উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ....... উমারা ইবনুল ক্বা-ক্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। এ সূত্রেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রে "আলকামাহ ইবনু উলাসার নাম উল্লেখ আছে, আমির ইবনু তুফায়লের নাম উল্লেখ নেই। এ বর্ণনায় "স্ফীত কপাল' উল্লেখ আছে এবং 'নাশিযু' শব্দের উল্লেখ নেই। এতে আরো আছে, উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) তার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তার ঘাড়ে আঘাত হানব না? তিনি বললেন, না। তিনি আরো বললেন, অচিরেই এদের বংশ থেকে এমন একটি দলের আবির্ভাব হবে যারা সুমিষ্ট সুরে সহজে কুরআন পাঠ করবে। উমার (রাযিঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, আমি যদি তাদের সাক্ষাৎ পেতাম তাহলে সামূদ জাতির মতো হত্যা করতাম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২১, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ সালামাহ্ ও আতা ইবনু ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা উভয়ে আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হারুরিয়াহ (খারিজী জাতি) সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে শুনেছেন? তিনি বলেন, ‘হারুরিয়াহ কে তা আমি জানি না, তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “এ উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে (কিন্তু তিনি তখনকার উম্মাতকে নির্দিষ্ট করে বলেননি) যাদের সালাতের তুলনায় তোমরা নিজেদের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায)কে নিম্নমানের মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, অথচ এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে- তীর ছুড়লে যেভাবে বেরিয়ে যায়। অতঃপর শিকারী তার ধনুক, তীরের ফলা এবং এর পালকের দিকে লক্ষ্য করে। সে এর লক্ষ্য বস্তুর দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করে চিন্তা করে তীরের কোন অংশ রক্তে রঞ্জিত হয়েছে কিনা (অর্থাৎ তাদের মধ্যে ইসলামের নামগন্ধ এবং সামান্যতম চিহ্নও থাকবে না)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৩, ইসলামীক সেন্টার)
–(১৪৮/...) আবূ ত্বহির, হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান আল ফিহরী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম এবং তিনি কিছু জিনিস বণ্টন করছিলেন। এমন সময় বানী তামীম গোত্রের যুল-খুওয়াই সিরাও নামক এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! ইনসাফ করুন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হতভাগ্য, তোমার জন্য আফসোস! আমি যদি ইনসাফ না করি, তাহলে কে ইনসাফ করবে? আমি যদি ইনসাফ না করি তাহলে তুমি তো ক্ষতিগ্রস্ত ও বিফল হয়ে যাবে। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে তার শিরোশ্ছেদ করার অনুমতি দিন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও, কেননা তার এমন কিছু সঙ্গী সাথি রয়েছে যাদের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) সিয়ামের তুলনায় তোমাদের সালাত (সালাত/নামাজ/নামায) সিয়াম (রোজা/রোযা) নিম্নমানের বলে মনে হয়। তারা কুরআন পাঠ করবে অথচ তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তীর যেভাবে শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তারাও সেভাবে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে। অতঃপর সে (ধনুকধারী) তীরের ফলার মূলভাগ পরীক্ষা করে দেখে। এতেও সে কিছুই দেখতে পায় না, তারপর সে তীর পরীক্ষা করে দেখে এতেও সে দেখে না। অবশেষে সে তীরের পালক পরীক্ষা করে দেখে এতেও সে কিছু পায় না, তীর এত দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যায় যে, রক্ত বা মলের দাগ এতে লাগতে পারে না। এ সম্প্রদায়কে চেনার উপায় হলো, এদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে যার এক বাহুতে মহিলাদের স্তনের ন্যায় একটি অতিরিক্ত মাংসপেশী থাকবে এবং তা থলথল করতে থাকবে। এদের আবির্ভাব এমন সময় হবে যখন মানুষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেবে। