। কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, রাতের এ সালাতটি তোমাদের জন্য ফারয (ফরয) করে দেয়া হতে পারে। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রায়ী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে সালাত আদায় করবে সে কদরের রাত প্রাপ্ত হবে। এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা'ব বললেনঃ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই মহান আল্লাহর কসম! নিশ্চিতভাবে লায়লাতুল কদর রমযান মাসে। এ কথা বলতে তিনি কসম করলেন কিন্তু ইনশা-আল্ল-হ বললেন না (অর্থাৎ তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, রমাযান মাসের মধ্যেই 'লায়লাতুল কদর' আছে)। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন আল্লাহর কসম! কোন রাতটি কদরের রাত তাও আমি জানি। সেটি হ’ল এ রাত, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন। সাতাশ রমযান তারিখের সকালের পূর্বের রাতটি সেই রাত। আর ঐ রাতের আলামাত বা লক্ষণ হ'ল- সে রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে তা উজ্জ্বল হবে কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোন তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ হবে)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1786 — Sahih Muslim 6:214
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَةَ بْنَ أَبِي لُبَابَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ أُبَىٌّ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُهَا وَأَكْثَرُ عِلْمِي هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقِيَامِهَا هِيَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ - وَإِنَّمَا شَكَّ شُعْبَةُ فِي هَذَا الْحَرْفِ - هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَحَدَّثَنِي بِهَا صَاحِبٌ لِي عَنْهُ .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি 'লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত সম্পর্কে বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি রাতটি সম্পর্কে জানি এবং এ ব্যাপারে আমি যা জানি তা হচ্ছে, যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন সেটিই অর্থাৎ সাতাশ তারিখের রাতই কদরের রাত। হাদীসটির ঐ অংশ সম্পর্কে 'যে রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন' শুবাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। বর্ণনাকারী শুবাহ বলেছেনঃ আমার এক বন্ধু (আবদাল্লাহ ইবনু আবূ লুবাবাহ) তার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয (রহঃ) ..... শুবাহ (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু'বাহ এ বর্ণনাতে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং এর পরের কথাগুলো উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
‘আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ইবনু হাইয়্যান আল আবদী (রহঃ) .... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক রাতে আমার খালা মায়মূনাহ এর (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীর) ঘরে কাটালাম। (আমি দেখলাম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা উঠলেন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এসে মুখমণ্ডল এবং দু' হাত ধুলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমালেন। পরে পুনরায় উঠে মশকের পাশে গেলেন এবং এর বন্ধন খুলে ওযু করলেন। ওযুতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলেন (অর্থাৎ ওযু করতে খুব যত্নও নিলেন না আবার একেবারে খুব হালকাভাবেও ওযু করলেন না)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বেশী পানি ব্যবহার করলেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। আমি সে সময় উঠলাম এবং তার কাজকর্ম দেখার জন্য জেগে ছিলাম বা সতর্কভাবে তা লক্ষ্য করছিলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা যেন না ভেবে বসেন তাই আড়মোড়া ভাঙ্গলাম। এবার আমি ওযু করলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন, অতঃপর আমিও তার বাঁ পাশে দিয়ে দাঁড়ালাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে এনে তার ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। এভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত তের রাকাআত শেষ হ’ল। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি (ঘুমের মধ্যে তাঁর) নাক ডাকতে শুরু করল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বভাবতঃ যখনই ঘুমাতেন তখন নাক ডাকত। পরে বিলাল (রাযিঃ) তাকে সালাতের কথা বলে গেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ "আল্ল-হুম্মাজ আল কী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া কী বাসারী নূরাও, ওয়া কী সামঈ নূরাও ওয়া আই ইয়ামীনী নুরাওঁ, ওয়া আই ইয়াসা-রী নূরাওঁ, ওয়া ফাওকী নূরাওঁ, ওয়া তাহতী নূরাওঁ, ওয়া আমামী নূরাওঁ, ওয়া খালফী নূরাওঁ,ওয়া আয্যিমলী নূরাওঁ" অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়ে আলো দান কর, আমার চোখে আলো দান কর, আমার কানে বা শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর। আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাঁ দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছনে আলো দান কর এবং আমার আলোকে বিশাল করে দাও।)। বর্ণনাকারী কুরায়ব বলেছেনঃ তিনি এরূপ আরো সাতটি কথা বলেছিলেন যা আমি ভুলে গিয়েছি। হাদীসের বর্ণনাকারী সালামাহ ইবনু কুহায়ল বলেন- এরপর আমি আব্বাস (রাযিঃ) এর এক পুত্রের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি ঐগুলো (অবশিষ্ট সাতটি) আমার কাছে বর্ণনা করলেন। তাতে তিনি উল্লেখ করলেনঃ আমার স্নায়ুতন্ত্ৰীসমূহে, আমার শরীরের গোশতে, আমার রক্তে, আমার চুলে এবং আমার গাত্রচর্মে আলো দান কর। এছাড়াও তিনি আরো দুটি বিষয় উল্লেখ করে বললেনঃ এ দু'টিতে তিনি আলো চেয়েছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1789 — Sahih Muslim 6:217
