আমর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু বুকায়র নাকিদ (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযিঃ) পায়ে হেঁটে আমাকে দেখতে আসেন। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করেন এবং ওযু র অবশিষ্ট পানি আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম, আর বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার সম্পদ কিরূপে বন্টন করবো? তিনি আমাকে কোন উত্তর দেননি, মীরাস সংক্রান্ত আয়াত (অর্থাৎ "লোকে আপনার নিকট ব্যবস্থা জানতে চায়, বলুন, পিতামাতাহীন নিঃসন্তান ব্যক্তি সম্বন্ধে তোমাদেরকে আল্লাহ জানাচ্ছেন....."— (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১৭৬) নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ইবনু মাইমুন (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযিঃ) পায়ে হেঁটে বানু সালামায় আমাকে দেখতে আসেন। তারা আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় পান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বলেন। এরপর তিনি ওযু করেন, তারপর তা থেকে কিছু পানি আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেলাম, আর বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার সম্পদ কিভাবে বণ্টন করবো? তখন এ আয়াত নাযিল হয়- “আল্লাহ তোমাদের সন্তানাদি সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন; এক পুত্রের অংশ দু' কন্যার অংশের সমান....."- (সূরা আন নিসা ৪ঃ ১১)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০১, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4147 — Sahih Muslim 23:8
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَرِيضٌ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ مَاشِيَيْنِ فَوَجَدَنِي قَدْ أُغْمِيَ عَلَىَّ فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ صَبَّ عَلَىَّ مِنْ وَضُوئِهِ فَأَفَقْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَصْنَعُ فِي مَالِي فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ شَيْئًا حَتَّى نَزَلَتْ آيَةُ الْمِيرَاثِ .
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার কাওয়ারীরী (রহঃ) ...... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে আসেন। আমি রোগাক্রান্ত ছিলাম। তার সঙ্গে ছিলেন আবূ বাকর (রাযিঃ)। তারা উভয়েই পায়ে হেঁটে আসেন। তিনি এসে আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করেন এবং অবশিষ্ট পানির কিছু আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখতে পেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার সম্পদ কিভাবে বণ্টন করবো? আমাকে তিনি কোন উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না মীরাসের আয়াত নাযিল হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আগমন করেন। আমি তখন রোগে জ্ঞানহারা হয়ে পড়ি। তারপর তিনি ওযু করেন। তার ওযুর পানির কিছু অংশ লোকেরা আমার উপর ছিটিয়ে দেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কালালাহ অবস্থায় আমার মীরাস বন্টন হবে। অতঃপর মীরাসের আয়াত অবতীর্ণ হয়। আমি মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদিরকে বললাম (يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ) তিনি বললেন, এমনটিই অবতীর্ণ হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) নাযর ইবনু শুমায়ল ও আবূ আমির আকাদী (রহঃ) এবং মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ওয়াহব ইবনু জারীর (রহঃ) হতে এবং তারা সকলেই শু'বাহ (রহঃ) হতে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। ওয়াহব ইবনু জারীর এর হাদীস আছে ফারায়িয’-এর আয়াত নাযিল হলো। আর নাযর ও আকীদার বর্ণনায় আছে ফারয-এর আয়াত নাযিল হলো। কিন্তু তাদের কারও বর্ণনায় এ কথা নেই যে, শুবাহ ইবনু মুনকাদির বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০৪, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু বাকর মুকাদ্দামী ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... মা'দান ইবনু তালহাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। উমার বিন খাত্তাব (রাযিঃ) এক জুমু'আর দিনে খুতবাহ প্রদান করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাযিঃ) এর কথা বললেন। তারপর তিনি বললেন, আমি আমার পরে এমন কোন বিষয় রেখে যাব না, যা আমার নিকট কালালার চেয়ে বেশী জটিল। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বারবার কোন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করিনি, যেমনটি বারবার জিজ্ঞেস করেছি কালালাহ সম্পর্কে। আর তিনিও অন্য কোন বিষয়ে এমন কঠোরতা আমাকে দেখাননি যেরূপ কঠোরতা দেখিয়েছেন এ বিষয়ে। এমনকি তিনি তার আঙ্গুল আমার বুকের উপর চেপে ধরে বলেছেন, হে উমার! গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ সূরা নিসার শেষের আয়াত কি তোমার জন্যে যথেষ্ট নয়? আর আমি যদি জীবিত থাকি তবে এ ব্যাপারে এমন ফায়সালা করবো যা দেখে কুরআন পাঠকারী আর যে কুরআন পড়ে না উভয়েই ফায়সালা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০৫, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) .... বারা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনের সর্বশেষ যে আয়াত নাযিল হয় তা হলো يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ তারা আপনার কাছে জানতে চায়, আপনি বলুন, আল্লাহ তা'আলা কালালার ব্যাপারে সমাধান দিচ্ছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০৭, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... আবূ ইসহাক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু আযিব (রামিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত কালালা’র আয়াত এবং সর্বশেষ নাযিলকৃত সূরা বারাআত (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০০৮, ইসলামিক সেন্টার)