(…/...) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... ইবনু ইসহাক (রহঃ) এর সানাদে এ সূত্রে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু পার্থক্য এটুকু যে, ইবনুল মুসান্না তার বর্ণিত হাদীসে الْعَفَافَ এর স্থলে الْعِفَّةَ (হারাম থেকে পবিত্রতা) শব্দ বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট তেমনই বলব যেমনটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেনঃ "আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল আজ্যি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুৱ্নি ওয়াল বুখ্লি ওয়াল হারামি ওয়া আযা-বিল কবরি, আল্ল-হুম্মা আ-তি নাফসী তাকওয়া-হা ওয়াযাক্কিহা- আনতা খইরু মান্ যাককা-হা আনতা ওয়ালী ইউহা- ওয়া মাওলা-হা-, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন ইলমিন লা- ইয়ান্ফা'উ ওয়ামিন কলবিনু লা- ইয়াখশাউ ওয়ামিন নাফসিন লা- তাশবাউ ওয়ামিন দা’ওয়াতিন লা- ইউসতাজা-বু লাহা-” অর্থাৎ- "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, বখিলতা, বার্ধক্যতা এবং কবরের শাস্তি থেকে। হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে পরহেযগারিতা দান করুন এবং একে সংশোধন করে দিন। আপনি একমাত্র সর্বোত্তম সংশোধনকারী এবং আপনিই একমাত্র তার মালিক ও আশ্রয়স্থল। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট পানাহ চাই এমন ইলম হতে যা কোন উপকারে আসবে না ও এমন অন্তঃকরণ থেকে যা আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না; এমন আত্মা থেকে যা কক্ষনও তৃপ্ত হয় না। আর এমন দু’আ থেকে যা কবুল হয় না।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ্ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সন্ধ্যা হত তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আম্সাইনা- ওয়া আম্সাল মুল্কু লিল্লা-হি ওয়াল হাম্দু লিল্লা-হি লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু”, অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও, প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, তিনি ছাড়া কোন মা’বুদ নেই। তিনি একক সত্তা, তার কোন শারীক নেই।” হাসান (রহঃ) বলেন, আমাকে যুবায়দ (রহঃ) হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি ইবরাহীম (রহঃ) হতে এ দু’আটি মুখস্থ করেছেনঃ “লাহুল মুল্কু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, আল্ল-হুম্মা আসআলুকা খইরা হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া আউযুবিকা মিন্ শাররি হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া শাররি মা-বাদাহা আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূয়িল কিবারি, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযা-বিন ফিন্না-রি ওয়া আযা-বিন ফিল কবরি।” অর্থাৎ, “রাজত্ব তার মালিকানাধীন, সকল প্রশংসা তারই, তিনিই সকল কিছুর উপর ক্ষমতবান। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এ রাতের কল্যাণ প্রত্যাশা করি এবং আশ্রয় চাই এ রাতের খারাবী হতে এবং এর পরবর্তী রাতের অনিষ্ট থেকেও। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা থেকে ও অহংকারের খারাবী থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি থেকে এবং কবরের শাস্তি থেকে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
উসমান ইবনু আবু শাইবাহ (রহঃ) ..... ‘আবদুল্লাহ (রায়িঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সন্ধ্যা হয়ে যেত সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “আম্সাইনা- ওয়া আমসাল মুল্কু লিল্লা-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু”, অর্থাৎ- “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজ্যও সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে। আল্লাহর জন্যই সকল কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বুদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তার কোন অংশীদার নেই।” রাবী বলেন যে, তিনি তার দু’আর মধ্যে বলেছেন, "লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হাম্দু ওয়াহুয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর, রব্বি আস্আলুকা খইরা মা- ফী হা-যিহিল লাইলাতি ওয়া খইরা মা- বাদাহা- ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি মা- ফী হাযিহিল লাইলাতি ওয়া শাররি মা- বাদাহা- রব্বি আউযুবিকা মিনাল কাসালি ওয়া সুয়িল কিবারি রব্বি আউযুবিকা মিন আযা-বিন ফিন্না-রি ওয়া আযা-বিন ফিল কবরি”, অর্থাৎ- “রাজত্ব তারই, প্রশংসা তারই এবং তিনিই সব বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান। হে আমার রব! আমি আপনার নিকট কল্যাণ চাই এ রাতের এবং পরবর্তী রাতেরও। আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এ রাত্রের খারাবী হতে এবং এর পরবর্তী রাতের খারাবী হতেও। