ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবূ বাকর ইবনু আবূ জাহম (রাযিঃ) বলেন, আমি এবং আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স এর কাছে গেলাম। এরপর আমরা তাকে (তার ত্বলাক (তালাক) (তালাক) সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি আবূ আমর হাফস্ ইবনু মুগীরার স্ত্রী ছিলাম। একবার তিনি নাজরানের যুদ্ধে রওনা হয়ে গেলেন। এরপর আবূ বকর ইবনু আবূ জাহম (রাযিঃ) ইবনু মাহদী বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন যে, “তিনি (ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স) বলেন, আর আমি তাকে বিয়ে করলাম। এরপর আল্লাহ ইবনু যায়দের দ্বারা আমাকে সম্মানিত করলেন এবং আমাকে তার মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৬, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু'আয আল আম্বারী (রহঃ) ..... আবূ বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর শাসনামলে আমি এবং আবূ সালামাহ্ (রাযিঃ) ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে বললেন যে, তার স্বামী তাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 3716 — Sahih Muslim 18:64
وَحَدَّثَنِي حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ طَلَّقَنِي زَوْجِي ثَلاَثًا فَلَمْ يَجْعَلْ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً .
হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী (রহঃ) ..... ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য বাসস্থান এবং খোরপোষের ফায়সালা দেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রাযিঃ) আবদুর রহমান ইবনু হাকাম এর কন্যাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি তাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দেন এবং তাকে তার থেকে বের করে দেন। উরওয়াহ (রহঃ) এতে তাদের ভৎসনা করেন। তারা বললেন, ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ)ও তো ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। উরওয়াহ বলেন, আমি আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর কাছে এলাম এবং তার কাছে এ ঘটনা উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর জন্য কোন কল্যাণ নেই যে, সে এ হাদীস বর্ণনা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৭৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... ফাত্বিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার স্বামী আমাকে তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন, আমার আশংকা হয় যে, তিনি আমার উপর চড়াও হবেন। তখন তিনি তাকে অন্যত্র চলে যাবার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি চলে গেলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮০, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু কায়স এর জন্য এ কথা বলায় কোন কল্যাণ নেই যে, তিন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্তা মহিলার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮১, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু কাসিম (রহঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) আয়িশাহ্ (রাযিঃ) কে বললেন, হাকামের অমুক মেয়েটির সম্পর্কে আপনি কি অবহিত নন যে, তার স্বামী তাকে বায়িন ত্বলাক (তালাক) (তালাক) দিয়েছেন? এরপর সে ঘর থেকে বের হয়েছে। তিনি বললেন, আপনি কি ফাতিমার উক্তি শুনেননি? তখন তিনি (উরওয়াহ্) বললেন, তার উক্তি বর্ণনার মধ্যে তার জন্য কোন কল্যাণ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮২, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মায়মূন, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি ও হারূন ইবনু আবদুল্লাহ (রহিমাহুমুল্লাহ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা ত্বলাক (তালাক) (তালাক) প্রাপ্ত হন। এরপর তিনি তার (খেজুর বাগানের) খেজুর পাড়ার ইচ্ছা করলেন। এক ব্যক্তি তাকে বাইরে যেতে বাধা দিলেন। তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ তুমি তোমার বাগানের খেজুর পাড়ার জন্য বাইরে যেতে পার। কারণ সম্ভবত তা থেকে অন্যদের সদাকাহ করবে অথবা অন্য কোন ভাল কাজ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৩, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া (রহিমাহুমাল্লাহ) ..... উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু আরকাম যুহরীকে নির্দেশ দিয়ে লিখলেন যে, তিনি যেন সুবায়'আহ বিনতু হারিস আসলামীর কাছে চলে যান। এরপর তাকে তার হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। যখন তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফাতাওয়া চাইছিলেন এবং তিনি তাকে যা বলেছিলেন তখন উমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাকে লিখে পাঠালেন যে, সুবায়'আহ তাকে জানিয়েছেন- তিনি বানু আমির ইবনু লুঈ গোত্রের সা'দ ইবনু খাওলার স্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাদরী সাহাবী এবং বিদায় হাজজের (হজ্জের/হজের) সময় ওফাত পান। সে সময়ে তিনি গর্ভবতী ছিলেন। তার স্বামীর ইন্তিকালের অব্যবহিত পরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। এরপর যখন তিনি নিফাস থেকে পবিত্র হলেন, তখন বিবাহের পয়গামদাতাদের জন্য সাজসজ্জা করতে লাগলেন। তখন বানু আবদুদ দার গোত্রের আবূ সানাবিল ইবনু বা'কাক নামক এক ব্যক্তি তার কাছে এলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, মতলব কী? আমি তোমাকে সাজসজ্জা করতে দেখতে পাচ্ছি। সম্ভবত তুমি বিবাহ প্রত্যাশী? আল্লাহর কসম চার মাস দশদিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি বিয়ে করতে পারবে না। সুবায়'আহ বললেন, যখন সে লোকটি আমাকে এ কথা বলল, তখন কাপড়-চোপড় পরিধান করে সন্ধ্যাবেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাকে সে বিষযে জানিয়ে দিলাম। তিনি আমাকে জানিয়ে দিলেন যে, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই আমার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তিনি আমাকে আরও নির্দেশ দিলেন যে, আমি ইচ্ছা করলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সস্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরপরই প্রসূতির জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে আমি দূষণীয় মনে করি না, যদিও সে তখন নিফাসের ইদ্দাত পালনরত থাকে। তবে নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পূর্বে স্বামী যেন স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম না করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আল আনাযী (রহঃ) ..... সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ সালামাহ্ ইবনু আবদুর রহমান (রাযিঃ) ও ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) এর কাছে সমবেত হলেন। তারা এমন একজন মহিলার কথা আলোচনা করছিলেন যিনি তার স্বামীর ইনতিকালের কয়েক দিন পরেই সন্তান প্রসব করেছেন। তখন ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তার ইদ্দাত হবে দু'টির মধ্যে দীর্ঘতরটি। আবূ সালামাহ (রাযিঃ) বললেন, তার ইদ্দাত পূর্ণ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তারা দু’জনে বিতর্ক শুরু করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বললেন, আমি আমার ভাতিজা আবূ সালামার পক্ষে। এরপর তারা সবাই ইবনু আব্বাসের মুক্তদাস কুরায়বকে উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) এর কাছে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালেন। সে তাদের কাছে এসে বলল যে, উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) বলেছেন, সুবায়'আহ আসলামিয়াহ তার স্বামীর ইনতিকালের কয়েক রাত পরই সন্তান প্রসব করেন এবং তিনি সে বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করেন। তখন তিনি তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৫৮৫, ইসলামীক সেন্টার)