আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো মাথায় চুলের বেনী গেঁথে থাকি। সুতরাং অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? তিনি বললেন, না। বরং তোমার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢেলে দিয়ে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে*। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আমর আন নাকিদ ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) এর সূত্রে এ সনদে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত আছে। আবদুর রাযযাকের হাদীসে রয়েছে যে, “আমি কি তা হায়িয ও অপবিত্রতা থেকে গোসলের জন্যে খুলব? তিনি বললেন, না"। এরপর ইবনু উয়াইনার (উপরোক্ত) হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ দারিমী (রহঃ) এর সূত্রে আইয়ুব ইবনু মূসা (রাযিঃ) হতে এ সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। সেখানে উল্লেখ আছে যে, “আমি কি তা খুলে অপবিত্রতা থেকে গোসল করব?" সেখানে তিনি হায়িযের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া, আবূ বকর ইবনু শাইবাহ ও আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) ..... উবায়দ ইবনু উমায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, 'আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকটে খবর পৌছল যে, 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর স্ত্রীলোকদেরকে গোসলের সময় তাদের মাথার চুল (বেনী) খোলার আদেশ দিয়ে থাকেন। এ কথা জানার পর আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আশ্চর্য লাগে ইবনু আমর (রাযিঃ) এর মতো লোক মেয়েদেরকে গোসলের সময় মাথার চুল খোলার আদেশ করেন। তাহলে তো তিনি তাদেরকে মাথার চুল মুড়ে ফেলার আদেশ দিতে পারেন। অথচ আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাথে একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে অপবিত্রতার গোসল করেছি। এ সময় আমি আমার মাথায় তিন কোষ (দুই হাতের তালুর) অধিক পানি ঢালিনি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আমর ইবনু মুহাম্মাদ আন নাকিদ ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করল যে, কিভাবে সে তার হায়িয থেকে গোসল করবে? হাদীসের রাবী বলেন, আয়িশাহ্ (রাযিঃ) উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভদ্রমহিলাকে সে কিভাবে গোসল করবে, তা শিখিয়ে দিলেন তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা ব্যবহার করবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে বলল, এ সুগন্ধ যুক্ত কাপড় দ্বারা আমি কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি বললেন, তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! (এত সোজা কথাও বুঝ না)। এরপর তিনি (মুখ) সরিয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) সুফইয়ান ইবনু উয়াইনাহ নিজ মুখের ওপর হাত দিয়ে আমাদেরকে ইশারা করে দেখালেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে আমার দিকে টেনে আনলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমি বুঝে ফেললাম। অতঃপর আমি (মহিলাটিকে) বললাম, তুমি তা (সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা) রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) বুলিয়ে নিবে। ইবনু উমার তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, তিনি বলেনঃ আমি বললাম, রক্তের স্থানে সুগন্ধযুক্ত কাপড়টি বুলিয়ে দিন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ দারিমী (রহঃ) ... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল যে, আমি তুহুর-এর (হায়িয থেকে পবিত্রতার) সময় কিভাবে গোসল করব তিনি বললেন, এক টুকরো সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা নিবে তারপর তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। এরপর সুফইয়ানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু আল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা আসমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হায়িযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ পানি এবং বরই এর পাতা নিয়ে সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভালভাবে নাড়াচড়া করবে যাতে পানি সমস্ত চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌছে যায়। তারপর তার উপর পানি ঢেলে দিবে। তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় নিয়ে তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বলল, তা দিয়ে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে। অতঃপর আয়িশাহ (রাযিঃ) তাকে যেন চুপি চুপি বলে দিলেন, রক্ত বের হবার জায়গায় তা বুলিয়ে দিবে। সে অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, পানি নিয়ে তার দ্বারা সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভাল করে নাড়াচড়া করবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌছে যায়। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিবে। আয়িশাহ (রাযিঃ) বললেন, আনসারদের মহিলারা কত ভাল লজ্জা তাদেরকে দীন এর জ্ঞান থেকে ফিরিয়ে রাখে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪১, ইসলামিক সেন্টারঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) .... শুবাহ হতে অবিকল বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করবে। অতঃপর তিনি আড়াল করলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ..... ‘আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতু শাকাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ যখন হায়িয থেকে পবিত্র হবে তখন সে কিভাবে গোসল করবে? এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসটির মধ্যে অপবিত্রতার গোসলের কথা উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, ফাতিমা বিনতু আবূ হুবায়শ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন ইসতিহাযাহ বা রক্তপ্রদর রোগগ্রস্ত নারী। কখনো এ রোগ থেকে মুক্ত হই না। তাই আমি এ সালাত আদায় করা কি ছেড়ে দিব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেনঃ না, তুমি সালাত আদায় ছাড়বে না। কেননা, এ হায়িয না বরং একটি শিরা-নিঃসৃত রক্ত। তাই যখন হায়িয দেখা দিবে তখন শুধু সালাত আদায় করবে না। আর যখন হায়িয ভাল হয়ে যাবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলে গোসল করে পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৪৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)