সাঈদ ইবনু মানসূর, কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ কামিল আল জাহদারী ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক আল উমাবী (রহঃ) ... হিত্তান ইবনু আবদুল্লাহ আর রাকাশী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশ'আরী (রাযিঃ) এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহ্হুদে বসলেন, জামা'আতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, সালাত পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফরয করা হয়েছে। রাবী বলেন, আবূ মূসা (রাযিঃ) সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে? লোকেরা নীরব থাকল। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে এরূপ এরূপ বলেছে? এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন, হে হিততান সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ। তিনি (হিত্তান) বললেন, আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্য রেগে যান কি-না! এমন সময় লোকেদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি বলল, আমি এরূপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম। আবূ মূসা (রাযিঃ) বললেন, নিজেদের সালাতের মধ্যে কী বলতে হবে তা কি তোমরা জান না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সালাত আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন সালাত আদায় করবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তাকবীর বলবে। সে যখন “গাইরিল মাগযুবি 'আলাইহিম ওয়ালায যোল্লীন" বলবে তোমরা তখন আমীন বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। সে যখন তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে, তোমরাও তাকবীর বলে রুকু’তে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকু’তে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ইমাম যেমন রুকু সাজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলবে, তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বলবে, আল্লাহ তোমাদের এ কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষায় বলছেনঃ "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" (আল্লাহ তার প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। সে যখন তাকবীর বলবে এবং সাজদায় যাবে, তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সাজদায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সাজদায় যাবে এবং তোমাদের আগে সিজদা থেকে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের তাকবীর ও সিজদা ইমামের পরে হবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ আত্তাহিয়াতুত তাইয়্যিবা-তুস্ সালাওয়া-তু লিল্লা-হি আসসালা-মু 'আলাইকা আইয়ুহান নবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ আসসালামু 'আলাইনা- ওয়া'আলা- ইবা-দিল্লা-হিস্ সলিহীন, আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ।" অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতসমূহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর দাস ও তাঁর দূত।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৭, ইসলামিক সেন্টারঃ)
আবূ বাকর আবূ শাইবাহ, আবূ গাসসান আল মিসমাঈ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ….. কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রেও একই হাদীস বর্ণনা হয়েছে। জারীর সুলাইমানের সূত্রে কাতাদার এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ বর্ণনায় আরো আছে, ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা তখন চুপ থাক। আবূ আওয়ানার সূত্রে কেবল আবূ কামিলের বর্ণনা ছাড়া আর কোন রাবীর বর্ণনায় এ কথাগুলো নেইঃ মহান আল্লাহ তার নবীর কণ্ঠে বলছেন, "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ"। আবূ ইসহাক বলেন, আবূ নাযর-এর বোনের ছেলে আবূ বকর বলেছেন, এ হাদীসটির সমালোচনা করা হলে ইমাম মুসলিম তাকে বললেন, সুলাইমানের চেয়েও কি বড় হাফিয কেউ আছে? আবূ বাকর তাকে বললেন, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ)-এ বর্ণনা সম্পর্কে আপনার কী মত? তিনি বললেন, তার বর্ণনা সহীহ ইমাম যখন কুরআন পাঠ করে তোমরা চুপ থাক। ইমাম মুসলিম বলেন, এ হাদীস আমার মতে সহীহ। আবূ বাকর বললেন, তাহলে আপনার কিতাবে তা যোগ করেননি কেন? তিনি বললেন, আমি যেটা সহীহ মনে করি শুধু তাই আমার কিতাবে লিপিবদ্ধ করা জরুরী মনে করি না। বরং যেসব হাদীস সহীহ বলে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমি কেবল তাই আমার কিতাবে সংকলন করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৮, ইসলামিক সেন্টারঃ)
হাদিস 906 — Sahih Muslim 4:68
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ " فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَضَى عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " .
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষায় বলেনঃ "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" অর্থাৎ যে আল্লাহর প্রশংসা করে তিনি তা শুনেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৯, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী (রহঃ) ..... আবূ মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, আমরা তখন সা'দ ইবনু উবাদাহ (রাযিঃ) এর বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। বাশীর ইবনু সা'দ (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ আপনার উপর দুরূদ পাঠ করার জন্য আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দুরূদ পাঠ করব? রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা আফসোস করে বললাম, সে যদি তাকে এ প্রশ্ন না করত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তোমরা বল- "আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লাইতা আলা- আ-লি ইবর-হীমা ওয়াবা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রকতা আলা আ-লি ইবর-হীমা ফিল আলামীন। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ" অর্থাৎ "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তার পরিবার পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করো— যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ)-এর পরিবার-পরিজনের উপর রহমত বর্ষণ করেছ। তুমি মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজনকে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করো— যেভাবে তুমি ইবরাহীম (আঃ) এর পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতে বারাকাত ও প্রাচুর্য দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত।" আর সালাম দেয়ার নিয়ম যা তোমরা ইতিপূর্বে জেনেছ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯০, ইসলামিক সেন্টারঃ)
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... হাকাম হতে এ সনদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু মিসআরের বর্ণনায় আমি কি তোমাকে কিছু উপহার দিব না' কথাটুকু নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ)
মুহাম্মাদ ইবনু বাক্কার (রহঃ) ..... হাকাম হতে এ সনদ সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এ সূত্রে "ওয়া বা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন" উল্লেখ করেছেন এবং "আল্লাহুম্মা" শব্দের উল্লেখ করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৩, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়ূব (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরূদ পড়ে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৫, ইসলামিক সেন্টারঃ)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ইমাম যখন "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলে তোমরা তখন "আল্লাহুম্মা রব্বানা- লাকাল হামদ" বল। কেননা যার এ কথা মালায়িকাদের (ফেরেশতাদের) কথার সাথে মিলে যাবে তার আগের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৬, ইসলামিক সেন্টারঃ)