মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বাযী (রহঃ) ...... সুহায়ল ইবনু আবূ সালিহ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি عَقْصَاءُ এর স্থলে عَضْبَاءُ বলেছেন এবং ললাটে দাগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা ছাড়া কেবল “পার্শ্ব এবং পার্শ্ব দাগ দেয়া হবে” কথাটি উল্লেখ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৩, ইসলামীক সেন্টার)
হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "যখন কোন ব্যক্তি তার আল্লাহর হাক (হক) অথবা তার উটের সদাকাহ (যাকাত) আদায় করবেন না ..." অবশিষ্ট বর্ণনা সুহায়ল থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২১৬৪, ইসলামীক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ উটের যে কোন মালিক তার হক (যাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন সে উপস্থিত হবে এবং উটগুলোও কয়েকগুণ বড় হয়ে আসবে। অতঃপর তাকে এক সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলা হবে। এসব পশু নিজ নিজ পা ও খুর দিয়ে তাকে পদদলিত করতে থাকবে। আর যে সব গরুর মালিক এর হক (যাকাত) আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন ঐ গরুগুলো অনেক মোটা তাজা হয়ে আসবে। তাকে এক সমতল মাঠে ফেলে এগুলো তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে এবং পা দিয়ে মাড়াবে। আর যে সব ছাগলের মালিক এর হাক (হক) আদায় করবে না কিয়ামতের দিন এগুলো অনেক অনেকগুণ বড় দেহ নিয়ে এসে তাকে এক সমতল ময়দানে ফেলে শিং মারতে থাকবে এবং পা দিয়ে মারতে থাকবে আর এগুলোর কোন একটিও শিংহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। যে সব ধনাগারের মালিক এর হক আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তার গচ্ছিত সম্পদ একটি টাক মাথার বিষধর অজগর সাপ হয়ে মুখ হা করে তার পিছু ধাওয়া করবে। মালিক পালাবার জন্য দৌড়াতে থাকবে আর পিছন থেকে ঐ সাপ তাকে ডেকে ডেকে বলতে থাকবে তোমার গচ্ছিত সম্পদ নিয়ে যাও। কারণ এগুলো আমার প্রয়োজন নেই। অতঃপর যখন সে (মালিক) দেখবে এ সাপ তাকে ছাড়ছে না, তখন সে এর মুখে নিজের হাত ঢুকিয়ে দিবে। সাপ তার হাত উটের মত চিবাতে থাকবে। যুবায়র (রাযিঃ) বলেন, আমি উবায়দুল্লাহ ইবনু উমায়রকেও এই একই কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও উবায়দ বিন উমায়রের অনুরূপ কথা বললেন। আবূ যুবায়র বলেন, আমি উবায়দ ইবনু উমায়রকে বলতে শুনেছি- এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, 'হে আল্লাহর রসূল! উটের হাক (হক) কী? তিনি বললেনঃ পানির কাছে বসে দুধ দোহন করা, তার পানির বালতি ধার দেয়া, আর প্রয়োজনের জন্য উট চাইলে তাও ধার দেয়া, এর বীর্য (বীজ) দেয়া এবং আল্লাহর পথে এর পিঠে অপর লোকদেরকে (জিহাদের জন্য) আরোহণ করতে দেয়া। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৫, ইসলামীক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ বলেছেনঃ যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর হক (হক) আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তাকে এক সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে; অতঃপর খুর বিশিষ্ট জন্তু তাকে খুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিং বিশিষ্ট জন্তু তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে। আর সে দিন এর কোন একটি জন্তুই শিং বিহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। আমরা (সাহাবীগণ) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এদের হাক (হক) কী? তিনি বললেন এদের নরগুলো (মাদীগুলোর জন্য) বীর্য গ্রহণের জন্য দেয়া, পানি পানের জন্য বালতি চাইলে দেয়া, দুধ পান করতে চাইলে পান করানো, পানি পান করার সময় দুধ দোহন করা এবং গরীব মিসকীনকে দেয়া, আর আল্লাহর পথে পিঠে অপরকে আরোহণ করানো এবং যোদ্ধা বহনের জন্য চাইলে দেয়া। আর যে সব সম্পদের মালিক তার মালের যাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার এ মাল সম্পদকে একটি টাক পড়া বিষধর অজগর সাপে রূপান্তরিত করা হবে এবং সে তার মালিকের পিছু ধাওয়া করবে। মালিক পালানোর উদ্দেশে যেখানে যাবে এটাও সেখানে গিয়ে উপস্থিত হবে। তাকে বলা হবে, এ হলো তোমার সে সম্পদ যাতে তুমি কৃপণতার আশ্রয় নিয়েছিলে এবং যাকাত দেয়া থেকে বিরত ছিলে। অতঃপর যখন সে দেখবে যে সাপের কবল থেকে আর পালানোর কোন উপায় নেই তখন সে তার (সাপের) মুখে হাত ঢুকিয়ে দিবে এবং সাপ তার হাত উটের মত চিবাতে থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৬, ইসলামীক সেন্টার)
হাদিস 2298 — Sahih Muslim 12:35
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هِلاَلٍ الْعَبْسِيُّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُصَدِّقِينَ يَأْتُونَنَا فَيَظْلِمُونَنَا . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ارْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ " . قَالَ جَرِيرٌ مَا صَدَرَ عَنِّي مُصَدِّقٌ مُنْذُ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ وَهُوَ عَنِّي رَاضٍ .
