ইউসুফ ইবনু হাম্মদ আল মা'নী (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) কে মুযদালিফায় বলতে শুনেছি যে, যার উপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে, তাকে আমি বলতে শুনেছিঃ "লাব্বায়কা আল্ল-হুম্মা লাব্বায়কা।” এরপর তিনি (ইবনু মাসউদ) তালবিয়াহ পাঠ করলেন এবং আমরাও তার সঙ্গে তালবিয়াহ পাঠ করলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬০, ইসলামীক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু হাম্বাল, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও সাঈদ ইবনু ইয়াহইয়া আল উমাবী (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমরা সকালবেলা যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মিনা থেকে আরাফার দিকে রওনা হলাম, তখন আমাদের মধ্যে কতক তালবিয়াহ পাঠকারী এবং কতক তাকবীর পাঠকারী ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3096 — Sahih Muslim 15:301
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَيَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، قَالُوا أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَدَاةِ عَرَفَةَ فَمِنَّا الْمُكَبِّرُ وَمِنَّا الْمُهَلِّلُ فَأَمَّا نَحْنُ فَنُكَبِّرُ قَالَ قُلْتُ وَاللَّهِ لَعَجَبًا مِنْكُمْ كَيْفَ لَمْ تَقُولُوا لَهُ مَاذَا رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম, হারূন ইবনু আবদুল্লাহ ও ইয়াকুব আদ দাওরাকী (রহঃ) ...... 'আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আরাফাহ দিবসের সকালবেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করছিল, আর কতক তালবিয়াহ পাঠ করেছিল। আমরা তাকবীর ধ্বনি করেছি। অধঃস্তন রাবী (আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সালামাহ) বলেন, আমি (আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহকে) বললাম, কী আশ্চর্য আপনি তাকে (আবদুল্লাহ ইবনু উমার) কেন জিজ্ঞেস করলেন না যে, আপনি এ ক্ষেত্রে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কী করতে দেখেছেন? (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বাকর আস্ সাক্বাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর সাথে সকালবেলা মিনা থেকে আরাফায় যাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা এ দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কিভাবে কী করতেন? তিনি বললেন, আমাদের কতক তালবিয়াহ পাঠ করত কিন্তু তাতে বাঁধা দেয়া হতো না এবং কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করত কিন্তু তাতেও বাঁধা দেয়া হতো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ বকর (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফাহ দিবসের সকালবেলা আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিন আপনারা তালবিয়ার ক্ষেত্রে কী বলতেন? তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমি ও তার সাহাবীগণ এ পথ ভ্রমণ করেছি। আমাদের কতক 'আল্লা-হু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করেছে এবং কতক তালবিয়াহ্ (লাব্বায়কা আল্লা-হুম্মা লাব্বায়কা) উচ্চারণ করেছে। এতে আমাদের কেউ কারো দোষ ধরেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব থেকে উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি তাকে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন, পাহাড়ের সরু পথের নিকট পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন, এরপর হালকা ওযু করলেন, পূর্ণ ওযু নয়। আমি তাকে বললাম, সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেছে। তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব। এরপর তিনি সওয়ারীতে আরোহণ করলেন, মুযদালিফায় পৌছে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। এরপর সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং (এখানে) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর প্রত্যেকে নিজ নিজ উট বসাল (বিশ্রামের জন্য), এরপর ইশার সালাতের ইকামাত দেয়া হল এবং তিনি ইশার সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করলেন। এ দুই সালাতের মধ্যে তিনি অন্য কোন সালাত আদায় করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনের পথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য কোন এক গিরিপথে গেলেন। এরপর আমি তার ওযুর পানি ঢেলে দিলাম, এরপর বললাম, সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন কি? তিনি বললেন, সামনে এগিয়ে সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আবূ কুরায়ব (রহ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করলেন। তিনি গিরিপথের নিকটে পৌছে বাহন থেকে নেমে পেশাব করলেন। উসামাহ্ এ কথা বলেননি যে, তিনি পানি ঢেলে দিয়েছেন। বরং বলেছেন, তিনি পানি চাইলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সালাত তো তোমার সম্মুখে রয়েছে। রাবী বলেন, এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চলতে থাকলেন এবং মুযদালফায় পৌছলেন। এরপর মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কুরায়ব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তার বাহনে আরোহণ করলেন, তখন 'আরাফাহ দিবসের সন্ধ্যায় আপনারা কী করেছিলেন? তিনি বললেন, যে উপত্যকায় লোকেরা মাগরিবের সময় নিজের উটকে (বিশ্রামের জন্য) বসায়, সেখানে এলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উট বসালেন এবং পেশাব করলেন। উসামাহ্ (রাযিঃ) পানি ঢেলে দেয়ার কথা বলেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর পানি চেয়ে আনলেন এবং হালকাভাবে ওযু করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করবেন? তিনি বললেন, সালাত তোমার সম্মুখে। এরপর তিনি সওয়ার হয়ে রওনা করলেন। অবশেষে আমরা মুযদালিফায় আসলাম। মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। লোকেরা নিজ নিজ স্থানে উট বসাল কিন্তু মাল-সামান খুলল না, এমনকি ইশার সালাতে দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর লোকেরা মাল-সামান নামাল। আমি (কুরায়ব) বললাম, ভোর হওয়ার পর আপনারা কী করলেন? তিনি (উসামাহ) বললেন, ফাযল ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তার বাহনে (তার পিছনে) সওয়ার হলেন এবং আমি কুরায়শদের অগ্রভাগে পদব্রজে রওনা হলাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যে উপত্যকায় মাক্কার (মক্কার) সম্রান্ত লোকেরা অবতরণ করত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবতরণ করে পেশাব করলেন। তিনি পানি ঢেলে দেয়ার কথা উল্লেখ করেননি। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযুর পানি চাইলেন এবং হালকা ওযু করলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সালাত (সালাত/নামাজ/নামায)। তিনি বললেন, সালাত সামনে এগিয়ে আদায় করা হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৯৬৯, ইসলামীক সেন্টার)