আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ...... ইবনু আবূ আরবাহ (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর ঈসা (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে “এরপর যে অংশ আযাদ হয়নি সে অংশ আযাদ করানোর চেষ্টা করবে, কিন্তু তার উপর কোন কঠোরতা আরোপ করা যাবে না" বর্ণিত রয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু হুজর সাদী, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুকালে নিজের ছয়জন গোলামকে আযাদ করল। অথচ গোলামগুলো ব্যতীত তার আর কোন সম্পদও ছিল না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ডাকালেন এবং তাদেরকে তিনভাগে ভাগ করলেন। তারপর তাদের মধ্যে লটারী করে দু'জনকে সম্পূর্ণভাবে আযাদ করলেন এবং বাকী চারজনকে গোলাম বানিয়ে রাখলেন। আর তার (মৃতের) প্রতি শক্ত ভাষা প্রয়োগ করলেন।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮৮, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... আইয়্যুব (রহঃ) থেকে উক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসটি ইবনু উলাইয়াহ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। আর সাকাফী (রহঃ) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, "আনসারী এক লোক তার মৃত্যুর সময় ওয়াসিয়্যাত করায় তার ছয়জন গোলামকে মুক্ত করা হলো"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৮৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4337 — Sahih Muslim 27:84
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ الضَّرِيرُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَحَمَّادٍ .
মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল দারীর ও আহমাদ ইবনু আবদাল্লাহ্ (রহঃ) ..... উভয়ে ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু উলাইয়্যাহ্ (রহঃ) ও হাম্মদ (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯০, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ রাবী' সুলাইমান ইবনু দাউদ আতাকী (রহঃ) ..... জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, আনসারী একজন লোক তার গোলামকে এ শর্তে আযাদ করল যে, তুমি আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন। সে গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদও ছিল না। এ সংবাদ যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌছল তখন তিনি বললেন আমার কাছ থেকে তাকে কিনে নিবে, এমন কে আছে? তখন নু'আয়ম ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) আটশ দিরহামের বিনিময়ে তাকে কিনে নিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ অর্থ আনসারীকে দিয়েছিলেন। 'আমর (রহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি যে, সে ছিল একজন কিবতী গোলাম। সে (আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর খিলাফতের) প্রথম বছর মৃত্যুবরণ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বকর ইবনুআবূ শাইবাহ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন আনসারী এক লোক তার গোলামকে এই বলে আযাদ করল যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি স্বাধীন। কিন্তু সে গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদ ছিল না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিক্রি করেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন যে, ইবনু নাহহাম (রাযিঃ) তাকে ক্রয় করলো। সে গোলামটি ছিল একজন কিবতী ইবনু যুবায়র (রাযিঃ) এর খিলাফত কালের প্রথম বছর সে মৃত্যুবরণ করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯২, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4340 — Sahih Muslim 27:87