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ - وَهِيَ خَالَتُهُ - قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনাহ (রাযিঃ) এর ঘরে রাত কাটালেন। মায়মুনাহ (রাযিঃ) ছিলেন তার খালা। তিনি বলেছেন, আমি বিছানাতে আড়াআড়িভাবে শুলাম। এরপরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেকের কিছু পূর্বে অথবা অর্ধেকের কিছু পরে তিনি জেগে উঠলেন এবং মুখমণ্ডলের উপর হাত রগড়িয়ে ঘুমের আলস্য দূর করতে থাকলেন। এরপর সূরাহ্ আ-লি ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন এবং (ঘরে) ঝুলানো একটি মশকের পাশে গিয়ে উত্তমরূপে ওযু করলেন। অতঃপর তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেনঃ তখন আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন আর আমার ডান কান ধরে মোচড়াতে থাকলেন[1]। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দু' রাকাআত, এরপর আরো দু' রাকাআত এবং পরে আরো দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। আর সর্বশেষে বিতর পড়লেন[2]।তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন এসে সালাত সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে সংক্ষেপে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বাড়ী থেকে (মসজিদে) গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... মাখরামাহ ইবনু সুলাইমান (রহঃ) থেকে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি এতটুকু অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি পুরনো মশকের কাছে গেলেন এবং মিসওয়াক করে ওযু করলেন। তিনি বেশী পানি খরচ না করেই উত্তমরূপে ওযু করলেন তারপর আমাকে ঝাকুনি দিলেন। তখন আমি উঠলাম। এরপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশটুকু মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬০, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1791 — Sahih Muslim 6:219
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ نِمْتُ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَفَخَ وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ ثُمَّ أَتَاهُ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ عَمْرٌو فَحَدَّثْتُ بِهِ بُكَيْرَ بْنَ الأَشَجِّ فَقَالَ حَدَّثَنِي كُرَيْبٌ بِذَلِكَ .
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী মাইমূনাহর (খালা) ঘরে আমি ঘুমালাম আর সেই রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তার ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে তিনি ওযু করে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে ধরে তার ডান পাশে দাঁড় করালেন। ঐ রাতে তিনি তের রাকাআত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর ঘুমালেন। ঘুমের মধ্যে তিনি নাক ডাকলেন। আর তিনি যখনই ঘুমাতেন নাক ডাকত। পরে মুয়াযযিন তার কাছে আসলেন তিনি (মসজিদে) চলে গেলেন এবং নতুন ওযু না করেই সালাত আদায় করলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী 'আমর বলেছেন, আমি বুকায়র ইবনুল আশাজ্জ এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার কাছেও তিনি হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাতে আমি আমার খালা মায়মুনাহ বিনতু হারিস এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। আমি তাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে) যখন উঠবেন তখন আপনি আমাকে জাগিয়ে দিবেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠলে আমিও উঠলাম এবং তার বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরে তার ডান পাশে নিলেন। পরে যখনই আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলাম তখন তিনি আমার কানের নিম্নভাগ ধরে টান দিচ্ছিলেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন- তিনি এগার রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি শুয়ে থাকলেন। আমি তার নাক ডাকানোর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে গেলে তিনি সংক্ষিপ্তাকারে দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1793 — Sahih Muslim 6:221
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ خَالَتِهِ مَيْمُونَةَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ فَتَوَضَّأَ مِنْ شَنٍّ مُعَلَّقٍ وُضُوءًا خَفِيفًا - قَالَ وَصَفَ وُضُوءَهُ وَجَعَلَ يُخَفِّفُهُ وَيُقَلِّلُهُ - قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخْلَفَنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ ثُمَّ أَتَاهُ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ فَخَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ سُفْيَانُ وَهَذَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً لأَنَّهُ بَلَغَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلاَ يَنَامُ قَلْبُهُ .
ইবনু আবূ উমার ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার খালা (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী) মায়মূনাহ এর ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে ঝুলিয়ে রাখা একটি পুরনো মশক থেকে পানি নিয়ে হালকাভাবে ওযু করলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাসের আযাদকৃত ক্রীতদাস কুরায়ব বলেছেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, তখন আমিও উঠলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম এবং পরে গিয়ে তার বাম পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তার পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে ডান পাশে নিয়ে দাঁড় করালেন। এরপর সালাত আদায় করে তিনি শয্যা গ্রহণ করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাকও ডাকলেন। পরে বিলাল এসে তাকে সালাতের সময়ের কথা জানালে তিনি গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু নতুন ওযু করলেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী সুফইয়ান বলেছেন, এ ব্যবস্থা শুধু (ঘুমানোর পর নতুন ওযু না করে সালাত আদায় করা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট। কেননা আমরা এ কথা জানি যে, তার চোখ দুটি ঘুমায় কিন্তু হৃদয়-মন ঘুমায় না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৬৩, ইসলামীক সেন্টার)