আবূ কামিল ফুযায়ল ইবনু হুসায়ন আল জাহদারী (রহঃ) ..... জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন গ্রাম্য লোক এসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অভিযোগ করলেন যে, কোন কোন যাকাত আদায়কারী আমাদের কাছে গিয়ে আমাদের উপর যুলুম করে। (ভাল ভাল জন্তু ও মালামাল যাকাত হিসেবে নিয়ে আসে অথচ শারীআতের বিধানানুযায়ী মধ্যম ধরনের বস্তু যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত ) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা যাকাত আদায়কারীদেরকে সম্ভষ্ট করে দিবে (যদিও তারা কিছু বাড়াবাড়ি করে)"। জারীর (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এ কথা শুনার পর যখনই কোন যাকাত আদায়কারী আমার কাছে আসত আমি তাকে সন্তুষ্ট না করে ছাড়তাম না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৭, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ, মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও ইসহাক্ক (রহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইসমাঈল (রহঃ) তাঁরা সকলেই মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৮, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বার ছায়ায় বসা ছিলেন। এমন সময় আমি গিয়ে তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেনঃ কাবার প্রভুর শপথ। তারাই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি গিয়ে তার কাছে বসলাম কিন্তু অনতিবিলম্বে দাঁড়িয়ে বললাম, "হে আল্লাহর রসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, সে ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা কারা?” তিনি বলেনঃ এরা হলো সব ধনাঢ্য ব্যক্তি তবে তারা নয় যারা এদিকে ওদিকে সামনে থেকে, পিছন থেকে, ডান দিক থেকে ও বাম দিক থেকে অকাতরে (আল্লাহর পথে) খরচ করে। তবে সংখ্যায় এরা খুব কম। আর যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর যাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন উট, গরু, ছাগল মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট আসবে একং তাকে (মালিককে) ওদের পা ও খুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। এর শেষ পশুটি অতিক্রম করলে প্রথমটি পুনরায় এসে ঐরপ করতে আরম্ভ করবে। আর এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না বান্দাদের বিচার শেষ হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৬৯, ইসলামীক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ..... আবূ যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বাহ শরীফের ছায়ায় বসে ছিলেন। এমন সময় আমি তার কাছে গিয়ে হাজির হলাম। হাদীসটির বাকী অংশে বর্ণনাকারী ওয়াকী' এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তিনি বলেছেন "সে মহান প্রভুর শপথ যার হাতে আমার জীবন যেসব লোক উট, গরু ও ছাগল রেখে মারা যায় এবং যাকাত আদায় করেনি ....।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭০, ইসলামীক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু সাল্লাম আল জুমাহী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি উহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত হয় এবং তিন দিনের বেশী আমার কাছে এক দীনারও অবশিষ্ট থাকুক- এটা আমি চাই না। তবে আমার উপর যে ঋণ রয়েছে তা পরিশোধ করার পরিমাণ অর্থ আমার কাছে থাকুক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২১৭১, ইসলামীক সেন্টার)