ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ আল আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো দ্বারা আল্লাহ তার বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন। আর এ দুটি কোন মানুষের মৃত্যুর জন্য গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা সালাত আদায় কর এবং দু'আ করতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের এ অবস্থা দূর না করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী ও ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ অবশ্যই কোন মানুষের মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। বরং এগুলো আল্লাহর দুটি নিদর্শন। অতএব তোমরা যখন তা (গ্রাস) দেখ তখন উঠে গিয়ে সালাত আদায় কর। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শয়বাহ, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবনু আবূ উমর (রহঃ) .... সকলেই ইসমাঈল (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে সুফইয়ান ও ওয়াকী' এর হাদীসে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ যেদিন ইবরাহীম (ইবনু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইনতিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন লোকেরা বলতে লাগল, ইবরাহীম এর মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ লেগেছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ ‘আমির আল আশ'আরী আবদুল্লাহ ইবনু বাররাদ ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ...... আবূ মূসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ লাগল। তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়ালেন। (রাবীর ধারণা) তিনি কিয়ামত হওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। অবশেষে তিনি মসজিদে এসে সালাতে দাঁড়ালেন এবং সবচেয়ে লম্বা কিয়াম, লম্বা রুকু, লম্বা সিজদা সহকারে সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি কখনও কোন সালাত তাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) এত লম্বা করতে দেখিনি। সালাত শেষ করে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এসব নিদর্শনাবলী যা যা আল্লাহ জগতে পাঠান। কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা জীবনের কারণেই অবশ্যই তা হয় না। বরং আল্লাহ এগুলো পাঠিয়ে বান্দাদের সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন এমন কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা ভীত হয়ে আল্লাহর যিকর, দু'আ ও ইস্তিগফারে মশগুল হও। ইবনু আলা এর বর্ণনায় রয়েছেঃ সূর্যগ্রহণের সময় এবং তিনি বলেন, বান্দাদের সতর্ক করার জন্য। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2118 — Sahih Muslim 10:27
وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، حَيَّانَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا أَنَا أَرْمِي، بِأَسْهُمِي فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذِ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ فَنَبَذْتُهُنَّ وَقُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى مَا يَحْدُثُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي انْكِسَافِ الشَّمْسِ الْيَوْمَ فَانْتَهَيْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ يَدْعُو وَيُكَبِّرُ وَيَحْمَدُ وَيُهَلِّلُ حَتَّى جُلِّيَ عَنِ الشَّمْسِ فَقَرَأَ سُورَتَيْنِ وَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ .
উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় আমি তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্রহণ লাগল। তখন আমি এগুলো ফেলে রেখে মনে মনে ভাবলাম, আজ সূর্যগ্রহণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নতুন কিছু প্রকাশ পায় কিনা তা অবশ্যই দেখব। আমি তার কাছে পৌছে গেলাম। এ সময় তিনি দু' হাত উঠিয়ে দুআ করছিলেন এবং তাকবীর (আল্ল-হু আকবার), তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ) ও তাহলীলে (লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ) মশগুল ছিলেন। অবশেষে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। এরপর তিনি দু'টি সূরাহ পাঠ করলেন এবং দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2119 — Sahih Muslim 10:28
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ حَيَّانَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ كُنْتُ أَرْتَمِي بِأَسْهُمٍ لِي بِالْمَدِينَةِ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كَسَفَتِ الشَّمْسُ فَنَبَذْتُهَا فَقُلْتُ وَاللَّهِ لأَنْظُرَنَّ إِلَى مَا حَدَثَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ قَالَ فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ قَائِمٌ فِي الصَّلاَةِ رَافِعٌ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يُسَبِّحُ وَيَحْمَدُ وَيُهَلِّلُ وَيُكَبِّرُ وَيَدْعُو حَتَّى حُسِرَ عَنْهَا . قَالَ فَلَمَّا حُسِرَ عَنْهَا قَرَأَ سُورَتَيْنِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... 'আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে আমি একবার মাদীনায় তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এমন সময় সূর্যগ্ৰহণ আরম্ভ হ'ল। তখন আমি এগুলো ফেলে রেখে মনে মনে বললাম, আল্লাহর কসম! সূর্যগ্রহণকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যা কিছু প্রকাশ পায়, তা অবশ্যই দেখব। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে দেখি তিনি সালাতে দণ্ডায়মান এবং দু' হাত উঠিয়ে তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহমীদ (আল হামদুলিল্লা-হ), তাহলীল (লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ), তাকবীর (আল্ল-হু আকবার) ও দু'আ করছেন, অবশেষে সূর্য গ্রাসমুক্ত হ'ল এবং তিনি দুটি সূরাহ পাঠ করলেন এবং দু' রাকাআত সালাত আদায় করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময় একবার আমি আমার তীর ছুড়ছিলাম, এমন সময় সূর্যগ্রহণ লাগল। অতঃপর পূর্বোক্ত বর্ণনাকারীর মতো বর্ণনা করেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৮৯, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ কারো জীবন ও মৃত্যুর কারণে লাগে না। বরং এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব তোমরা যখন এ দুটি (গ্রহণ লাগতে) দেখ, তখন সালাতে মশগুল হও। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৯০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... যিয়াদ ইবনু ইলাকাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় অর্থাৎ যেদিন ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল করেন, সূর্যগ্রহণ লেগেছিল তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। এগুলো কারো জীবন ও মরণের কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব যখন তোমরা তা দেখতে পাও। আল্লাহর কাছে দু'আ কর ও সালাত আদায় করতে থাক যে পর্যন্ত গ্রাসমুক্ত না হয়। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৯৯১, ইসলামীক সেন্টার)