মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট কুরবানীর পশু পিঠে আরোহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ প্রয়োজনবোধে এর পিঠে আরোহণ করতে পার, একে কষ্ট না দিয়ে- যতক্ষণ না অন্য সওয়ারী পাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮০, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3215 — Sahih Muslim 15:419
وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرًا عَنْ رُكُوبِ الْهَدْىِ، فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " ارْكَبْهَا بِالْمَعْرُوفِ حَتَّى تَجِدَ ظَهْرًا " .
সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... আবূ যুবায়র (রহঃ) বলেন, আমি জাবির (রাযিঃ) এর নিকট কুরবানীর পশুর পিঠে আরোহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি সহানুভূতির সাথে এর পিঠে আরোহণ কর- যদি অন্য সওয়ারী না পাও। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮১, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... মূসা ইবনু সালামাহ্ আল হুযালী (রহঃ) বলেন, আমি ও সিনান ইবনু সালামাহ উমরাহ পালনের জন্য রওনা হলাম। সিনানের একটি কুরবানীর উট ছিল। সে পশুটি হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পশুটি অচল হয়ে পড়লে এ ব্যাপারে সে অসহায় ও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ল এবং (মনে মনে বলল) এ যদি সামনে অগ্রসর না হতে পারে, তবে এটাকে কী করে গন্তব্যস্থলে নেয়া যাবে? সে বলল, যদি মাক্কাহ (মক্কা) পর্যন্ত পৌছতে পারতাম তবে এ সম্পর্কে ভালরূপে মাসআলাহ জেনে নিতাম। রাবী বলেন, আমরা দিনের প্রথমভাগে আবার চলতে শুরু করলাম এবং বাতহা নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম। সিনান বলল, চল আমরা ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে (বিষয়টি) আলোচনা করি। রাবী বলেন, সিনান তার নিকটে নিজের উটের কথা বর্ণনা করল। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তুমি উত্তমরূপে অবহিত ব্যক্তির নিকটই বিষয়টি বর্ণনা করেছ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির মাধ্যমে ষোলটি উট (মাক্কার (মক্কার) হারামে) পাঠালেন এবং তাকে এগুলোর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেন। রাবী বলেন, সে রওনা হয়ে গেল এবং পুনরায় ফিরে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি এর মধ্যকার কোন পশু চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে, তবে কী করব? তিনি বললেনঃ তা যাবাহ কর এবং এর (গলায় বাঁধা) জুতা জোড়া রক্তে রঞ্জিত করে এর কুজের উপর রেখে দাও। এর গোশত তুমিও খাবে না, তোমার সঙ্গীদের কেউও খাবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮২, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে আঠারটি উট (কুরবানীর জন্য মাক্কার (মক্কার) হারামে) পাঠালেন। ..... অবশিষ্ট আবদুল ওয়ারিসের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ সানাদে হাদীসের প্রথমাংশের (সিনানের সাথে সংশ্লিষ্ট) ঘটনা উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ গাসসান আল মিসমাঈ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তার নিকট যুআয়বা আবূ কবীসাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরবানীর উটসহ (মাক্কায় (মক্কায়)) পাঠাতেন এবং বলে দিতেনঃ "এগুলোর মধ্যকার কোন উট দুর্বল হয়ে চলতে অক্ষম হয়ে পড়লে এবং তুমি এর মৃত্যুর আশংকা করলে তা যাবাহ করে দিও। অতঃপর এর (গলায় বাঁধা) জুতা জোড়া রক্ত রঞ্জিত করে এর কুঁজে ছাপ মেরে দিও। তুমি এবং তোমার সঙ্গীদের কেউই গোশত খাবে না।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বিভিন্ন পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “কেউই যেন শেষবারের মতো বায়তুল্লাহ তওয়াফ না করা পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন না করে।” যুহায়রের বর্ণনায় (في) (মাঝে) কী অব্যয়টি উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৫, ইসলামীক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু মানসূর ও আবূ বাকর ইবনু শায়বাহ (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, লোকদেরকে (প্রত্যাবর্তনকালে) শেষবারের মত বায়তুল্লাহ তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঋতুবতী মহিলাদেরকে তা থেকে রেহাই দেয়া হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৬, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ... তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে বললেন, আপনি কি এ ফাতাওয়া দিচ্ছেন যে, হায়যগ্রস্ত মহিলা বিদায়ী তওয়াফ না করেই প্রস্থান করতে পারবে? ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তাকে বললেন, যদি আপনি আশ্বস্ত না হতে পারেন, তবে অমুক আনসারী মহিলাকে জিজ্ঞেস করুন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাকে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন? তাওস বলেন, যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) হাসতে হাসতে ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট ফিরে এসে বললেন, আমি মনে করি আপনি সত্য কথাই বলেছেন (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3222 — Sahih Muslim #3222
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ حَاضَتْ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ بَعْدَ مَا أَفَاضَتْ - قَالَتْ عَائِشَةُ - فَذَكَرْتُ حِيضَتَهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحَابِسَتُنَا هِيَ " . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ كَانَتْ أَفَاضَتْ وَطَافَتْ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَاضَتْ بَعْدَ الإِفَاضَةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلْتَنْفِرْ" .
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ ও উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, উন্মুল মু'মিনীন সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই (রাযিঃ) ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেন, আমি তার হায়িযের কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে কি আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে? আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হয়েছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে সে রওনা হতে পারে।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ তহির, হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু ঈসা (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে এ সানাদে বর্ণিত। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী সফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই বিদায় হাজ্জকালে পবিত্র অবস্থায় ত্বওয়াফে ইফাযাহ করার পর হায়যগ্রস্ত হন। ... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত লায়সের হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩০৮৯, ইসলামীক সেন্টার)