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা, অহঙ্কারের অশুভ পরিণতি থেকে। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি হতে।" আর যখন ভোর হতো, তিনি বলতেনঃ “আসবাহনা- ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লা-হি", অর্থাৎ “আমরা ভোরে পৌছেছি এবং আল্লাহর রাজ্যও ভোরে পৌছেছে।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৬০, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু আ ‘আযযা জুন্দাহু ওয়া নাসারা ‘আবদাহু ওয়া গলাবাল আহযাবা ওয়াহদাহু ফালা- শাইয়া বাদাহু", অর্থাৎ- "আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা’বূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তিনি তার সৈনিকদের সম্মান দিয়েছেন এবং তার বান্দাকে সহযোগিতা করেছেন। আর তিনি একাই অসংখ্য কাফির বাহিনীর উপর বিজয়ী হয়েছেন। এরপরে আর কোন কিছু নেই।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৬২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ কুরায়ব, মুহাম্মাদ ইবনুল আলী (রহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ তুমি বলো- "আল্ল-হুম্মাহ্দিনী ওয়া সাদ্দিদ্নী ওয়ায্কুর বিলহুদা হিদা-ইয়াতাকাত তারীকা ওয়াস্ সাদা-দি সাদা-দাস্ সাহ্ম", অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন, আমাকে সোজা পথে পরিচালিত করুন।" তিনি আমাকে আরও বলেছেন, “আপনার হিদায়াতকে সঠিক পথের মাধ্যমে এবং তীর সোজা করাকে সরলতার মাধ্যমে স্মরণ করুন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6912 — Sahih Muslim 48:105
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ إِدْرِيسَ - أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالسَّدَادَ " . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِهِ .
(…/...) ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... আসিম ইবনু কুলায়ব (রাযিঃ) এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ রকম বলতে বলেছেনঃ “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল হুদা ওয়াস্ সাদা-দ", অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হিদায়াত ও সরলপথ প্রার্থনা করছি।" অতঃপর তিনি তার মতই হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আমর আন্ নাকিদ, ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ..... জুওয়াইরিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরবেলা ফজরের সালাত আদায় করে তার নিকট থেকে বের হলেন। ঐ সময় তিনি সালাতের স্থানে বসাছিলেন। এরপর তিনি চাশতের পরে ফিরে আসলেন। এমতাবস্থায়ও তিনি উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে যে অবস্থায় ছেড়ে গিয়েছিলাম তুমি সে অবস্থায়ই আছ। তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমার নিকট হতে রওনার পর চারটি কালিমাহ তিনবার পড়েছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা বলেছ তার সাথে ওযন করা হলে এ কালিমাহ চারটির ওযনই ভারী হবে। কালিমাগুলো এই— “সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াবি হামদিহি আদাদা খল্কিহি ওয়া রিযা- নাফসিহি ওয়াযিনাতা আরশিহি ওয়ামি দা-দা কালিমা-তিহি", অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির পরিমণ, তার আরশের ওযন পরিমাণ ও তার কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৬৫, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, আবু কুরায়ব ও ইসহাক (রহঃ) ..... জুওয়াইরিয়াহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের সালাতের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন অথবা ফজরের সালাতের পরে সকালে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন। তারপর রাবী তার হুবহু হাদীস বর্ণনা করেন। কিন্তু তাতে পার্থক্য শুধু এই যে, তিনি বলেছেন, “সুবহা-নাল্লা-হি আদাদা খলকিহি সুবহা-নাল্ল-হি রিযা- নাফসিহি সুবহা-নাল্ল-হি যিনাতা আরশিহি সুবহা-নাল্ল-হি মিদা-দা কালিমা-তিহি", অর্থাৎ- “আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার অসংখ্য মাখলুকের পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমান, তার আরশের ওযন পরিমাণ এবং তার কালিমাসমূহের সংখ্যার সমান।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬৬৬, ইসলামিক সেন্টার)