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، رُمْحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُدَبَّرِ نَحْوَ حَدِيثِ حَمَّادٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও ইবনু রুমূহ (রহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুদাব্বার সম্পর্কে হাম্মদ (রহঃ) কর্তৃক আমর ইবনু দীনারের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৩, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনু হাশিম ও আবূ গাসসান মিসমাঈ (রহঃ), সকলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাম্মদ (রহঃ) এবং ইবনু উয়াইনাহ (রাযিঃ) কর্তৃক আমর (রাযিঃ) ও জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া এবং রাফি ইবনু খাদীজ হতে বর্ণিত। তারা উভয়েই বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহল ইবনু যায়দ (রাযিঃ) ও মুহাইয়্যিসাহ্ ইবনু মাসউদ বাড়ী থেকে বের হয়ে খাইবার পর্যন্ত এলেন। এরপর সেখান থেকে উভয়েই আলাদা হয়ে গেলেন। তারপর মুহাইয়্যিসাহ্ (রাযিঃ) আবদুল্লাহ ইবনু সাহলকে একস্থানে খুন হওয়া অবস্থায় পেলেন। তখন তিনি তাকে দাফন করলেন। এরপর তিনি এবং হুওয়াইয়িসাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) ও আবদুর রহমান ইবনু সাহল (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করলেন। আর তিনি ছিলেন দলের সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। আবদুর রহমান (রাযিঃ) তার উভয় সাথীর আগে কথা বলার জন্য এগিয়ে এলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বয়সে বড় সে কথা বলার জন্য সামনে এসো। সুতরাং তিনি চুপ করে গেলেন এবং তার সাখী দু'জন কথা বললেন। আর তিনি তাদের দু'জনের সাথে কথা বললেন। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আবদুল্লাহ বিন সাহলের (হত্যা ও) হত্যাস্থান বিষয়ে কথা বললেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন। তোমরা কি এ ব্যাপারে পঞ্চাশবার হলফ (শপথ) করতে পারবে (যে হত্যকারী পার্শ্ববর্তী ইয়াহুদী সম্প্রদায়) তাহলে নিহত ব্যক্তির কিসাস বা দিয়াত প্রাপ্তির ব্যাপারে হকদার হবে। প্রতি উত্তরে তারা বলল, আমরা কিভাবে এ ব্যাপারে হলফ (শপথ) করবো? আমরা তো সেখানে তখন উপস্থিত ছিলাম না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীরা পঞ্চাশবার হলফ করে তোমাদের দাবী নাকচ করে দিবে। তারা তখন বলল, আমরা কিভাবে কাফির সম্প্রদায়ের হলফ গ্রহণ করে নেব? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঐ অবস্থা অবলোকন করলেন, তখন তার দিয়াত দিয়ে দিলেন (নিজের থেকে)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৫, ইসলামিক সেন্টার)
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার কাওয়ারিরী (রহঃ) ..... সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ এবং রাফি ইবনু খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, একদা মুহাইয়িসাহ্ ইবনু মাসউদ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাযিঃ) উভয়েই খাইবারের দিকে গমন করলেন। তারা সেখানের এক খেজুর বাগানের নিকট থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনু সাহল (রাযিঃ) তথায় নিহত হলেন। (এই খুনের জন্য) তারা ইয়াহুদী সম্প্রদায়কে অভিযুক্ত করলেন। এরপর তার ভাই আবদুর রহমান এবং চাচাত ভাই হুওয়াইয়্যিসাহ ও মুহাইয়্যিসাহ (রাযিঃ), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আগমন করলেন। আবদুর রহমান (রাযিঃ) তার ভাই এর ব্যাপারে কথোপকথন করলেন। আর তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান দাও। অথবা বললেন, বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরই কথা আরম্ভ করা উচিত। তখন তারা দু’জন সাথীদের ব্যাপারে কথাবার্তা বললেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের কোন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে পঞ্চাশবার হলফ করে বলতে হবে, তাহলে তার দিয়্যাত প্রদান করা হবে। তখন তারা বলল, ব্যাপারটি এমন যে আমরা তথায় তখন উপস্থিত ছিলাম মা। এমতাবস্থায় আমরা কিভাবে হলফ করে বলবো? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে ইয়াহুদীদের মধ্য থেকে কেউ পঞ্চাশবার হলফ করে তোমাদের খুনের দাবী নাকচ করে দেবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! তারা তো কাফির সম্প্রদায়। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ হতে তার "দিয়াত" আদায় করে দিলেন। সাহল (রাযিঃ) বলেন, এরপর একদা আমি তাদের উট রাখার স্থানে প্রবেশ করলাম। তখন ঐ উটের মধ্য হতে একটি উটনী আমাকে তার পা দ্বারা লাথি মারল। হাম্মাদ (রহঃ) এই হাদীস বর্ণনা করেছেন- অথবা এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪১৯৬, ইসলামিক সেন্টার)