খালাফ ইবনু হিশাম ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... জুদামাহ বিনতু ওয়াহব আল আসাদিয়্যাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, আমি স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ইচ্ছে করলাম। এরপর আমার নিকট আলোচনা করা হল যে, রোম ও পারস্যবাসী লোকেরাও তা করে থাকে, অথচ তাতে তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, খালাফ তার সানাদ বর্ণনায় "জুদামাহ্ আল আসাদিয়্যাহ্" উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইয়াহইয়া বর্ণিত 'জুযামাহ' শব্দটিই সঠিক ও নির্ভুল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪২৯, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ্ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমর (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উকাশার ভগ্নি জুদামাহ্ বিনতু ওয়াহব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন কিছু সংখ্যক লোকের সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হাযির হলাম। তিনি তখন বলছিলেন, আমি স্তন্যদায়িনী মহিলার সাথে সঙ্গম করা নিষেধ করার ইচ্ছা করলাম, এমতাবস্থায় আমি রোম ও পারস্যবাসী লোকদের অবস্থার কথা বিবেচনা করে অবগত হলাম যে, তারা তাদের স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে থাকে, কিন্তু তা তাদের সন্তান-সন্ততির কোনরূপ ক্ষতি করে না। অতঃপর লোকেরা তাকে ‘আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তা হল গোপন হত্যা। রাবী উবায়দুল্লাহ তার বর্ণনায় আল মুকরী সূত্রে আয়াতটুকুও উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ "যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে" (সূরা আত্ তাকভীর ৮১ঃ ৮-৯)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ..... জুদামাহ বিনতু ওয়াহব আল আসাদিয়্যাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি। (এরপর) সাঈদ ইবনু আবূ আইয়ুব (রহঃ) থেকে বর্ণিত আযল ও গীলাহ সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে (গীলাহ এর পরিবর্তে) 'গিয়াল' উল্লেখ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩১, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3567 — Sahih Muslim 16:169
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ نُمَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمَقْبُرِيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، حَدَّثَنِي عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَهُ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، أَخْبَرَ وَالِدَهُ، سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي أَعْزِلُ عَنِ امْرَأَتِي . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِمَ تَفْعَلُ ذَلِكَ " . فَقَالَ الرَّجُلُ أُشْفِقُ عَلَى وَلَدِهَا أَوْ عَلَى أَوْلاَدِهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كَانَ ذَلِكَ ضَارًّا ضَرَّ فَارِسَ وَالرُّومَ " . وَقَالَ زُهَيْرٌ فِي رِوَايَتِهِ " إِنْ كَانَ لِذَلِكَ فَلاَ مَا ضَارَ ذَلِكَ فَارِسَ وَلاَ الرُّومَ "
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও যুহায়র ইবনু হারব (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে আযল করে থাকি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি এ কাজ কেন কর? লোকটি বলল, আমি তার সন্তানের ক্ষতির আশংকা করি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি এ কাজ ক্ষতিকর হত তাহলে তা পারস্য ও রোমবাসীদেরও ক্ষতিসাধন করত। রাবী যুহায়র তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, এ কাজ (আযল) যদি এ উদ্দেশেই হয় তাহলে তা করা সঠিক নয়। কেননা তা পারস্য ও রোমবাসীদের কোন প্রকার ক্ষতি করেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩২, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3568 — Sahih Muslim 17:1
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ عِنْدَهَا وَإِنَّهَا سَمِعَتْ صَوْتَ رَجُلٍ يَسْتَأْذِنُ فِي بَيْتِ حَفْصَةَ . قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا رَجُلٌ يَسْتَأْذِنُ فِي بَيْتِكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُرَاهُ فُلاَنًا " . لِعَمِّ حَفْصَةَ مِنَ الرَّضَاعَةِ . فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ كَانَ فُلاَنٌ حَيًّا - لِعَمِّهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ - دَخَلَ عَلَىَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِنَّ الرَّضَاعَةَ تُحَرِّمُ مَا تُحَرِّمُ الْوِلاَدَةُ " .
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে আমরাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, একদিন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অবস্থান করছিলেন; তিনি তখন কোন ব্যক্তির হাফসাহ (রাযিঃ) এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি লাভের আওয়াজ শুনতে পেলেন। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! এ লোক আপনার ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চায়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি জানি, অমুক, হাফসার দুধচাচা। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি তার (‘আয়িশার) দুধচাচা জীবিত থাকতেন তা হলে তিনি কি তার নিকট প্রবেশ করতে পারতেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হা, নিশ্চয় দুগ্ধ সম্পর্ক সে সব লোকদের হারাম করে দেয়, যাদের জন্মগত সম্পর্ক হারাম করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব ও আবূ মা'মার ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম আল হুযালী (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... ‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "দুগ্ধ সম্পর্ক সে সব লোকদের হারাম করে দেয়, যাদের জন্মগত সম্পর্ক হারাম করে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উরওয়াহ (রহঃ) আয়িশাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবূল কু'আয়স এর ভাই আফলাহ একবার তার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি ছিলেন তার দুধচাচা। এ ছিল পর্দার হুকুম অবতীর্ণ হবার পরবর্তী ঘটনা। তিনি বলেন, আমি তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। অতঃপর যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন আমি যা করেছি সে সম্পর্কে আমি তাকে অবহিত করলাম। তখন তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন তাকে (দুধচাচাকে) আমার নিকট আসার অনুমতি দেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার দুধ চাচা আফলাহ ইবনু আবূল কু'আয়স আমার কাছে এলেন। অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীসের ন্যায় হাদীস বর্ণনা করেন। তবে রাবী তার বর্ণনায় অতিরিক্ত বলেছেন, আমি বললাম, আমাকে এক মহিলা দুধ পান করিয়েছেন, কোন পুরুষ তো করাননি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার দু' হাত অথবা ডান হাত ধূলিমলিন হোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩৭, ইসলামীক সেন্টার)
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবূল কু'আয়স এর ভাই আফলাহ এসে তার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। এ ছিল পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হবার পরবর্তী ঘটনা। আবূল কুয়ায়স ছিলেন আয়িশাহ (রাযিঃ) এর দুধপিতা। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! আমি আফলাহ-কে আমার কাছে আসার অনুমতি দিব না যে পর্যন্ত না রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে অনুমতি না নেই। কেননা, আবূ কু'আয়স তো আমাকে দুধ পান করাননি, বরং আমাকে দুগ্ধপান করিয়েছে তার স্ত্রী। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বললেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আবূল কু'আয়স এর ভাই আফলাহ আমার নিকট প্রবেশের অনুমতি চেয়েছেন, কিন্তু আমি আপনার অনুমতি না নিয়ে তাকে আমার কাছে আসতে দিতে অস্বীকার করলাম। রাবী বলেন, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তাকে অনুমতি দাও। উরওয়াহ বলেন, এ কারণেই আয়িশাহ (রাযিঃ) বলতেন, “তোমরা দুধপানের সম্পর্ক দ্বারা ঐ সব লোকদের হারাম গণ্য করবে যাদের তোমরা বংশগত সম্পর্কের দ্বারা হারাম গণ্য কর।” (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৩৮, ইসলামীক সেন্টার)