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এ কথা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছি এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী ইবনু আবূ তলিব (রাযিঃ) তাদের সাথে যখন যুদ্ধ করেছিলেন, আমি স্বয়ং তার সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি উল্লেখিত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে আনার জন্য নির্দেশ দিলেন। তাকে খুঁজে পাওয়া গেল এবং ‘আলীর সামনে উপস্থিত করা হলো। আমি তাকে প্রত্যক্ষ করে দেখলাম তার মধ্যে সব চিহ্ন ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে যা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্বন্ধে বলেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৪, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করলেন যারা তার কওমের মধ্যে আবির্ভাব হবে। সমাজে যখন বিভেদ বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে এ সময় আত্মপ্রকাশ করবে। আর তাদেরকে চিনার উপায় হলো- তারা নেড়া মাথা বিশিষ্ট হবে। তিনি আরো বলেছেন, এরা হবে নিকৃষ্টতম সৃষ্টির নিকৃষ্ট লোক তাদেরকে দু' দলের মধ্যে এমন দলটি হত্যা করবে যারা হবে হকের নিকটতর। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য একটি উদাহরণ অথবা একটি কথা বলেন। তা হলো- কোন ব্যক্তি শিকারের দিকে অথবা লক্ষ্যবস্তুর দিকে তীর নিক্ষেপ করল। অতঃপর সে তীরের ফলার দিকে লক্ষ্য করল। কিন্তু কোন চিহ্ন দেখতে পায় না, সে তীরের দিকে তাকিয়ে দেখে- তাতেও কোন চিহ্ন দেখতে পায় না। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, হে ইরাকের অধিবাসীগণ! তোমরাই তাদেরকে আলী (রাযিঃ) এর সাথে মিলে হত্যা করেছো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৫, ইসলামীক সেন্টার)
শায়বান ইবনু ফাররুখ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন মুসলিমের মধ্যে কলহ ও মতভেদ সৃষ্টি হবে তখন একদল লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং এ দু' দলের মধ্যে যেটি হকের অধিকতর নিকটবর্তী হবে সেটিই ঐ সম্প্রদায়কে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৬, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ রবী' আয যাহরানী ও কুতায়বাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মত দু'দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে দলটি হকের অধিকতর নিকটবর্তী হবে সেটিই ঐ সম্প্রদায়কে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৭, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2460 — Sahih Muslim 12:197
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي، سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَمْرُقُ مَارِقَةٌ فِي فُرْقَةٍ مِنَ النَّاسِ فَيَلِي قَتْلَهُمْ أَوْلَى الطَّائِفَتَيْنِ بِالْحَقِّ " .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকদের মাঝে যখন কলহ ও বিবাদের সৃষ্টি হবে তখন একদল লোক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর মধ্যে যে দলটি হকের অধিক নিকটতর হবে সেটিই অপরটিকে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৮, ইসলামীক সেন্টার)
উবায়দুল্লাহ আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) অপর এক হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেনঃ যখন বিভিন্ন প্রকার কলহের আবির্ভাব হবে তখন একটি দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং দু'দলের মধ্যে যেটি সত্যের অধিক নিকটতর সেটি তাদেরকে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩২৯, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ... সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আলী (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি কোন কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে বানিয়ে বলার চেয়ে- আমার আকাশ থেকে পড়ে যাওয়াকে শ্রেয় মনে করি। আর যখন আমি আমার ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপার নিয়ে কথা বলি তখন মনে রাখবে যে, যুদ্ধে কৌশল ও চাতুরতার আশ্রয় নেয়া বৈধ। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনিঃ সে যুগে (অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে) এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা অল্প বয়স্ক ও স্বল্প বুদ্ধি-সম্পন্ন হবে। তারা সৃষ্টি জগতের চেয়ে ভাল ভাল কথা বলবে, তারা কুরআন মাজীদ পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের গলার নীচে যাবে না। তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারাও অনুরূপভাবে বেরিয়ে যাবে। অতএব, তোমরা তাদের সাথে মুখোমুখী হলে তাদের হত্যা করে ফেলবে। কেননা তাদেরকে যারা হত্যা করবে তারা কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সাওয়াব পাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩৩০, ইসলামীক সেন্টার)