وَحَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، كِلاَهُمَا عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ بَلَغَنِي عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَفَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَرِيَّةً بِنَحْوِ حَدِيثِ ابْنِ رَجَاءٍ .
হান্নাদ ইবনু সারী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুদ্র সেনাদলের মাঝে যুদ্ধলব্ধ মালামাল বন্টনের ব্যাপারে ইবনু উমার থেকে আমার নিকট ইবনু রাজা কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মতো একটি হাদীস এসেছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৪, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুল মালিক ইবনু শু'আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুদ্র সেনাদলে যেসব সৈনিককে প্রেরণ করতেন, তাদের কোন কোন সময় সাধারণ সৈনিকদের অংশের চেয়েও কিছু অতিরিক্ত বিশেষভাবে প্রদান করতেন। আর সকল অর্জিত গনীমাতের মালের উপরই এক পঞ্চমাংশ বের করা ওয়াজিব। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৫, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ মুহাম্মাদ আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আবূ কাতাদার সহচর। তিনি বলেন, আবূ কাতাদাহ্ বলেন ..... এরপর এতদসংক্রান্ত বিস্তৃত একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৬, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) .... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস আবূ মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত যে, আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন ..... অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ ও আবূ তাহির (রহঃ) ..... আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধের সময় আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। আমরা যখন শক্রদের মুখোমুখি হলাম তখন মুসলিমদের মধ্যে ছুটাছুটি আরম্ভ হলো। এ সময় আমি একজন মুশরিককে দেখতে পেলাম যে, সে একজন মুসলিমের উপর চড়াও করছে। তখন আমি একটু ঘুরে এসে তার পিছন দিক দিয়ে তার কাঁধের উপর আঘাত করলাম। তখন সে আমার দিকে অগ্রসর হয়ে আমাকে এমনভাবে চেপে ধরল যে, আমি এতে মৃত্যুর গন্ধ পেলাম। এরপর সে মৃত্যুমুখে চলে পড়ল এবং আমাকে ছেড়ে দিলো। এরপর আমি 'উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সঙ্গে একত্রিত হলাম। তিনি বললেন, লোকদের কী হয়েছে? আমি বললাম, এ আল্লাহর ব্যাপার (ইচ্ছা)। তারপর (পলায়নপর) লোকেরা ফিরে এলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন (যুদ্ধ ক্ষেত্রে) বসেছিলেন। তিনি বললেন, যে মুসলিম সৈন্য অপর কোন শক্র সৈন্যকে হত্যা করেছে এবং এতে তার প্রমাণ আছে, তাহলে তার সম্পদ তারই (হত্যাকারী মুজাহিদেরই প্রাপ্য)। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম, আমার জন্যে কেউ সাক্ষ্য দেবে? তারপর আমি বসে পড়লাম। তিনি আবারও সেরূপ কথা বললেন, আমি দাঁড়ালাম এবং বললাম কেউ আমার জন্যে সাক্ষ্য দেবে? এবং আমি বসে পড়লাম। তিনি তৃতীয়বারও ঐরূপ বললেন। তা শুনে আমি (আবার) দণ্ডায়মান হলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার কী হয়েছে, হে আবূ কাতাদাহ! আমি তার কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (আবূ কাতাদাহ) সত্য বলেছেন। ঐ নিহত ব্যক্তির (পরিত্যক্ত) সম্পদ আমার কাছে রক্ষিত আছে। আপনি তার হক আমাকে দেয়ার ব্যাপারে তাকে রাজি করিয়ে দেন। তখন আবূ বাকর সিদীক (রাযিঃ) বললেন, না, আল্লাহর কসম! তা হতে পারে না। আল্লাহর সিংহসমূহের মধ্য হতে কোন এক সিংহ (যোদ্ধা) যিনি আল্লাহ ও তার রসূলের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন, আর তার প্রাপ্য সম্পদ যিনি তোমাকে প্রদান করবেন এমন হতে পারে না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (আবূ বাকর) ঠিকই বলেছেন। সুতরাং তিনি তাকে (আবূ কাতাদাকেই) তা প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তা আমাকেই দিলেন। আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তা থেকে লৌহ বর্মটি বিক্রি করলাম এবং তা দিয়ে বানী সালামার মহল্লায় একটি ফলের বাগান খরিদ করলাম। এ ছিল আমার ইসলামী জীবনের প্রথম অর্জিত সম্পদ। লায়স (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সিংহসমূহের মধ্য থেকে কোন এক সিংহকে বাদ দিয়ে তা কুরায়শের কোন শৃগালকে (কাপুরুষকে) প্রদান করেন না লায়স (রহঃ) এর বর্ণনায় রয়েছে এটিই আমার প্রথম সম্পদ যা আমি সংগ্রহ করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামিমী (রহঃ) ..... আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বদরের দিন যুদ্ধ সারিতে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় আমি ডান ও বাম দিকে তাকিয়ে দেখি যে, আমি দু'জন আনসারী বালকের মাঝখানে আছি। আমি আশা করেছিলাম, যদি আমি দু'জন শক্তিশালী যুবকের মাঝে থাকতে পেতাম। এমন সময় তাদের একজন আমাকে ইঙ্গিতে বলল, হে আমার চাচা! আপনি কি আবূ জাহলকে চিনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। আর তাকে তোমার প্রয়োজন কী হে ভ্রাতুষ্পুত্র! সে বলল, আমি সংবাদ জেনেছি যে, সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গালাগালি করে। সেই আল্লাহর শপথ যার হাতে আমার জীবন, যদি আমি তাকে দেখতে পাই তবে অবশ্যই তাকে ছেড়ে দিব না, যতক্ষণ না আমাদের দু'জনের থেকে যার মৃত্যু পূর্বে হওয়া অবধারিত তার মৃত্যু হয়। বর্ণনাকারী বলেন, কিশোরের এ কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। তারপর অপর কিশোর আমার দিকে ইঙ্গিত করে অনুরূপ কথা বলল। পরে বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, হঠাৎ আমি দেখলাম, আবূ জাহল লোকদের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আমি তখন বালক দু'জনকে বললাম তোমরা কি দেখছ না এ ব্যক্তিকে যার ব্যাপারে তোমরা জানতে চাচ্ছ। উভয়ে দৌড়ে গিয়ে তাদের তলোয়ার দ্বারা তাকে আঘাত করল এবং হত্যা করে ফেলল। অতঃপর উভয়েই ফিরে এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ ঘটনার সংব দিলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্য থেকে কে হত্যা করেছে? তাদের প্রত্যেকেই বলল, আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের তলোয়ার কি পরিষ্কার করে ফেলেছ? তারা বলল, না। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ের তলোয়ার পরীক্ষা করে দেখলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয ইবনু আমর ইবনু জামূহকে খুলে নেয়া সম্পদ প্রদানের নির্দেশ দেন। আর সে দু' বালক হলো, মুআয ইবনু আমর ইবনু জামূহ এবং মুআয ইবনু আফরা (রাযিঃ)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ তাহির আহমাদ ইবনু আমর ইবনু সারহ (রহঃ) ..... ‘আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুমাইর গোত্রের এক ব্যক্তি শক্র পক্ষের এক ব্যক্তিকে হত্যা করল এবং তার যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিতে চাইল। কিন্তু তাদের সেনাপতি খালিদ ইবনু ওয়ালীদ (রাযিঃ) তাকে নিষেধ করলেন। তারপর আওফ ইবনু মালিক (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন এবং ঐ ঘটনার সংবাদ দিলেন। তখন তিনি খালিদ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি (নিহত ব্যক্তির) সম্পদ তাকে প্রদান করলে না? খালিদ (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তার প্রচুর সম্পদ পেয়েছি। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তা দিয়ে দাও। তারপর খালিদ (রাযিঃ) ‘আওফ (রাযিঃ) এর কাছ দিয়ে গেলেন এবং ‘আওফ (রাযিঃ) তার চাদর ধরে টান দিয়ে বললেন, আমি তো আগেই বলেছিলাম ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌছাবো, তাই কি হয়নি? অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শোনতে পেলেন। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন। এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না। তোমরা কি আমার নেতাদের পরিত্যাগ করবে? নিশ্চয় তোমাদের এবং তাদের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোন ব্যক্তি উট কিংবা ছাগল চরাতে মনস্থ করলো এবং মাঠে নিয়ে চরাল। তারপর পিপাসার সময় পানি পান করানোর জন্য জলাশয়ে নিয়ে গেল। পরিষ্কার পানি পান করতে শুরু করল এবং ঘোলাটে পানি পরিত্যাগ করল। অতঃপর এমনিভাবে পরিষ্কারটা তোমাদের জন্য এবং অপরিষ্কারটা তোমাদের নেতাদের জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৮, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4571 — Sahih Muslim 32:52
