(…/...) সুলাইমান (রহঃ) রাবী’ ইবনু খুসায়ম (রহঃ) এর সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাবী’কে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার কাছ হতে তা শুনেছেন? তিনি বললেন, “আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) হতে। তিনি বলেন, তখন আমি আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) এর নিকট গেলাম এবং বললাম, আপনি কার কাছ হতে শুনেছেন? তিনি বলেন, (শাবী বলেন) অতঃপর আমি ইবনু লাইলার কাছে গিয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কার থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, আবু আইয়্যুব আল আনসারী (রাযিঃ) হতে, তিনি প্রত্যক্ষভাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০০, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনু তারীফ আল বাজালী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন দু’টি কালিমাহ জিহ্বার উপর (উচ্চারণে) খুবই হালকা, মীযানের পাল্লায় খুবই ভারী, রহমান (পরম দয়ালু আল্লাহ) এর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। তা হলো "সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবি হামদিহী সুবহা-নাল্ল-হিল আযীম", অর্থাৎ আমি আল্লাহ তা’আলার সমস্ত প্রশংসা, পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, আমি মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০১, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি বলি- "সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি ওয়ালাইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার"। অর্থাৎ- "আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আল্লাহ ভিন্ন কোন মা’বূদ নেই, আল্লাহ মহান" পড়া আমার নিকট বেশি প্রিয়- সে সব বিষয়ের চেয়ে, যার উপর সূর্য উদিত হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০২, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা’দ (রাযিঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জনৈক গ্রাম্য লোক এসে বলল, আমাকে একটি কালাম শিক্ষা দিন, যা আমি নিয়মিত পাঠ করব। তিনি বললেন, তুমি বলো "লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু আল্ল-হু আকবার কাবীরা ওয়াল হামদু লিল্লা-হি কাসীরা সুবহানাল্লা-হি রব্বিল আ-লামীনা লা- হাওলা ওয়ালা- কুত্ত্বওয়াতা ইল্লা-বিল্লা-হিল আযীযিল হাকীম"। অর্থাৎ- "আল্লাহ ভিন্ন কোন মা’বূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তার কোন অংশীদার নেই, আল্লাহ মহান, সবচেয়ে মহান, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ভাল কাজ করার এবং খারাপ কাজ হতে বিরত থাকার সাধ্য কারো নেই।" সে বলল, এসব তো আমার রবের জন্য। আমার জন্যে কি? তিনি বললেন, বলো, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন। মূসা (রহঃ) বলেন, (আমার মনে হয়) তিনি عَافِنِي (আ-ফিনী) "আমাকে মাফ করুন" কথাটি বলেছেন। তবে আমি তাতে সংশয় আছি এবং আমি জানি না। আর ইবনু আবু শাইবাহ (রহঃ) তার হাদীসে মূসার উক্তি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০৩, ইসলামিক সেন্টার)
হাদিস 6849 — Sahih Muslim 48:44
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، - يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ - حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُ مَنْ أَسْلَمَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي " .
আবূ কামিল আল জাহদারী (রহঃ) ..... আবু মালিক আল আশজাঈ (রহঃ) তার পিতার সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন লোক ইসলাম কবুল করলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এ দু’আ বলতে শিখিয়ে দিতেন, “আল্লা-হুম্মাগ ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহ্দিনী ওয়ারযুকনী”। অর্থাৎ- হে আল্লাহ। আপনি আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০৪, ইসলামিক সেন্টার)
সাঈদ ইবনু আযহার আল ওয়াসিতী (রহঃ) ..... আবু মালিক আল আশজাঈ এর পিতার সানাদে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রথমে সালাত আদায়ের শিক্ষা দিতেন। তারপর তিনি তাকে এ কালিমাসমূহ পাঠ করার নির্দেশ দিতেন, "আল্লা-হুম্মাগ ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াহ্দিনী ওয়া’আ-ফিনী ওয়ারযুকনী।" অর্থাৎ- "হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন এবং আমার জীবিকা উপকরণ দান করুন।" (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০৫, ইসলামিক সেন্টার)
যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... আবূ মালিক (রাযিঃ) এর পিতার সানাদে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন যে, তার নিকট এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি যখন আমার প্রতিপালকের নিকট দু’আ করব তখন কিভাবে তা প্রকাশ করব? তিনি বললেন, তুমি বলে, “আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী ওয়ারহামনী ওয়াআ-ফিনী ওয়ারযুকনী।” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে মাফ করে দিন এবং আমাকে জীবিকা দান করুন।” আর তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ছাড়া সব আঙ্গুল একত্র করে বললেন, এ শব্দগুলো তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাকে একসাথে করে দিবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০৬, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... মুসআব ইবনু সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা (সা'দ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (বসা) ছিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকাদের মধ্য থেকে এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করল, আমাদের কেউ কিভাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে? তিনি বললেন, সে একশ’ তাসবীহ (সুবহানাল্লা-হ) পাঠ করলে তার জন্যে এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে এবং তার (আমলনামা) হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আত তামীমী, আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আল হামদানী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন ঈমানদারের দুনিয়া থেকে কোন মুসীবাত দূর করে দিবে, আল্লাহ তা’আলা বিচার দিবসে তার থেকে মুসীবাত সরিয়ে দিবেন। যে লোক কোন দুঃস্থ লোকের অভাব দূর করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে লোক কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাই এর সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করে আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন। যে লোক জ্ঞানার্জনের জন্য রাস্তায় বের হয়, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর গৃহসমূহের কোন একটি গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং একে অপরের সাথে মিলে (কুরআন) অধ্যয়নে লিপ্ত থাকে তখন তাদের উপর শান্তিধারা অবতীর্ণ হয়। রহমত তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তা’আলা তার নিকটবর্তীদের (ফেরেশতাগণের) মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন। আর যে লোককে আমলে পিছনে সরিয়ে দিবে তার বংশ (মর্যাদা) তাকে অগ্রসর করে দিবে না* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০৮, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ..... আবূ মু’আবিয়াহ্ (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল। তবে আবু উসামার হাদীসে "দুঃস্থ লোকের অভাব লাঘব করার" বর্ণনা নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৬০৯, ইসলামিক সেন্টার)