Qurani·قرآني
বাংলা

কিতাবুল ফাযায়েল (ফজিলত)

5785 হাদিস · #384–6168

হাদিস 2984 — Sahih Muslim 15:192
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ حَفْصَةَ، - رضى الله عنهم - زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا وَلَمْ تَحْلِلْ أَنْتَ مِنْ عُمْرَتِكَ قَالَ ‏ "‏ إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ ‏"‏ ‏.‏
–(১৭৬/১২২৯) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হাফসাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরামমুক্ত হল অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, আমি আমার মাথার চুল জমাট করেছি এবং কুরবানীর পশুর গলায় মালা বেঁধেছি। অতএব আমি কুরবানী না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫০, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2985 — Sahih Muslim 15:193
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، - رضى الله عنهم - قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ لَمْ تَحِلَّ بِنَحْوِهِ ‏.‏
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... হাফসাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, আপনি ইহরাম খুলেননি? ... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2986 — Sahih Muslim 15:194
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، - رضى الله عنهم - قَالَتْ قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا وَلَمْ تَحِلَّ مِنْ عُمْرَتِكَ قَالَ ‏ "‏ إِنِّي قَلَّدْتُ هَدْيِي وَلَبَّدْتُ رَأْسِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَحِلَّ مِنَ الْحَجِّ ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... হাফসাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরাম খুলেছে অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, আমি কুরবানীর পশুর গলায় মালা বেঁধেছি এবং মাথার চুল জমাট করেছি। অতএব হাজ্জের (হজ্জের/হজের) যাবতীয় অনুষ্ঠান শেষ না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2987 — Sahih Muslim 15:195
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ حَفْصَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ بِمِثْلِ حَدِيثِ مَالِكٍ ‏ "‏ فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। হাফসাহ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ..... মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ- কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৩, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2988 — Sahih Muslim 15:196
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمَخْزُومِيُّ، وَعَبْدُ الْمَجِيدِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ، - رضى الله عنها - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَزْوَاجَهُ أَنْ يَحْلِلْنَ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ ‏.‏ قَالَتْ حَفْصَةُ فَقُلْتُ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَحِلَّ قَالَ ‏ "‏ إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ هَدْيِي ‏"‏ ‏.‏
ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসাহ (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজের (হজ্জের/হজের) দিন তার স্ত্রীদের (উমরাহ সমাপনের পর) নির্দেশ দিলেন তারা যেন ইহরাম খুলেন। হাফসাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনাকে ইহরাম খুলতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন, আমি মাথার চুল আঠালো করেছি এবং সাথে কুরবানীর পশু এনেছি। অতএব পশু কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারি না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৪, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2989 — Sahih Muslim 15:197
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - خَرَجَ فِي الْفِتْنَةِ مُعْتَمِرًا وَقَالَ إِنْ صُدِدْتُ عَنِ الْبَيْتِ صَنَعْنَا كَمَا صَنَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ فَأَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَسَارَ حَتَّى إِذَا ظَهَرَ عَلَى الْبَيْدَاءِ الْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ مَا أَمْرُهُمَا إِلاَّ وَاحِدٌ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ الْحَجَّ مَعَ الْعُمْرَةِ ‏.‏ فَخَرَجَ حَتَّى إِذَا جَاءَ الْبَيْتَ طَافَ بِهِ سَبْعًا وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعًا لَمْ يَزِدْ عَلَيْهِ وَرَأَى أَنَّهُ مُجْزِئٌ عَنْهُ وَأَهْدَى ‏.‏
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হাঙ্গামা [হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর মধ্যকার সংঘাত] চলাকালীন সময়ে উমরাহ করার উদ্দেশে রওনা হন। তিনি বলেন, বায়তুল্লাহ পৌছতে আমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হই তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যেরূপ করেছিলাম, এখনও তদ্রুপ করব। অতএব তিনি রওনা হলেন এবং উমরার ইহরাম বাঁধলেন, তিনি সফর অব্যাহত রাখলেন; যতক্ষণ না আল বায়দা নামক স্থানে পৌছলেন। এখানে তিনি নিজের সঙ্গীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, হাজ্জ ও উমরাহ উভয়ের নিয়ম একই। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি নিজের জন্য হাজ্জ (হজ্জ/হজ)-কে উমরার সাথে বাধ্যতামূলক করলাম। (রাবী বলেন) অতএব তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌছলেন, সাতবার ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং নিজের (হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরার) জন্য এটাই (এক ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) ও এক সাঈ) যথেষ্ট বিবেচনা করলেন এবং কুরবানী করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৫, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2990 — Sahih Muslim 15:198
