কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের ঘরসমূহকে কবর সদৃশ করে রেখো না (অর্থাৎ নফল সালাতসমূহ বাড়ীতে আদায় করবে, কারণ যে ঘরে সূরাহ বাক্বারাহ পাঠ করা হয় শাইতান সে ঘর থেকে পালিয়ে যায়)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1825 — Sahih Muslim 6:253
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجَيْرَةً بِخَصَفَةٍ أَوْ حَصِيرٍ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِيهَا - قَالَ - فَتَتَبَّعَ إِلَيْهِ رِجَالٌ وَجَاءُوا يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ - قَالَ - ثُمَّ جَاءُوا لَيْلَةً فَحَضَرُوا وَأَبْطَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُمْ - قَالَ - فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ فَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ وَحَصَبُوا الْبَابَ فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغْضَبًا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا زَالَ بِكُمْ صَنِيعُكُمْ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُكْتَبُ عَلَيْكُمْ فَعَلَيْكُمْ بِالصَّلاَةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ خَيْرَ صَلاَةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ " .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খেজুর পাতা অথবা চাটাই দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট কামরা তৈরি করে তাতে সালাত আদায় করতে গেলেন। এ দেখে কিছু সংখ্যক লোক এসে তার সাথে সালাত আদায় করলেন। যায়দ ইবনু সাবিত বলেনঃ অন্য এক রাতেও লোকজন এসে জমা হ'ল। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সে রাতে) দেরী করলেন এবং এমনকি তিনি সে রাতে আসলেন না। তাই লোকজন উচ্চস্বরে তাকে ডাকাডাকি করল এবং বাড়ীর দরজায় কঙ্কর ছুড়তে শুরু করল। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত হয়ে তাদের মাঝে এসে বললেনঃ তোমরা যখন ক্রমাগত এরূপ করছিলে তখন আমার ধারণা হ’ল যে, এ সালাত হয়ত তোমাদের জন্য ফারয (ফরয) করে দেয়া হবে। অতএব তোমরা বাড়িতেই (নাফল) আদায় করবে। কেননা ফারয (ফরয) সালাত ছাড়া অন্যসব সালাত বাড়ীতে আদায় করা মানুষের জন্য সর্বোত্তম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1826 — Sahih Muslim 6:254
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي الْمَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ إِلَيْهِ نَاسٌ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ " وَلَوْ كُتِبَ عَلَيْكُمْ مَا قُمْتُمْ بِهِ " .
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাটাই দ্বারা ঘিরে মসজিদের মধ্যে একটি কামরা বানালেন এবং কয়েক রাত পর্যন্ত সেখানে সালাত আদায় করলেন। তা দেখে কিছু লোক সেখানে সমবেত হ’ল। এতটুকু বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। এর বর্ণনাতে এতটুকু অধিক বর্ণনা হয়েছে যে, এ সালাত যদি তোমাদের জন্য ফারয (ফরয) করে দেয়া হত তাহলে তোমরা তা আদায় করতে সক্ষম হতে না। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একখানা চাটাই ছিল। রাতের বেলা তিনি এ চাটাই দিয়ে একটি কামরা বানাতেন এবং তার মধ্যে সালাত আদায় করতেন। লোকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এ সালাত আদায় করত এবং দিনের বেলা বিছিয়ে নিত। এক রাতে লোকজন বেশী ভীড় করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকজনকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে লোকজন যতটা আমল তোমরা স্থায়ীভাবে করতে সক্ষম হবে ততটা আমল করবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের ইবাদাতের সাওয়াব দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমারই ইবাদাত বন্দেগী করতে করতে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে। আর কম হলেও আল্লাহর কাছে স্থায়ী 'আমল সর্বাপেক্ষা বেশী পছন্দনীয়। (বর্ণনাকার বলেন) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসারী ও বংশধরগণ যে আমল করতেন তা স্থায়ীভাবে সর্বদাই করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আল্লাহ তা'আলার কাছে কোন ধরনের আমল সবচাইতে বেশী প্রিয়। জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ কম হলেও যে আমল স্থায়ী (সে আমল আল্লাহ তা'আলার কাছে সবচাইতে বেশী প্রিয়)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1829 — Sahih Muslim 6:257
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ قَالَ قُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ كَيْفَ كَانَ عَمَلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ كَانَ يَخُصُّ شَيْئًا مِنَ الأَيَّامِ قَالَتْ لاَ . كَانَ عَمَلُهُ دِيمَةً وَأَيُّكُمْ يَسْتَطِيعُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَطِيعُ
যুহায়র ইবনু হারব ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আলকামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম। বললামঃ হে উন্মুল মুমিনীন! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর 'আমল কেমন ছিল। তিনি কি কোন নির্দিষ্ট ইবাদাতের জন্য কোন বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করে নিতেন? জবাবে আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেনঃ না। তবে তার আমল ছিল স্থায়ী প্রকৃতির। আর তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজ করতে পারেন সেও সে কাজ করতে পারবে? (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৯৯, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে এমন ‘আমল সবচেয়ে প্রিয় যা কম হলেও স্থায়ীভাবে করা হয়। হাদীসের বর্ণনাকারী কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ বলেছেনঃ ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) কোন আমল শুরু করলে তা স্থায়ী ও অবশ্য করণীয় করে নিতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন মসজিদের দুটি খুঁটির মাঝে রশি বেঁধে টানানো আছে। এ দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কিসের জন্য? সবাই বললঃ এটা যায়নাবের রশি। তিনি সালাত আদায় করতে করতে যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েন তখন এ রশিটা দিয়ে নিজেকে আটকে রাখেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটি খুলে ফেল। তোমরা সানন্দ সগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে সালাত আদায় করবে। সালাত আদায় করতে করতে কেউ যখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে তখন বসে আদায় করবে। যুহায়র বর্ণিত হাদীসেقَعَدَ শব্দ আছে যার অর্থ হ'ল সে যেন বসে পড়ে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1832 — Sahih Muslim 6:260
وَحَدَّثَنَاهُ شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
শায়বান ইবনু ফাররূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 1833 — Sahih Muslim 6:261
وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ الْحَوْلاَءَ بِنْتَ تُوَيْتِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى مَرَّتْ بِهَا وَعِنْدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ هَذِهِ الْحَوْلاَءُ بِنْتُ تُوَيْتٍ وَزَعَمُوا أَنَّهَا لاَ تَنَامُ اللَّيْلَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَنَامُ اللَّيْلَ خُذُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ فَوَاللَّهِ لاَ يَسْأَمُ اللَّهُ حَتَّى تَسْأَمُوا " .
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল মুরাদী (রহঃ) ..... উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে বলেছেন যে, হাওলা বিনতু তুওয়াইত ইবনু হাবীব ইবনু আসাদ ইবনু আবদুল উযযা একদিন তার কাছে গেলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তার কাছে গেলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললামঃ এ হ'ল হাওলা বিনতু তুওয়াইত। লোকজন বলে থাকে যে, সে রাতে ঘুমায় না। অর্থাৎ সারারাত ইবাদাত-বন্দেগী করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথায় বিস্মিত হয়ে বললেনঃ সে রাতেও ঘুমায় না? তোমরা নাফল আমল ততটুকু কর যতটুকু তোমাদের সাধ্য আছে। আল্লাহর কসম, তিনি পুরস্কার দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমরাই (ইবাদাতে) ক্লান্ত হয়ে পড়বে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭০৩, ইসলামীক সেন্টার)