দাউদ ইবনু রুশায়দ (রহঃ) ..... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করে তিনবার ইসতিগফার করতেন এবং বলতেন- "আল্ল-হুম্মা আনতাস্ সালা-মু ওয়া মিনকাস সালা-মু তাবা-রকতা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।)। হাদীস বর্ণনাকার ওয়ালীদ বলেন- আমি আওযাঈকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিভাবে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বললেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন- আস্তাগফিরুল্ল-হ, আস্তাগফিরুল্ল-হ' (ইসলামী ফাউন্ডেশন, ১২১০, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে সালাম ফিরানোর পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততটুকু সময় বসতেন- “আল্ল-হুম্মা আনতাস সালা-মু ওয়া মিনকাস সালা-মু তাবা-রকতা যাল জালা-লি ওয়াল ইকর-ম” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।)- এ দু'আটা পড়তে যতটুকু সময় লাগে। ইবনু নুমায়র এর একটি বর্ণনায় يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ এর স্থলে ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ উল্লেখ আছে। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১১, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু নুময়ের (রহঃ) .... ‘আসিম (রহঃ)-এর মাধ্যমে একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ উল্লেখ করেছেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১২, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুল ওয়ারিস ইবনু আবদুস সামাদ (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনাতে এ কথাটুকু নেই যে, তিনি يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ (হে শানশাওকাতময়, দয়াবান) বলতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৩, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মুগীরাহ বিন শুবাহ মু'আবিয়াহ (রাযিঃ)-কে লিখে পাঠান যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতেন– "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ" (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শারীক বিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৪, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও আহমাদ ইবনু সিনান (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শু'বাহ (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বাকর ও আবূ কুরায়ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ দু'আটি আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর তা আমি মু'আবিয়াকে লিখে পাঠিয়েছি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) কর্তৃক আযাদকৃত ক্রীতদাস ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (আমীর) মুআবিয়ার কাছে ওয়াররাদকে দিয়ে লিখিয়েছিলেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত শেষে সালাম ফিরিয়ে বলতে শুনেছি ... তবে এ বর্ণনায়ঃ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ বাক্যটির উল্লেখ নেই, কেননা তিনি তা উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৬, ইসলামীক সেন্টার)
হামিদ ইবনু উমার আল বাকরাবী, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, (আমীর) মু'আবিয়াহ মুগীরাহ এর কাছে লিখেছিলেন। ... এরপর তিনি মানসুর ও আ'মাশ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৭, ইসলামীক সেন্টার)
ইবনু আবূ উমার আল মাক্কী (রহঃ) ..... আব্দাহ ইবনু আবূ লুবাবাহ ও আবদুল মালিক ইবনু উমায়র (উভয়ে) মুগীরাহ ইবনু শুবাহ এর কাতিব (সেক্রেটারী) ওয়াররাদকে বলতে শুনেছেন যে, (আমীর) মু'আবিয়াহ মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাযিঃ) এর কাছে পত্র লিখলেনঃ তুমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছ এমন কিছু লিখে পাঠাও। ওয়াররাদ বর্ণনা করেনঃ এ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মুগীরাহ ইবনু শুবাহ তাকে লিখে জানালেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি সালাত শেষে (এ দু'আটি) বলতেন, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আল্ল-হুম্মা লামা-নি’আ লিমা- আ ত্বয়তা ওয়ালা- মুত্বিয়া লিমা- মানা'তা ওয়ালা- ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও শরীকবিহীন। সার্বভৌম ক্ষমতা তার জন্য নির্দিষ্ট। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! তুমি যা দিতে চাও তাতে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই। আর যা দিতে না চাও তার দেবার শক্তিও কারো নেই। আর কোন সম্পদশালীর সম্পদ তোমার নিকট থেকে রক্ষা করতে পারে না।)। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৮, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আবুয যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ 'আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতেনঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, লা-হাওলা ওয়ালা- কুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়ালা- না'বুদু ইল্লা- ঈয়্যা-হু লাহুন নি'মাতু ওয়ালাহুল ফাযলু ওয়ালাহুস্ সানা-উল হাসানু লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা ওয়ালাও কারিহাল কাফিরূন” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি একক ও শরীকবিহীন। তিনিই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন আশ্রয় এবং শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করি না যদিও কাফিরদের তা পছন্দ নয়।)। আর তিনি (ইবনুয যুবায়র) বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পরে কথাগুলো বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১২১৯, ইসলামীক সেন্টার)