আবূ খাইসামাহ্ যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না আনাযী (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির কিছু অর্থ সম্পদ রয়েছে, আর সে এ সম্পর্কে ওয়াসিয়্যাত করতে চায়, সে মুসলিম ব্যক্তির উচিত হবে না ওয়াসিয়্যাত লিখে না রেখে দুটি রাতও অতিবাহিত করা। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৫৮, ইসলামিক সেন্টার ৬ষ্ঠ খণ্ড)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও ইবনু নুমায়র (রহঃ) উবাইদুল্লাহ থেকে উক্ত সানাদে বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসে আছে, তারা উভয়ে বলেছেন, তার কাছে ওয়াসিয়্যাত করার মত কিছু আছে। তারা এ কথা বলেননি যে, সে ওয়াসিয়্যাত করার ইচ্ছা করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কামিল জাহদারী (রহঃ) আরো বিভিন্ন সূত্রে ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উবাইদুল্লাহ বর্ণিত হাদীসের অনরূপ বর্ণনা করেন। আর তারা সবাই এভাবে বলেছেন যে তার কাছে এমন সম্পদ আছে, যাতে সে ওয়াসিয়্যাত করতে পারে। কিন্তু আইয়ূব (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, সে তাতে ওয়াসিয়্যাত করতে চায়। উবাইদুল্লাহ থেকে ইয়াহইয়ার বর্ণনার মতই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৬০, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4207 — Sahih Muslim 25:4
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - وَهْوَ ابْنُ الْحَارِثِ - عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ يَبِيتُ ثَلاَثَ لَيَالٍ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ عِنْدَهُ مَكْتُوبَةٌ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَا مَرَّتْ عَلَىَّ لَيْلَةٌ مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَلِكَ إِلاَّ وَعِنْدِي وَصِيَّتِي .
হারূন ইবনু মা’রূফ (রহঃ) ..... সলিম (রহঃ) এর সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্যে সঙ্গত নয়, তার কাছে ওয়াসিয়্যাত করার মতো সম্পদ আছে এমতাবস্থায় ওয়াসিয়্যাত লিখিত না রেখে তিন রাত অতিবাহিত করা। 'আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ কথা শোনার পর এক রাতও আমার উপর পার হয়নি যে, আমার ওয়াসিয়্যাত আমার কাছে ছিল না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৬১, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া তামীমী (রহঃ) ...... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন; এমন রোগের সময় যাতে আমি মৃত্যুর কাছাকাছি হয়ে পড়েছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! রোগের কারণে আমার কী অবস্থা হয়েছে, আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন? আমি একজন সম্পদশালী ব্যক্তি, অথচ একটি মাত্র কন্যা সন্তান ব্যতীত আমার আর কোন ওয়ারিস নেই। সুতরাং আমি আমার সম্পদের দু-তৃতীয়াংশ দান করতে পারব কি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক মাল সদাকাহ করতে পারব? তিনি বললেন, না। বরং এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশও বেশি হয়ে যায়। তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া তোমার জন্যে উত্তম, এমন অভাবগ্রস্ত অবস্থায় ছেড়ে সাওয়ার চেয়ে যে, তারা মানুষের নিকট হাত পাতবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে তুমি যা কিছুই খরচ কর তার উপর তোমাকে প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি, সে লোকমাটির বদৌলতেও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো আমার সাথীদের পর তাদের পিছনে রয়ে যাচ্ছি। তিনি বললেন, তুমি পেছনে রয়ে গেছো (জীবিত রয়ে গেছো), তাতে তুমি এমন আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পার যাতে তোমার মর্যাদা বাড়বে ও উচু হবে। আর সম্ভবত তুমি পরবর্তীতেও থাকবে অর্থাৎ দীর্ঘায়ু লাভ করবে। এমনকি বহু সম্প্রদায় তোমার দ্বারা লাভবান হবে এবং বহু লোক তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (নবীজী দুআ করলেন) ইয়া আল্লাহ! আমার সাথীদের হিজরাত অক্ষুণ্ণ রাখুন এবং তাদেরকে পশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু সা'দ ইবনু খাওলার জন্যে আফসোস! বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। কারণ, তিনি মাক্কায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবূ তাহির, হারমালাহ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবদ হুমায়দ (রহঃ) ..... সহ সকলেই যুহরীর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 4211 — Sahih Muslim 25:8
وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ، إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ يَعُودُنِي . فَذَكَرَ بِمَعْنَى حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ وَكَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَمُوتَ بِالأَرْضِ الَّتِي هَاجَرَ مِنْهَا .
ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ...... সা'দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার রোগের খোজ-খবর নেয়ার জন্যে আমার নিকট আগমন করেন। তারপর যুহরীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন এবং সা'দ ইবনু খাওলার প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তির উল্লেখ নেই। তবে এতে এ কথা রয়েছে, কোন ব্যক্তি যেখান থেকে হিজরাত করেছে তথায় মৃত্যুবরণ করুক, এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পছন্দ করেন না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা'দ (রহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সংবাদ প্রেরণ করি। (তিনি আসলেন) আমি বললাম, আমার সম্পত্তি যে পরিমাণ ইচ্ছা বণ্টন করার অনুমতি দিন। তিনি সম্মতি জানালেন না। আমি বললাম, তা হলে অর্ধেক? তিনি তাও স্বীকার করলেন না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? রাবী বলেন, একতৃতীয়াংশ বলার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকেন। রাবী বলেন, এরপর থেকে এক তৃতীয়াংশ জায়িয হয়ে যায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... সিমাক (রহঃ) এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি "এরপর থেকে এক তৃতীয়াংশ বৈধ হয়ে যায়" কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪০৬৭, ইসলামিক সেন্টার)