মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্যপানে খেজুরের ডাল ও জুতা দ্বারা প্রহার করেছেন। আবূ বাকর (রাযিঃ) তার আমলে চল্লিশটি বেত্ৰাঘাত করেছেন। উমার (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে মানুষের সমৃদ্ধি এলে তারা প্রচুর পানি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস আরম্ভ করলো। তিনি তাদেরকে বললেন, মদ্যপানের বেত্ৰাঘাত বিষয়ে আপনাদের মতামত কী? আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) বললেন, এ ব্যাপারে আমি মনে করি যে, আপনি সর্বনিম্ন দণ্ড নির্ধারণ করুন। তারপর উমর (রাযিঃ) মদ্যপানের শাস্তি হিসেবে আশিটি বেত্ৰাঘাত নির্ধারণ করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩০৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্যপানের অপরাধে জুতো এবং খেজুরের ডাল দ্বারা চল্লিশটি আঘাত করতেন। অতঃপর ওয়াকী' উল্লিখিত হাদীস বর্ণনাকারীদ্বয়ের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আর তিনি..... "পানি ও বসতি" কথাটির উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩০৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শইবাহ, যুহায়র ইবনু হারব, আলী ইবনু হুজুর ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) হাদীসের শব্দগুলো তারই (বর্ণনা করা), হুসায়ন ইবনু মুনযির আবূ সাসান (রহঃ) ..... হতে তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন ওয়ালীদকে তার কাছে আনা হল। সে ফজরের দু'রাকাআত সালাত আদায় করে বলেছিল, আমি তোমাদের উদ্দেশে আরো অধিক রাকাআত পড়ব। তখন দু’ব্যক্তি ওয়ালীদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিল। তন্মধ্যে একজনের নাম ছিল হুমরান। সে বলল, সে মদ খেয়েছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল যে, সে তাকে বমি করতে দেখেছে (মদ্যপানের কারণে)। তখন উসমান (রাযিঃ) বললেন, সে মদ খাওয়ার পরই বমি করেছে। অতএব তিনি বললেন, হে ‘আলী (রাযিঃ) আপনি উঠুন এবং তাকে বেত্ৰাঘাত করুন। তখন আলী (রাযিঃ) হাসান (রাযিঃ) কে বললেন, হে হাসান! তুমি উঠ এবং তাকে বেত্ৰাঘাত কর। হাসান (রাযিঃ) বললেন, যে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করেছে সে তার তিক্ততা ভোগ করুক। এতে যেন আলী (রাযিঃ) তার প্রতি মৰ্মাহত হলেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবনু জাফর! তুমি উঠ এবং তাকে দুররা (বেত্ৰাঘাত) মার। তিনি তাকে দুররা মারলেন। আর আলী (রাযিঃ) তা গণনা করলেন। যখন চল্লিশটি দুররা মেরেছেন তখন আলী (রাযিঃ) বলেন, তুমি বিরত হও। এরপর তিনি বললেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশটি বেত্ৰাঘাত করেছেন এবং আবূ বাকর (রাযিঃ)-ও তার খিলাফতকালে চল্লিশটি দুররা মেরেছেন। আর উমার (রাযিঃ) (তার খিলাফাত কালে) আশিটি দুররা মেরেছেন। আর এতদুভয় সংখ্যার প্রতিটিই সুন্নাত। তবে এটি (শেষোক্তটি) আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আলী ইবনু হুজুর (রহঃ) তার বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল (রহঃ) বলেন যে, আমি তা দানাজ থেকে শুনেছিলাম, কিন্তু এখন তা আমার মনে নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩০৮, ইসলামিক সেন্টার ৪৩০৯)।
মুহাম্মাদ ইবনু মিনহালুয যারীর (রহঃ) ..... ‘আলী (রাযিঃ) থেকে তিনি বলেন, কোন অপরাধীর উপর 'হদ্দ' (শারীআতের শাস্তি) প্রয়োগে যদি সে মারা যায় তাতে আমি ব্যথিত হয়নি। কিন্তু মদ্যপায়ীর শাস্তি প্রদানে আমি ভীত। কেননা, এতে যদি সে মারা যায় তবে আমি তার দিয়াত (ক্ষতিপূরণ) প্রদান করবো। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে শাস্তির কোন পরিমাণ নির্ধারিত করে যাননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩০৯, ইসলামিক সেন্টার)
আহমাদ ইবনু ঈসা (রহঃ) ..... আবূ বুরদাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, কাউকে যেন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অপরাধের নির্দিষ্ট হদ্দ (দণ্ড) ব্যতীত দশ বেত্ৰাঘাতের বেশী বেত্ৰাঘাত না করা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩১১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ..... উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা কোন এক মাজলিসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন যে, তোমরা আমার কাছে এর উপর বাই’আত কর যে, তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, ব্যভিচার করবে না, চুরি করবে না এবং কাউকে হত্যা করবে না যাকে হত্যা করা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। কিন্তু ন্যায়সঙ্গতভাবে (অর্থাৎ- কিসাস হিসেবে অথবা মুরতাদ হলে কিংবা বিয়ের পর যিনা করলে)। অতএব, তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ তা পূর্ণ করবে, সে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে পাবে। আর যদি কেউ উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয়ে শাস্তি ভোগ করে যাকে, তবে তাই তার জন্য কাফফারা (বদলা) হয়ে যাবে। আর যদি কোন ব্যক্তি উল্লিখিত অপরাধের কোন একটিতে পতিত হয় অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তা গোপন রাখেন, তবে বিষয়টি মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩১২, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তার হাদীসে শুধু এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, "অতএব, তিনি আমাদের কাছে সূরা নিসা এর আয়াত (অর্থঃ) তারা যেন আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে ...... আয়াতের শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩১৩, ইসলামিক সেন্টার)
ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) ..... উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের থেকে অনুরূপ অঙ্গীকার নিলেন, যেরূপ অঙ্গীকার নিয়েছেন মহিলাদের থেকে যেন আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করি, চুরি না করি, ব্যভিচার না করি, আমাদের সন্তানদেরকে হত্যা না করি এবং একে অপরের ক্ষতি না করি। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তা পূর্ণ করবে তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে পাবে। আর তোমাদের মধ্যে যদি কেউ এমন কোন অপরাধ করে যাতে (হদ্দ) শরীয়তের শাস্তি অত্যাবশ্যকীয় হয়, অতঃপর তার উপর সে শাস্তি কার্যকরী হয়, তবে তা তার অপরাধের কাফফারা (বদলা) হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তির পাপ কার্য আল্লাহ গোপন রাখলেন, তার বিষয় আল্লাহর ইচ্ছাধীন। যদি তিনি ইচ্ছা করেন তবে তাকে শাস্তি দিবেন। আর যদি ইচ্ছে করেন তবে তাকে ক্ষমা করে দিবেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩১৪, ইসলামিক সেন্টার)