আবূ ত্বাহির ও হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) একদিন আয়িশাহ (রাযিঃ) কে বললেন, আল্লাহর কসম আমি পছন্দ করি না যে, যে ছেলে দুধপানের সম্পর্ক থেকে মুক্ত আমাকে দেখুক। তিনি বললেন, কেন? একদা সুহায়ল এর কন্যা সাহ্লাহ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম আমার নিকট সলিমের প্রবেশ করার কারণে আমি আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলে অসন্তোষের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে তোমার দুধপান করিয়ে দাও। সাহলাহ্ বললেন, সে (সালিম) তো দাড়ি বিশিষ্ট। তিনি বললেন, তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও, তাতে আবূ হুযায়ফার মুখমণ্ডলের মলিনতা দূর হয়ে যাবে। সাহলার বর্ণনা, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, তারপরে আমি আবূ হুযায়ফার চেহারায় মলিনতা আর দেখতে পাইনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3605 — Sahih Muslim 17:38
حَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ، خَالِدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ، أَنَّ أُمَّهُ، زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّهَا أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَقُولُ أَبَى سَائِرُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُدْخِلْنَ عَلَيْهِنَّ أَحَدًا بِتِلْكَ الرَّضَاعَةِ وَقُلْنَ لِعَائِشَةَ وَاللَّهِ مَا نَرَى هَذَا إِلاَّ رُخْصَةً أَرْخَصَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِسَالِمٍ خَاصَّةً فَمَا هُوَ بِدَاخِلٍ عَلَيْنَا أَحَدٌ بِهَذِهِ الرَّضَاعَةِ وَلاَ رَائِينَا
“আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনুল লায়স (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল সহধর্মিণী দুধপান সম্পর্কের দ্বারা কাউকে তাদের নিকট প্রবেশ করতে নিষেধ করেন এবং তারা আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে বলেন, আল্লাহর কসম আমরা এটাকে (প্রাপ্ত বয়সে দুধপান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হওয়াকে) একটি বিশেষ অনুমতি মনে করি যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল সালিমের জন্য দিয়েছিলেন। অতএব এ ধরনের দুধপানের মাধ্যমে কেউ আমাদের নিকট প্রবেশ করতে পারবে না এবং আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করতে পারবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭০, ইসলামীক সেন্টার)
হান্নাদ ইবনু আস সারী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন তখন আমার নিকট একজন পুরুষ উপবিষ্ট ছিলেন। তাতে তার মন অতি ভারাক্রান্ত হয় এবং আমি তার চেহারায় ক্রোধের আলামত দেখতে পেলাম। তিনি বলেন, আমি তখন বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যক্তি আমার দুধভাই। তিনি বলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কারা তোমাদের দুধ ভাই, তা তোমরা ভাল করে দেখে নিও। কেননা রযা'আহ সাবিত হয় যখন দুধপানের দ্বারা সন্তানের ক্ষুধা নিবারিত হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭১, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার আল মায়সারাহ আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন এর যুদ্ধের সময় একটি দল আওত্বাস এর দিকে পাঠান। তারা শক্র দলের মুখোমুখী হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্য থেকে দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সাহাবা যেন নাজায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন "এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ" অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দাত (ইদ্দত) পূর্ণ করে নিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহিমাহুমুল্লাহ) ...... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়ন যুদ্ধের সময় একটি ছোট সেনাদল পাঠান- পরবর্তী অংশ ইয়াযীদ ইবনু যুরা'য় এর হাদীসের মর্মানুসারে। তবে এতে রয়েছে- তাদের (সধবাদের) মধ্য থেকে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত তারা তোমাদের জন্য হালাল। এ বর্ণনায় "যখন তারা তাদের ইদ্দাত (ইদ্দত) পূর্ণ করে নিবে" অংশটুকুর উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব আল হারিসী (রহঃ) ... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আওত্বাস এর যুদ্ধে কিছু কয়েদী সাহাবীগণের হস্তগত হয়, যাদের স্বামী ছিল। তারা (তাদের সাথে সঙ্গম করতে) ভয় পেলেন। তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়- "এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ।।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস এবং আবদ ইবনু যাম'আহ উভয়ে একটি সন্তানের ব্যাপারে ঝগড়া করেন। সা'দ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সন্তান উতবাহ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস, আমার ভাইয়ের ছেলে। তিনি আমাকে ওয়াসিয়্যাত করেছেন যে, এ সন্তান তারই পুত্র। আপনি তার সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য করুন। আর আবদ ইবনু যাম'আহ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সন্তান আমার ভাই। আমার পিতার ঔরসে দাসীর গর্ভে জন্মলাভ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানটির গঠনাকৃতির দিকে লক্ষ্য করলেন। দেখতে পেলেন উতবার সাথে স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। তখন তিনি বললেন, হে আবদ (ইবনু যাম'আহ) সন্তান তো বিছানার অধিপতির আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (এর শাস্তি)। হে সাওদা বিনত যাম'আহ! তুমি এর থেকে পর্দা করবে। ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর সে কখনো সাওদাহ (রাযিঃ) কে দেখেনি। মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ "ইয়া 'আবদু" শব্দটি উল্লেখ করেনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৪৭৮, ইসলামীক সেন্টার)