যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি' (রহঃ) ..... জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্ৰীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেবো। তারপর মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৪) যুহায়র ইবনু হারব ও সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ..... উভয়েই আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ..... আবূ সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, বানু কুরাইযার অবরুদ্ধ লোকেরা সা'দ ইবনু মুআয (রাযিঃ) এর নির্দেশ মেনে নিতে সম্মত হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ (রাযিঃ) এর নিকট লোক পাঠালেন। সুতরাং তিনি একটি গাধার উপর আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি মসজিদের কাছাকাছি আসলেন তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদেরকে বললেনঃ তোমরা তোমাদের নেতার অথবা বললেন, উত্তম ব্যক্তির দিকে উঠে যাও। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সমস্ত অবরুদ্ধ দুর্গবাসীরা তোমার নির্দেশ মান্য করতে সম্মত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, তাদের মধ্যেকার যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক এবং তাদের নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ। বর্ণনাকারী কখনো বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ। বর্ণনাকারী ইবনু মুসান্না (রহঃ) কোন কোন সময় তিনি বলেছেনঃ তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো" কথাটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4597 — Sahih Muslim 32:78
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فِي حَدِيثِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ اللَّهِ " . وَقَالَ مَرَّةً " لَقَدْ حَكَمْتَ بِحُكْمِ الْمَلِكِ " .
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) এর থেকে এ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এ কথাটুকু তার হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, "রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করেছ।” আর একবার বলেছেন, "তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4598 — Sahih Muslim 32:79
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُصِيبَ سَعْدٌ يَوْمَ الْخَنْدَقِ رَمَاهُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ يُقَالُ لَهُ ابْنُ الْعَرِقَةِ . رَمَاهُ فِي الأَكْحَلِ فَضَرَبَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ يَعُودُهُ مِنْ قَرِيبٍ فَلَمَّا رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْخَنْدَقِ وَضَعَ السِّلاَحَ فَاغْتَسَلَ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَنْفُضُ رَأْسَهُ مِنَ الْغُبَارِ فَقَالَ وَضَعْتَ السِّلاَحَ وَاللَّهِ مَا وَضَعْنَاهُ اخْرُجْ إِلَيْهِمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَأَيْنَ " . فَأَشَارَ إِلَى بَنِي قُرَيْظَةَ فَقَاتَلَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلُوا عَلَى حُكْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحُكْمَ فِيهِمْ إِلَى سَعْدٍ قَالَ فَإِنِّي أَحْكُمُ فِيهِمْ أَنْ تُقْتَلَ الْمُقَاتِلَةُ وَأَنْ تُسْبَى الذُّرِّيَّةُ وَالنِّسَاءُ وَتُقْسَمَ أَمْوَالُهُمْ .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু 'আলা হামদানী (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের দিন সা'দ (রাযিঃ) আঘাতপ্রাপ্ত হন। কুরায়শের ইবনুল আরিকা নামক এক ব্যক্তি তার শিরায় তীর নিক্ষেপ করেছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ (রাযিঃ) এর জন্যে মসজিদে একটি তাবু স্থাপন করে দিলেন, যেন নিকট থেকে তাকে দেখাশোনা করা যায়। যখন তিনি (রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে অস্ত্র রেখে সবেমাত্র গোসলের কাজ সমাপ্ত করেছেন এমন সময় জিবরাঈল (আঃ) স্বীয় মাথা থেকে ধূলিবালি ঝাড়তে ঝাড়তে আগমন করলেন। এরপর বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আল্লাহর শপথ! আমরা তো অস্ত্র রাখিনি। তাদের দিকে গমন করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোন দিকে? তখন তিনি বানু কুরাইযার দিকে ইঙ্গিত করলেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে দূর্গ থেকে অবতরণ করলো। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিচারের ভার (তাদের নেতা) সা'দ (রাযিঃ) এর উপর অর্পণ করলেন। সা'দ (রাযিঃ) বললেন, আমি নির্দেশ দিচ্ছি যে, তাদের মধ্যে যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক, নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক এবং তাদের সম্পদগুলো ভাগ করা হোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4599 — Sahih Muslim 32:80
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ قَالَ أَبِي فَأُخْبِرْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন, আমাকে খবর দেয়া হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, সা'দ (রাযিঃ) বলেছেন, তার আঘাত শুকিয়ে গেল এবং তিনি ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ। আপনি জানেন, আমার নিকট আপনার রসূলকে যে সম্প্রদায় অস্বীকার করেছে, তাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আপনার পথে যুদ্ধ করার চাইতে অধিক পছন্দনীয় বিষয় আর নেই। হে আল্লাহ! যদি কুরায়শদের সাথে যুদ্ধ করা এখনও বাকী থাকে তবে আপনি আমাকে জীবিত রাখুন, যেন আমি আপনার পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি। হে আল্লাহ! আমি মনে করি যে, আমাদের এবং তাদের মধ্যে আপনি যুদ্ধ সমাপ্ত করেছেন। যদি তাই হয়, তবে আপনি আমার এ ক্ষতস্থান উন্মুক্ত করে দিন এবং এতেই আমাকে শাহাদাত নসীব করুন। অতঃপর তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। মসজিদে বানু গিফারের একটি তাবু ছিল। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহের কারণে তারা ঘাবড়িয়ে গেল। তখন তারা বলল, হে তাবুবাসী! তোমাদের দিক থেকে এ কী আসছে? আশ্চর্যের ব্যাপার যে, সা'দ (রাযিঃ) এর ক্ষতস্থান থেকে তখন রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল এবং এতেই তিনি ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
আলী ইবনু হাসান ইবনু সুলাইমান কুকী ..... হিশাম (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এটুকু ব্যতিক্রম বলেছেন যে, "সে রাত থেকেই রক্ত প্রবাহিত হতে লাগলো। এভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। অবশেষে তিনি মারা যান। তিনি (হিশাম) তার হাদীসে আরো কিছু বাড়তি বর্ণনা করেছেন। এ সম্পর্কে একজন কবি বলেনঃ "হে সাদ ইবনু মুআয! তোমার ব্যাপারে বানু কুরাইযাহ্ এবং বানু নায়ীর কী করেছে? তোমার জীবনের শপথ! নিশ্চয় সা’দ ইবনু মুআয যে প্রভাতে তোমরা তার জন্য কষ্টানুভব করছিলে, সে আজ নিশ্চুপ। (হে আওস সম্প্রদায়) তোমরা তোমাদের হাড়িগুলো খালি রেখে দিয়েছ, তাতে আজ কোন কিছু নেই, অর্থাৎ- তোমাদের অধঃপতন হয়েছে। অথচ তোমাদের বিপক্ষের (খাজরাজ) সম্প্রদায়ের ডেগগুলো গরম, তা টগবগ করছে অর্থাৎ- তারা আজ প্রভাবশালী ধনী। আর একজন সন্ত্রান্ত আবূ হুবাব বলেছিলেন, তোমরা বানু কাইনুকা গোত্রকে অবস্থান করতে দাও, তাদেরকে যেতে দিও না। আর তারা তাদের শহরে ছিল ধনাঢ্য যেমন গেড়ে থাকে মায়তান অর্থাৎ বঞ্চিত নিস্তব্ধ পাথর।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4602 — Sahih Muslim 32:83
وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَادَى فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ انْصَرَفَ عَنِ الأَحْزَابِ " أَنْ لاَ يُصَلِّيَنَّ أَحَدٌ الظُّهْرَ إِلاَّ فِي بَنِي قُرَيْظَةَ " . فَتَخَوَّفَ نَاسٌ فَوْتَ الْوَقْتِ فَصَلُّوا دُونَ بَنِي قُرَيْظَةَ . وَقَالَ آخَرُونَ لاَ نُصَلِّي إِلاَّ حَيْثُ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنْ فَاتَنَا الْوَقْتُ قَالَ فَمَا عَنَّفَ وَاحِدًا مِنَ الْفَرِيقَيْنِ .
