حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا أَحَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ قَالَ نَعَمْ هِيَ حَرَامٌ لاَ يُخْتَلَى خَلاَهَا فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আসিম আল আহওয়াল (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মাদীনাকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তা হারাম। অতএব এখানকার উদ্ভিদ উপড়ানো যাবে না। যে ব্যক্তি তা করবে তার উপর আল্লাহ, তার মালাক্ব এবং সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, যুহায়র ইবনু হারব ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) .... ইবরাহীম আত্ তায়মী (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী ইবনু আবূ তুলিব (রাযিঃ) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের (আহলে বায়ত) কাছে আল্লাহর কিতাব ছাড়া যা আমরা পাঠ করি এবং এ সহীফাহ্ রাবী বলেন, অর্থাৎ ঐ সহীফাহ্ যা তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত ছিল তা ছাড়া কিছু আছে, সে মিথ্যা বলে। এ সহীফায় উটের বয়স* এবং কিছু যখমের বর্ণনা ছিল। এর মধ্যে আরও ছিল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনার আয়র ও সাওর এর মধ্যবর্তী স্থান হারাম। এখানে যে ব্যক্তি কোন বিদআতী কর্মে লিপ্ত হয় অথবা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফারয (ফরয) ও নাফল ইবাদাত কবুল করবেন না। মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকর। যে অন্য পিতার সাথে নিজ বংশ দাবী করে অথবা নিজ মুনীবের পরিবর্তে অন্য মুনীবের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করে তার উপর আল্লাহ, তার ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না। রাবী বলেন, আবূ বাকর ও যুহায়রের হাদীস শেষ হয়ে গেছে "তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকরী" এ কথা পর্যন্ত। তারা এর পরবতী অংশ উল্লেখ করেননি। তাদের উভয়ের বর্ণনায় "তার তরবারির খাপে ঝুলন্ত" কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৩, ইসলামীক সেন্টার)
‘আলী ইবনু হুজুর আস্ সাদী, আবূ সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে উল্লেখ আছে “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে (নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর) বিশ্বাসঘাতকতা করে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কোন ইবাদাতই কবুল করা হবে না। তাদের (‘আলী ও ওয়াকী) উভয়ের বর্ণনায় “যে ব্যক্তি নিজ পিতৃ পরিচয়ের পরিবর্তে অন্য পিতৃ পরিচয়ের দাবী করে কথাটুকুর উল্লেখ এবং ওয়াকী’র বর্ণনায় “কিয়ামতের দিন" কথাটুকুর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে ইবনু মুসহির ও ওয়াকী'র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এদের বর্ণনায় “গোলাম নিজের মুনীবের পরিবর্তে অন্যকে নিজের মুনীব বলে পরিচয় দেয়” কথাটুকু নেই। আর তার প্রতি লা'নাতের কথা উল্লেখিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৫, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মাদীনাহ হারাম। অতএব, যে এখানে কোন পাপে লিপ্ত হয় অথবা কোন পাপীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকাহ এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল (কিছুই) কবুল করা হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু নাযর ইবনু আবূ নাযর (রহঃ) ..... আ'মাশ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি কিয়ামতের দিন কথাটুকু বলেননি। তিনি বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন, “মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তা ও কার্যকর। কেউ যদি মুসলিম প্রদত্ত নিরাপত্তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করে তবে তার উপর আল্লাহ, তার মালায়িকাহ এবং সমগ্র মানব জাতির লা'নাত। কিয়ামতের দিন তার ফারয (ফরয) বা নাফল কিছুই কবুল হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যদি মাদীনায় হরিণ বিচরণ করতে দেখি তবে তাকে ভয় দেখাব না। (কেননা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাদীনার দু’পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৮, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম ঘোষণা করেছেন। আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি যদি মাদীনার দু' পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশে হরিণ বিচরণ করতে দেখি, তবে আমি তাকে উত্যক্ত করব না এবং তিনি মাদীনার চারপাশের বারো মাইল পর্যন্ত চরণভূমি ঘোষণা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩১৯৯, ইসলামীক সেন্টার)