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، كَلَّمَا عَبْدَ اللَّهِ حِينَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ لِقِتَالِ ابْنِ الزُّبَيْرِ قَالاَ لاَ يَضُرُّكَ أَنْ لاَ تَحُجَّ الْعَامَ فَإِنَّا نَخْشَى أَنْ يَكُونَ بَيْنَ النَّاسِ قِتَالٌ يُحَالُ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْبَيْتِ قَالَ فَإِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَعَلْتُ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعَهُ حِينَ حَالَتْ كُفَّارُ قُرَيْشٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً ‏.‏ فَانْطَلَقَ حَتَّى أَتَى ذَا الْحُلَيْفَةِ فَلَبَّى بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ قَالَ إِنْ خُلِّيَ سَبِيلِي قَضَيْتُ عُمْرَتِي وَإِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَعَلْتُ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَعَهُ ‏.‏ ثُمَّ تَلاَ ‏{‏ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ‏}‏ ثُمَّ سَارَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِظَهْرِ الْبَيْدَاءِ قَالَ مَا أَمْرُهُمَا إِلاَّ وَاحِدٌ إِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَ الْعُمْرَةِ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَ الْحَجِّ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجَّةً مَعَ عُمْرَةٍ ‏.‏ فَانْطَلَقَ حَتَّى ابْتَاعَ بِقُدَيْدٍ هَدْيًا ثُمَّ طَافَ لَهُمَا طَوَا��ًا وَاحِدًا بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ لَمْ يَحِلَّ مِنْهُمَا حَتَّى حَلَّ مِنْهُمَا بِحَجَّةٍ يَوْمَ النَّحْرِ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ এবং সালিম ইবনু আবদুল্লাহ উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর সাথে কথা বললেন- যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল। তারা উভয়ে বললেন, এ বছর হজ্জ না করলে আপনার কী ক্ষতি আছে? কারণ আমাদের আশংকা হচ্ছে- গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আপনি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌছতে পারবেন না। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, যদি তা আমার ও বায়তুল্লাহ এর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়ও তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, আমিও তদ্রুপ করব। কুরায়শ কাফিররা যখন তার ও বায়তুল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল, এ সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি উমরার নিয়্যত করলাম। অতঃপর তিনি রওনা হয়ে যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌছে উমরার জন্য তালবিয়াহ পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, যদি আমার পথ উন্মুক্ত থাকে, তবে আমি উমরাহ পূর্ণ করব। আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহ এর মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন আমিও তাই করব। সে সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ" (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। তিনি আবার চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না বায়দা নামক স্থানের উপকণ্ঠে পৌছলেন। এখানে পৌছে তিনি বললেনঃ হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরার বিধান একই। যদি আমার এবং উমরার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে আমার এবং হাজ্জের (হজ্জের/হজের) মাঝেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি আমার উমরার সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ)-কেও বাধ্যতামূলক করে নিলাম। অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং কুদায়দ নামক স্থানে পৌছে কুরবানীর পশু ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরাহ উভয়ের জন্য এক ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) (সাত চক্কর) ও এক সাঈ (সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার দৌড়) করলেন এবং ইহরাম খুললেন না, বরং হাজ্জ (হজ্জ/হজ) সমাপন করে কুরবানীর দিন উভয়ের ইহরাম খুললেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2991 — Sahih Muslim 15:199
وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ أَرَادَ ابْنُ عُمَرَ الْحَجَّ حِينَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ بِابْنِ الزُّبَيْرِ ‏.‏ وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ هَذِهِ الْقِصَّةِ وَقَالَ فِي آخِرِ الْحَدِيثِ وَكَانَ يَقُولُ مَنْ جَمَعَ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ كَفَاهُ طَوَافٌ وَاحِدٌ وَلَمْ يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا ‏.‏
ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হাজ্জাজ যে বছর ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল- ঐ বছর উমর (রাযিঃ) হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সংকল্প করলেন। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এ সূত্রে হাদীসের শেষাংশে উল্লেখ আছে যে, "তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি হাজ্জ (হজ্জ/হজ) ও উমরার জন্য একত্রে ইহরাম বাঁধল, তার জন্য এক ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ)ই (সাত চক্কর) যথেষ্ট এবং উভয়ের অনুষ্ঠান সমাপ্ত না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2992 — Sahih Muslim 15:200
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، أَرَادَ الْحَجَّ عَامَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ بِابْنِ الزُّبَيْرِ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ النَّاسَ كَائِنٌ بَيْنَهُمْ قِتَالٌ وَإِنَّا نَخَافُ أَنْ يَصُدُّوكَ فَقَالَ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ أَصْنَعُ كَمَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً ‏.‏ ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى كَانَ بِظَاهِرِ الْبَيْدَاءِ قَالَ مَا شَأْنُ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ إِلاَّ وَاحِدٌ اشْهَدُوا - قَالَ ابْنُ رُمْحٍ أُشْهِدُكُمْ - أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجًّا مَعَ عُمْرَتِي ‏.‏ وَأَهْدَى هَدْيًا اشْتَرَاهُ بِقُدَيْدٍ ثُمَّ انْطَلَقَ يُهِلُّ بِهِمَا جَمِيعًا حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ذَلِكَ وَلَمْ يَنْحَرْ وَلَمْ يَحْلِقْ وَلَمْ يُقَصِّرْ وَلَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ فَنَحَرَ وَحَلَقَ وَرَأَى أَنْ قَدْ قَضَى طَوَافَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ بِطَوَافِهِ الأَوَّلِ ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ كَذَلِكَ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ ও কুতায়বাহ (রহঃ) ..... নাফি' (রহঃ) থেকে বর্ণিত। হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ যে বছর ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হল- সে বছর আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) হজ্জে যাবার সংকল্প করলেন। তাকে বলা হল, লোকদের মধ্যে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং আমাদের আশংকা হচ্ছে- তারা আপনাকে বাধা দিবে। তিনি বললেন, "তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ-" (সূরা আল আহযাব ৩৩ঃ ২১)। এরূপ পরিস্থিতিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন, আমিও অনুরূপ করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয়ই আমি উমরার সংকল্প করেছি। অতঃপর তিনি রওনা হলেন। অবশেষে যখন আল বায়দার উপকণ্ঠে পৌছলেন তখন তিনি বললেন, হাজ্জ ও উমরার অবস্থা একই, তোমরা সাক্ষী থাক। ইবনু রুমূহের বর্ণনায় আছেঃ আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি নিশ্চয়ই আমার উমরার সাথে হাজ্জ (হজ্জ/হজ) অনিবার্য করে নিলাম। অতঃপর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিলেন যা তিনি কুদায়দ নামক স্থানে ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর তিনি হাজ্জ ও উমরার একত্রে ইহরাম বেঁধে অগ্রসর হলেন। অবশেষে মাক্কায় (মক্কায়) পৌছে তিনি বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করলেন না। তিনি কুরবানীও করেননি। মাথা মুণ্ডান বা চুল ছাঁটেননি এবং (ইহরামের কারণে) যা কিছু তার জন্য হারাম হয়েছিল, তার কোনটি হালাল করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন ও মাথা কামালেন এবং তার মত অনুযায়ী তিনি তার প্রথম ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) দ্বারাই হাজ্জ ও উমরার তাওয়াফ সম্পাদন করে ফেলেছেন। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৮, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2993 — Sahih Muslim 15:201
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَأَبُو كَامِلٍ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ، حَرْبٍ حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ، كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ‏.‏ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ فِي أَوَّلِ الْحَدِيثِ حِينَ قِيلَ لَهُ يَصُدُّوكَ عَنِ الْبَيْتِ ‏.‏ قَالَ إِذًا أَفْعَلَ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي آخِرِ الْحَدِيثِ هَكَذَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ كَمَا ذَكَرَهُ اللَّيْثُ ‏.‏
আবূ রবী' আয যাহরানী, আবূ কামিল ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... নাফি সূত্রে ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ ঘটনা বর্ণনা করেন। তবে এ সূত্রে হাদীসের প্রথমাংশে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উল্লেখ করেছেন- যখন তাকে বলা হল, আপনি বায়তুল্লাহ এ পৌঁছতে বাধাগ্রস্ত হবেন। তখন তিনি বললেন, তাহলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ করেছেন, আমিও তদ্রুপ করব। তিনি হাদীসের শেষে উল্লেখ করেননি যে, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন" যেমন লায়স (রহঃ) এর বর্ণনায় রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৮৫৯, ইসলামীক সেন্টার)
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।