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আসমা যুবাঈ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহযাবের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন- তখন তিনি আমাদের মাঝে ঘোষণা দিলেন যে, কেউ যেন যুহরের সালাত আদায় না করে, যতক্ষণ না বানী কুরাইযার মহল্লায় গিয়ে পৌছবে। তখন কিছু সংখ্যক লোক যুহরের সালাতের সময় চলে যাওয়ার ভয় করলেন এবং তারা বানু কুরাইযাহ গোত্রে পৌছার পূর্বেই সালাত আদায় করলেন। আর অন্যান্যরা বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যে স্থানে সালাত আদায় করতে বলেছেন, সে স্থান ব্যতীত আমরা সালাত আদায় করব না, যদিও সময় চলে যায়। রাবী বলেন, এ ঘটনা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু'দলের কারো প্রতি রাগান্বিত হননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4603 — Sahih Muslim 32:84
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ مِنْ مَكَّةَ الْمَدِينَةَ قَدِمُوا وَلَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَىْءٌ وَكَانَ الأَنْصَارُ أَهْلَ الأَرْضِ وَالْعَقَارِ فَقَاسَمَهُمُ الأَنْصَارُ عَلَى أَنْ أَعْطَوْهُمْ أَنْصَافَ ثِمَارِ أَمْوَالِهِمْ كُلَّ عَامٍ وَيَكْفُونَهُمُ الْعَمَلَ وَالْمَئُونَةَ وَكَانَتْ أُمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَهْىَ تُدْعَى أُمَّ سُلَيْمٍ - وَكَانَتْ أُمَّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ كَانَ أَخًا لأَنَسٍ لأُمِّهِ - وَكَانَتْ أَعْطَتْ أُمُّ أَنَسٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِذَاقًا لَهَا فَأَعْطَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُمَّ أَيْمَنَ مَوْلاَتَهُ أُمَّ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا فَرَغَ مِنْ قِتَالِ أَهْلِ خَيْبَرَ وَانْصَرَفَ إِلَى الْمَدِينَةِ رَدَّ الْمُهَاجِرُونَ إِلَى الأَنْصَارِ مَنَائِحَهُمُ الَّتِي كَانُوا مَنَحُوهُمْ مِنْ ثِمَارِهِمْ - قَالَ - فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أُمِّي عِذَاقَهَا وَأَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُمَّ أَيْمَنَ مَكَانَهُنَّ مِنْ حَائِطِهِ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ مِنْ شَأْنِ أُمِّ أَيْمَنَ أُمِّ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهَا كَانَتْ وَصِيفَةً لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَكَانَتْ مِنَ الْحَبَشَةِ فَلَمَّا وَلَدَتْ آمِنَةُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا تُوُفِّيَ أَبُوهُ فَكَانَتْ أُمُّ أَيْمَنَ تَحْضُنُهُ حَتَّى كَبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْتَقَهَا ثُمَّ أَنْكَحَهَا زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ ثُمَّ تُوُفِّيَتْ بَعْدَ مَا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخَمْسَةِ أَشْهُرٍ .
আবূ তাহির ও হারমালাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মুহাজিরগণ মাক্কাহ্ থেকে মদীনায় প্রবেশ করেন তখন কোন কিছুই তাদের হাতে ছিল না। (তারা ছিলেন তখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব) আর আনসারগণ ছিলেন জমা-জমির স্বত্বাধিকারী। তখন আনসারগণ মুহাজিরদেরকে তাদের খেজুর বাগানের অর্ধেক এ শর্তে ভাগ করে দেন যে, প্রতি বছর বাগানে মুহাজিরগণ পরিশ্রম ও পরিচর্যা করে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদেরকে দেবেন। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) এর মাতা উম্মু সুলায়ম, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবূ তালহার মাতা ছিলেন। আর আবদুল্লাহ ছিলেন আনাসের বৈপিত্রেয় ভাই। আনাসের মাতা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার একটি খেজুর গাছ দান করেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটা দিলেন তার আযাদকৃত দাসী উম্মু আইমানকে যিনি উসামাহ ইবনু যায়দের মাতা ছিলেন। ইবনু শিহাব (রাযিঃ) বলেন, আমাকে আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) খবর দিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাইবারের যুদ্ধ শেষে মাদীনায় প্রত্যাবর্তন করলেন তখন মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাদের দানকৃত ফলের বাগানসমূহ ফিরিয়ে দেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও আমার মাতাকে তার দানকৃত বাগান ফেরত দেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আইমানকে তার পরিবর্তে নিজের বাগানের এক অংশ প্রদান করেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন যে, উম্মু আইমান-যিনি উসামাহ ইবনু যায়দের মাতা ছিলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল মুক্তালিবের দাসী ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিতার ইন্তিকালের পর আমিনাহর গর্ভ হতে যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভূমিষ্ট হন তখন উম্মু আইমান তাকে বড় হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করেন। এরপর তিনি তাকে আযাদ করে দেন। পরবর্তীতে যায়দ ইবনু হারিসাহর সঙ্গে তাকে বিয়ে দিয়ে দেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তিকালের পাঁচ মাস পর ইন্তিকাল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৫১, ইসলামিক সেন্টার)