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ مَنْ خَرَجَ مَعَ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ فِي غَزْوَةِ مُؤْتَةَ وَرَافَقَنِي مَدَدِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فِي الْحَدِيثِ قَالَ عَوْفٌ فَقُلْتُ يَا خَالِدُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِالسَّلَبِ لِلْقَاتِلِ قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي اسْتَكْثَرْتُهُ .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... ‘আওফ ইবনু মালিক আশজাঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাযিঃ) এর সঙ্গে যারা মূতার যুদ্ধে গিয়েছিল, তন্মধ্যে আমিও ছিলাম। ইয়ামানের একজন সাহায্যকারীও আমার সাথি হলো। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি হাদীসে বলেছেন যে, ‘আওফ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি বললাম, হে খালিদ! তুমি কি জাননা যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রু থেকে ছিনিয়ে নেয়া লব্ধ সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদ ব্যক্তির প্রাপ্য বলে নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু এ সম্পদ আমার কাছে অধিক মনে হলো। (তাই আমি নিষেধ করেছিলাম।) (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪১৯, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাওয়াযিন গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ছিলাম। একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সকালের খাওয়ায় শামিল ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি লাল রঙের উটে চড়ে এসে উটটিকে বসাল এবং তার কোমর থেকে একটি চামড়ার রশি বের করে এর দ্বারা সেটিকে বাঁধলো। এরপর সে এসে লোকদের সাথে সকালের নাস্তা খেতে লাগল এবং এদিক-সেদিক তাকাতে লাগলো (সে ছিল গুপ্তচর)। আমাদের মধ্যে দুর্বলতাও ছিল। সওয়ারীও কম ছিল। আমাদের কেউ কেউ পায়ে হেঁটে চলছিল। এমন সময় সে ব্যক্তি দ্রুত গতিতে নিজের উটের কাছে এসে এর রশি খুললো। এরপর উটটিকে বসিয়ে এর উপর সওয়ার হয়ে হাকালো এবং উট তাকে নিয়ে ছুটল। তখন এক ব্যক্তি একটি ধূসর বর্ণের উটনীর উপর আরোহণ করে তার পশ্চাদ্ধাবন করল। সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমি বের হয়ে দৌড় দিলাম। অতঃপর আরও অগ্রসর হয়ে আমি উটনীর লাগাম ধরে ফেললাম। এবং আমি তাকে বসালাম। যখন উটটি তার হাটু মাটিতে রাখল, তখন আমি তলোয়ার বের করে লোকটির মাথায় আঘাত করলাম। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর আমি উটটি টেনে নিয়ে এলাম। এর উপর ঐ ব্যক্তির আসবাবপত্র ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনসহ আমাকে এগিয়ে নিলেন। তিনি বললেন, কে এ লোকটিকে হত্যা করেছে? লোকেরা বলল, ইবনু আকওয়া। তিনি বললেন, (নিহত ব্যক্তির) থেকে খুলে আনা সমুদয় সম্পদ আকওয়া'র পুত্র সালামার জন্য। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২০, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমরা ফাযারাহ গোত্রের সাথে যুদ্ধ করেছিলাম। আবূ বাকর (রাযিঃ) ছিলেন আমাদের আমীর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। যখন আমাদের এবং পানির স্থানের মাঝে একঘণ্টা সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন আবূ বাকর (রাযিঃ) আমাদেরকে (রাতের শেষের দিকে সেখানে অবতরণের) নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করলাম। এরপর বিভিন্ন দিক দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে পানির নিকট পৌছলেন। আর যাদেরকে তার বিরুদ্ধে পেলেন হত্যা এবং বন্দী করলেন। আমি লোকদের একটি দলকে দেখতে পাচ্ছি যাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছে। আমি আশংকা করছিলাম যে, তারা হয়তোবা আমার আগেই পাহাড়ে পৌছে যাবে। অতএব আমি তাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করলাম। তারা তখন তীর দেখতে পেয়ে থেমে গেল। তখন আমি তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে এলাম। তাদের মাঝে চামড়ার পোশাক পরিহিত বানী ফাযারার একজন মহিলাও ছিল এবং (রাবী বলেন) তার সঙ্গে তার এক কন্যা ছিল। সে ছিল আরবের সবচেয়ে সুন্দরী। আমি সকলকেই হাকিয়ে আবূ বাকর (রাযিঃ) এর কাছে নিয়ে এলাম। আবূ বকর (রাযিঃ) মহিলার কন্যাটি আমাকে নফল হিসেবে প্রদান করলেন। এরপর আমি মাদীনায় ফিরে এলাম। আমি তখনও তার বস্তু উঠাইনি। পরে বাজারে আমার সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, হে সালামাহ্ তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ তা'আলার কসম, তাকে আমার অত্যধিক পছন্দ হয়েছে এবং এখনও আমি তার বস্ত্র উঠাইনি। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ হলো। তখন তিনি বললেন, হে সালামাহ! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। “আল্লাহ তোমার পিতার কল্যাণ করুন।” তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল আল্লাহর কসম! সে আপনার জন্যই। আমি তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ কন্যাটিকে মাক্কায় পাঠিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে কয়েকজন মুসলিম বন্দীকে মুক্ত করে আনলেন, যারা মাক্কায় ইতোপূর্বে বন্দী ছিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪২১, ইসলামিক সেন্টার)